চট্টগ্রাম চেম্বারে এম এ লতিফ প্যানেলের ২৪ পরিচালক নির্বাচিত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বারে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে এম এ লতিফ প্যানেলের ২৪ পরিচালক। গতকাল মনোনয়নপত্রChamber-1 বাছাইয়ের দিনে একটি মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার প্রেক্ষিতে ২৪ পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া না হলেও আগামী ৫ মার্চ অনুষ্ঠাতব্য নির্বাচনে আর ভোট গ্রহণ হচ্ছে না। চট্টগ্রাম চেম্বারকে বিশ্বমানের চেম্বারে পরিণত করার লক্ষে বন্দর পতেঙ্গা আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এম এ লতিফের নেয়া নানা পদক্ষেপের ফলই এবারকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই নির্বাচন। চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকেই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েও শেষতক আর মাঠে নামেন নি। বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকজন ব্যবসায়ী প্যানেলের বাইরে মনোনয়নপত্র কিনলেও তারা তা জমা দেননি। শেষমহূর্তে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় চেম্বার নির্বাচনে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। এম এ লতিফের প্যানেল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আগামী দুই বছর চট্টগ্রামের ব্যবসা বাণিজ্যের নের্তৃত্ব দেবে। সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় সম্প্রতি। chamberতফসিল অনুযায়ী তিনটি ক্যাটাগারিতে ২৪ পরিচালক নির্বাচনের জন্য আগামী ৫ মার্চ চেম্বারের ভোট গ্রহণের কথা ছিল। গতকাল ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। একই সাথে বাছাইয়েরও নির্ধারিত দিন। চেম্বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এবার মোট ৩০ জন ব্যবসায়ী নেতা মনোনয়নপত্র কিনেন। এদের মধ্যে গতকাল শেষদিন পর্যন্ত সময়ে সর্বমোট ২৫ জন ব্যবসায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এদের মধ্যে দোকান মালিক সমিতির নেতা সাহাবুদ্দীন ডেকোরেটার্সের মালিক মোহাম্মদ সাহাবুদ্দীনের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশন বাতিল ঘোষণা করে। একটি মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার সাথে সাথে চট্টগ্রাম চেম্বারের ভোট গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়। ২৪ পরিচালক পদে চব্বিশ জন প্রার্থী থাকে। এই অবস্থায় বেসরকারিভাবে ২৪ পরিচালককেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। এই ২৪ পরিচালকই বন্দর পতেঙ্গা আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এম এ লতিফ সমর্থিত প্যানেলের সদস্য। এতে করে এম এ লতিফ প্যানেল চট্টগ্রাম চেম্বারে নিরঙ্কুশ ভাবে নির্বাচিত হয়। চট্টগ্রাম চেম্বারের সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর মধ্যে এবার একেবারে ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেছে। চট্টগ্রাম চেম্বারের অতীতের বেশ কয়েকটি নির্বাচনে দুইটি প্যানেল লড়াইতে অবতীর্ণ হতো। ২৪ পরিচালক পদের বিপরীতে পঞ্চশ জন প্রার্থী মাঠে নামার রেকর্ডও রয়েছে। নির্বাচন নিয়ে মামলা মোকর্দমা এবং নানা ধরনের অঘটন ঘটেছে। কিন্তু এবারকার নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা অতীতের যে কোন নির্বাচন থেকে কমে গেছে। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামের একাধিক ব্যবসায়ী নেতা গতকাল নিউজগার্ডেন২৪ডটকমকে বলেছেন, চট্টগ্রাম চেম্বার আর আগের অবস্থায় নেই। বিশ্বমানের একটি চেম্বারের মর্যাদায় চট্টগ্রাম চেম্বার আসীন হয়েছে। উপমহাদেশের সবচেয়ে ধণাঢ্য এবং সমৃদ্ধ চেম্বারের তালিকায়ও এই চেম্বার নিজের নাম লিখাতে সক্ষম হয়েছে। আর চট্টগ্রাম চেম্বারের এসব অর্জনের পেছনে সবচেয়ে জোরালো এবং সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বন্দর পতেঙ্গা আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এম এ লতিফ এমপি। চট্টগ্রাম চেম্বারই দেশে প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নির্মাণ করে। ঢাকায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নির্মাণের জন্য বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাইনবোর্ড ঝুললেও এম এ লতিফ এমপির নের্তৃত্বে চট্টগ্রাম চেম্বার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নির্মাণ সম্পন্ন করেন। আগামী মাসেই প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সময় পেলে ওয়াল্ড্র্ ট্রেড সেন্টার উদ্বোধন করা হবে। দুইশ’ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার চট্টগ্রাম চেম্বারকে বিশ্বমানের একটি চেম্বারে পরিণত করেছে। চট্টগ্রাম চেম্বারকে কেবল ধর্নাঢ্য ব্যবসায়ীদেরই নয়, চট্টগ্রামের আপামর ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ক্ষেত্রে এম এ লতিফ এমপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে উল্লেখ করে তারা বলেন, এম এ লতিফ এমপি কেবল ব্যবসায়ীদের নেতাই নন, উনাকে মরুব্বী মনে করে অন্য কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেননি। চট্টগ্রাম চেম্বার ইতোমধ্যে একশ’ বছর পূর্তির জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানমালা শুরু করেছে। রাঙামাটিতে পর্যটন কনভেনশনের মাধ্যমে বৃহত্তর চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপনের পাশাপাশি চট্টগ্রামের এক হাজার বছরের ব্যবসা বাণিজ্যের নানা চালচিত্র তুলে ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার একশ’ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানমালা সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। আরো নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে চট্টগ্রাম চেম্বার আজ দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ চেম্বারে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করে ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন, এই অবস্থায় চেম্বারের উন্নয়ন তথা চট্টগ্রামের ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এম এ লতিফ প্যানেলকে নিরুঙ্কুশ সমর্থন জানানো হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, চেম্বার নির্বাচনে কয়েকজন ব্যবসায়ী প্যানেল দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে উক্ত ব্যবসায়ী দলটি চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদদের সাথে দেখা সাক্ষাৎও করেছিলেন। কিন্তু এম এ লতিফ প্যানেলের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে কেউ সম্মত না হওয়ায় দ্বিতীয় প্যানেলের মাঠে নামা হয়নি। চট্টগ্রাম চেম্বারের ২৪ পরিচালকের মধ্যে অর্ডিনারী গ্র“প থেকে ১২ জন, এসোসিয়েটস গ্র“প থেকে ৬ জন, টাউন এসোসিয়েশন থেকে ৩ জন এবং ট্রেড গ্র“প থেকে ৩ জন নির্বাচিত হন। গতকাল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিনে উক্ত তিন ক্যাটাগরিতে ২৪ জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছে। অর্ডিনারি গ্র“পের ১২ জন পরিচালক হচ্ছেন এ কে এম আকতার হোসাইন, আলহাজ্ব নুরুন নেওয়াজ সেলিম, অঞ্জন শেখর দাশ, এম এ মোতালেব, মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর, মাজহারুল হক চৌধুরী, আনোয়ার শওকত আফসার, মোহাম্মদ আরিফ ইফতেখার, মোহাম্মদ দিদারুল আলম, মোহাম্মদ রকিবুর রহমান, মোহাম্মদ জাহেদুল হক এবং সারোয়ার হাসান জামিল, এসোসিয়েট ক্লাশে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ছয় পরিচালক হচ্ছেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, মাহবুবুল আলম, মাহফুজুল হক শাহ, অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন এবং এস এম সামশুদ্দীন, টাউন এসোসিয়েশন গ্র“পে হাবিব মহিউদ্দন, মোহাম্মদ হাবিবুল হক এবং জহুরুল আলম, ট্রেড এসোসিয়েশন গ্র“প থেকে কামাল মোস্তফা চৌধুরী, মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন চৌধুরী এবং সৈয়দ জামাল আহমেদ বেসরকারি ভাবে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: