চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের ২ গ্রুপে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৩

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩১ জুলাই, রবিবার: চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংর্ঘষ হয়েছে। এতে এক ছাত্রলীগ নেতাসহ ৩ জন আহত হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১২টার থেকে দেড়টার মধ্যে এ সংর্ঘষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।ctg
আহতদের মধ্যে দুইজনের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন-কলেজের ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুর করিম ও চট্টগ্রাম কলেজের এইচএসসির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইলিয়াস সরকার। ককটেল বিস্ফোরণে তারা আহত হয়েছেন বলে জানাগেছে।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, রোববার চট্টগ্রাম কলেজে অধিপত্য বিস্তার নিয়ে চকবাজার এলাকার যুবলীগ সন্ত্রাসী টিনু গ্রুপের সাথে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজীম রণি গ্রুপের পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ সংর্ঘষ চলছে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে।
কলেজে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধের দাবি এবং ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর টিনু গ্রুপের হামলার প্রতিবাদে রনি গ্রুপ কলেজ এলাকায় মানববন্ধন পালন করতে গেলে অন্য পক্ষ বাধা দেয়। এতে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
টিনু গ্রুপের ছেলেরা রনি গ্রুপকে ধাওয়া দিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে পাঠিয়ে দেয় এবং বাইরে থেকে তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে জানান, রনি গ্রুপের কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুর করিম।
ঘটনাস্থল থেকে চকবাজার থানার ওসি আব্দুল আজিজ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। ওসি জানান, কলেজের ক্যাম্পাসে নয়, ক্যাম্পাসের বাইরে দুই দলের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ তিন কর্মীর নাম জীবন, বাপ্পী ও ইমাম। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া দুটি পক্ষের নেতৃত্বে আছেন নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি এবং যুবলীগ নেতা নুর মোস্তাফা টিনু। এ দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা চলছিল।
চমেক হাসপাতালের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পংকজ বড়ুয়া বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রণি ও টিনু গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে জীবন, বাপ্পী ও ইমাম নামের তিন কর্মী আহত হয়েছেন। জীবন ও বাপ্পীর পায়ে এবং ইমামের পিঠে গুলি লাগে।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিনু পক্ষের অনুসারী বলে পরিচিত বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার করতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। অন্যদিকে রণি পক্ষের নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিরোধ করে আসছেন। এই পক্ষের নেতাকর্মীরা কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
রোববারও টিনু পক্ষের নেতাকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে জড়ো হন। এসময় রনির পক্ষের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নেন। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
রনি পক্ষের অনুসারী ও চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম বলেন, ‘কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় বহিরাগতরা আজও (রোববার) আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা কলেজ ক্যাম্পাসে ভেতরে অবস্থান নিয়েছি। কিন্তু তারা যেখানেই পাচ্ছে সেখানেই আমাদের কর্মীদের ধরে ধরে মারধর করছে।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: