চট্টগ্রাম কর আইনজীবী সমিতির বাজেট প্রস্তাবনা-২০১৫

আলহাজ্ব মোহাম্মদ মুছা :Musa pic  জাতীয় বাজেট আগামী মাসে মহান জাতীয় সংসদে পেশ করতে যাচ্ছেন। বাজেটের প্রায় ৮০% রাজস্ব আহরণ করা হয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক। রাজস্ব বোর্ড কাস্টমস্ শুল্ক, মূসক ও আয়কর খাতে উক্ত রাজস্ব আহরণ করেন। শুল্ক ও মূসক পরোক্ষ কর। ইহা বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ব্যতিত একজন ভিক্ষুক থেকে শুরু করে দেশের সমস্ত জনগোষ্ঠী পরোক্ষা কর দিয়া থাকেন। কিন্তু আয়কর দেশের সকল জনগণ দেন না। প্রায় ১৫/ ১৬ লক্ষ লোক আয়কর প্রদান করিয়া থাকেন। দেশের আর্থ সামাজিক ও অবকাঠামোগত কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দারিদ্র বিমোচনের মাধ্যমে একটি আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। এজন্যে বিদেশী সাহায্য ও ঋণ নির্ভরতা হ্রাস করে অভ্যন্তরীন রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে আয়কর বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে দেশে কর সংস্কৃতির বিকাশ সাধন করতে হবে। আসন্ন জাতীয় প্রাক্ বাজেট ২০১৫ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা সমূহ পেশ করা হল- ব্যক্তি শ্রেণীর জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত বর্তমান আয় সীমা ২,২০,০০০/- টাকার স্থলে ২,৭৫,০০০/- টাকা অনুরূপভাবে মহিলা ও ৬৫ বছর বা তদউর্ধ্বে পুরুষের ক্ষেত্রে ২,৭৫,০০০/- টাকার স্থলে ৩,২৫,০০০/- টাকা ও প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে করমুক্ত ৩,৫০,০০/- টাকার স্থলে ৩,৭৫,০০০/- টাকা করার প্রস্তাব করছি। একই সাথে বৈষম্য নীতি পরিহার করে স্পট এসেসমেন্ট, জেলা, উপজেলা ও পৌরসভায় ন্যূনতম কর ৩০০০/- টাকার করার প্রস্তাব করছি। ইহাতে সরকারের অনেক রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।
২। যে সমস্ত নতুন করদাতা দেশপ্রেম ও সচেতন নাগরিক হিসাবে স্বপ্রণোদিত হয়ে ৮২ বিবি ধারায় আয়কর রিটার্ণ দাখিল পূর্বক আয়কর প্রদান করবেন তাদের ক্ষেত্রে ৮২ বিবি (৩) ধারায় অডিটের আওতামুক্ত রাখা এবং উক্ত নতুন করদাতাদের জন্য কমপক্ষে ৩ বছর পর্যন্ত অডিটের আওতাবহির্ভূত রাখার জন্য প্রস্তাব করছি। এতে সম্মানিত নতুন করদাতা কর প্রদানে উৎসাহিত হবে ও সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। সম্মানিত পুরাতন করদাতাদের ক্ষেত্রে পূববর্তী বৎসর অপেক্ষা মোট আয়ের ২০% বেশী আয় প্রদর্শন করিলে এবং নিম্নহারের আয় প্রদর্শন করা থাকলে ও নি:শর্তভাবে অডিট থেকে অব্যাহতি প্রদান করার প্রস্তাব করছি। ব্যক্তি শ্রেণী ও কোম্পানীর একবার অডিট কার্যক্রমের আওতায় পড়িলে পরবর্তী কমপক্ষে ৫ বৎসর অডিটের আওতার বাহিরে রাখার প্রস্তাব করছি। ইহাতে করদাতাদের ভীতিদূরসহ সরকারী রাজস্ব অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
৩। বর্তমানে প্রায় ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর দেশে টিআইএন ধারার সংখ্যা প্রায় ৩৩ লক্ষ। যাহা বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় খুবই কম। ইহার মধ্যে নিয়মিত করদাতার সংখ্যা বিভিন্ন পরিসংখ্যান মোতাবেক প্রায় ১৬ লক্ষ। বাকী প্রায় ১৭ লক্ষ লোকের টিআইএন থাকিলেও তাহারা সঠিক সময়ে কোন আয়কর রিটার্ণ দাখিল না করার কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উক্ত টিআইএন ধারী করদাতার আয়কর বিভাগে তাহাদের নাম, ঠিকানা, আইডি নং, ফটো ইত্যাদি বিদ্যমান রয়েছে। উক্ত টিআইএন ধারীদের আয়কর বিভাগ আইনী প্রক্রিয়ায় খুঁজে বের করলে কমপক্ষে ৬-৭ লক্ষ করদাতার সঠিক হিসাবে পাওয়া যাবে। উক্ত টিআইএন ধারীদের টিআইএন নেওয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত আয়কর রিটার্ণ দাখিল করেন নাই তাহাদেরকে একটি নির্র্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সময় প্রদান করে যাহা টিভি, পত্র-পত্রিকায় প্রচার করে শেষ সুযোগ হিসাবে সময় প্রদান করিবেন। যাহারা উক্ত সময়ের মধ্যে রিটার্ণ প্রদান করবেন না জরিমানা সহ আইনী প্রক্রিয়া প্রয়োগ করিলে উক্ত টিআইএন ধারীদের নিকট হতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে। এতে বর্তমানে যারা নিয়মিত কর প্রদান করে আসছেন তাদের উপর আয়কর আদায়ের চাপ অনেকটা কমে আসবে এবং পুরাতন করদাতাদের ভীতি দূর হবে। ইহা ছাড়াও সার্কেলের অধিক্ষেত্র অনুযায়ী একজন অতিরিক্ত পরিদর্শী কর কমিশনারের নেতৃত্বে জরীপ কার্যক্রম পরিচালনা করলে অনেক নতুন করদাতার সন্ধান পাওয়া যাবে। এতেও সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।
৪। সরকারের রাজস্বের স্বার্থে খুবই জরুরী ভিত্তিতে আয়কর অধ্যাদেশের ১৭৪ ধারার ২ উপ ধারার ক্লজ এ ও বি বাতিলের প্রস্তাব করছি। কারণ ১৭৪ ধারার ২ উপ ধারার ক্লজ এ ও বি ১৯২২ সালের আয়কর আইনের ধারাসমূহ ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের হুবহু সন্নির্বেশিত করা হয়েছে। ইহা প্রায় ৯১ বৎসর পূর্বের অর্থাৎ ব্রিটিশ আমলের উক্ত আইন এখনো বলবৎ রয়েছে। আয়কর আইন প্রকৃতিগতভাবে একটি জটিল ও কঠিন আইন। ইহা সদা পরিবর্তনশীল ও সংকট ও সমাধানগুলোর প্রকৃতি ও ভিন্ন। আয়কর আইনে আয়কর রিটার্ণ দাখিলও মামলায় শুনানীর প্রতিনিধিত্বকালে আয়কর আইনে সম্যক জ্ঞান না থাকলে ইহাতে করদাতাদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করা খুবই কঠিন। করদাতার তথ্য খুবই গোপণীয় ব্যাপার। এক্ষেত্রে ১৭৪ (২) উপ ধারার ক্লজ এ ও বি উপ-ধারার যে সমস্ত ব্যক্তিবর্গের উল্লেখ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে আয়কর মামলায় প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে আয়কর আইনে অনভিজ্ঞতার কারণে সঠিকভাবে আয়কর রিটার্ণ ফরম পূরণ সহ অপরিপক্ষ কাজ করায় করদাতারা হয়রানির সম্মুখীন হন। এই সুযোগে কিছু কিছু লোক অবৈধ প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাইয়া করদাতাদের আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করিয়া থাকেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রায় কয়েক বৎসর পর পর হাজার হাজার আয়কর আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে থাকেন সম্মানিত করদাতাদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। অন্য দিকে ১৭৪ (২) উপ ধারা এ ও বি ধারার ব্যক্তিবর্গের সুযোগ দিয়া ৩০০/- টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের উপর করদাতার প্রতিনিধিত্বের ক্ষমতা অপর্ণপত্র করার বিধান থাকিলেও তাহা না মানিয়া অবৈধ প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ কোন ক্রমে সঠিক নহে। ন্যায় বিচার ও জাতীয় রাজস্বের স্বার্থে ১৭৪ (২) উপ ধারার ক্লজ এ ও বি উপধারা বাতিলের প্রস্তাব রাখছি। ইহাতে সরকারের কোটি কোটি রাজস্ব বৃদ্ধি পাইবে।
৫। সরকারী চাকুরীজীবীদের শুধু মূল বেতনের উপর কর নির্ধারণের ব্যবস্থা বর্তমানে চালু আছে। কিন্তু বেসরকারী চাকুরীজীবীগণ মূল বেতন ও অন্যান্য ভাতাদিসহ সুযোগ-সুবিধার উপর মোট আয় নির্ণয় করে কর পরিশোধ করিতে হয়। এই বৈষম্য নীতি প্রত্যাহার পূর্বক সরকারী চাকুরীদের মূল বেতন অন্যান্য ভাতাদি সহ সুযোগ-সুবিধার উপর মোট আয় নির্ণয় করে কর পরিশোধ করার প্রস্তাব করছি। এতে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।
৬। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৯৩ এবং ১২০ ধারা রহিয়াছেন। উক্ত ধারা মোতাবেক যে সমস্ত করদাতার কর ফাকির সুনির্দিষ্ট তথ্য ভিত্তিক প্রমাণাদি পাওয়া যায়। এই ধারা অনুযায়ী পুন:উম্মোচন করিয়া পুন:কর নির্ধারণ করিতে পারেন। কিন্তু স্বতন্ত্র ধারা থাকা সত্ত্বেও একই আয় কর মামলা ৮২ বিবি (৩) ধারায় অডিট, নিবীড় নিরীক্ষা, ডিজি ইন্সপেক্সশন, সিআইসি ইন্সেপেকশন ইত্যাদি মাধ্যমে নিরীক্ষার ফলে করদাতাগণ হয়রানির শিকার হয়। এতে করদাতাগণ কর বিভাগের সাথে কর বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির পরিবর্তে কর ভীতি কাজ করে। তাই একই মামলা বিভিন্ন প্রকার বিভিন্ন নিরীক্ষা পদ্ধতি থেকে রেহাই প্রদানের প্রস্তাবনা সহ ওয়ানস্টপ সার্ভিসের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করছি।
৭। বাংলাদেশেল জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারীদের উন্নয়ন ঘটিলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব হবে সেজন্য শিল্পায়নে শিক্ষিত ও মেধাবী নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ও বিকাশের জন্য নারী শিল্প উদ্যোক্তাদেরকে প্রাক্ বিনিয়োগ পরামর্শ, প্রকল্প, প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে এবং উদ্বুদ্ধকরণে সহায়তা দানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া সহ নারী শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব করছি। ইহাতে দেশে প্রচুর বিনিয়োগসহ অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ সুষ্টি হবে।
৮। প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিল্প উন্নয়ন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখছে এবং তাহারা দেশের সুনাম বয়ে আনছে। সেই জন্য যে সমস্ত প্রবাসী বাংলাদেশী যাহারা নিজের দেশে শিল্পে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক তাহাদের জন্য বিদেশীদের মত শিল্পের সব রকম অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে প্রবাসী শিল্প প্রাক্ বা প্রবাসী ইপিজেড তৈরী করে শিল্প উন্নয়নের প্রস্তাব করছি। এতে প্রবাসীরা বিনিয়োগে উৎসহ বোধ করিবে এবং দেশের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ইহাতে সরকার যাবতীয় শিল্পের নিরাপত্তা দানে সহায়ক ভূমিকা পালন করিবে।
৯। যে সমস্ত ক্ষেত্রে উৎসে কর্তিত কর কে চূড়ান্ত করদায় হিসাবে বিধান করা হয়েছে। সেই সব ক্ষেত্রে কর্তিত করের উপর সার চার্জ আরোপের বিধান রহিত করণের প্রস্তাবনা প্রদান করছি।
১০। সম্মানিত করদাতা ৮২ বিবি ধারার রিটার্ণ দাখিলকালীন সময়ে রিটার্ণের আয় অনুপাতে সমস্ত কর পরিশোধ করিয়া থাকেন। কোন কারণে উক্ত রিটার্ণ সাধারণ পদ্ধতিতে কর নির্ধারণ করা হইলে নির্ধারিত করের উপর সরল সুদ আরোপ করা কোন মতেই সমীচিন নহে বিধায় উক্ত বিধান বাতিলের প্রস্তাব করছি।
১১। ১৭৮ ধারায় নোটিশ জারী ডাক মারফত আয়কর কর্তৃপক্ষ করিয়া থাকেন। কিন্তু করদাতা উক্ত নোটিশ প্রাপ্ত হইয়াছেন কিনা নিশ্চিত না হইয়া কর নির্ধারণ করিয়া থাকেন। ইহাতে অনেক করদাতার ঠিকানা পরিবর্তন জনিত কারণ বা অন্য যে কোন কারণে নোটিশ না পাইয়া করদাতার উপর একতরফা ভাবে অত্যাধিক কর আরোপ করা হয়। ইহাতে করদাতা হয়রানির সম্মুখীন হয়। করদাতার নোটিশ জারীর প্রমাণাদি অর্থাৎ নোটিশ প্রাপ্তির প্রমাণাদি নিশ্চিত করিয়াই কর নির্ধারণ করার প্রস্তাব সহ উক্ত নোটিশের জারী সংশোধনী পূর্বের মত বহাল রাখার প্রস্তাব করছি।
১২। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ১৯(২৪) ধারা বাতিল করন:- নতুন কোম্পানী গঠনের পূর্বে কোম্পানীর নামে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং শেয়ার বরাদ্দের টাকা ক্রস চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে গ্রহণ করার বিধান বাতিল করণের প্রস্তাব করছি।
১৩। কর আপীলাত ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের ক্ষেত্রে ১০% কর পরিশোধের পরিবর্তে ৫% কর পরিশোধ সাপেক্ষে মামলা দায়ের প্রস্তাব করছি।
১৪। অর্থ আইন ২০১১ এর মাধ্যমে ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের ২ (দুই) কোটি টাকার উর্ধ্বে নীট সম্পদের অধিকারীদের ক্ষেত্রে প্রদেয় করের উপর ১০% সার চার্জ আরোপ করা হয়েছে, যা বর্তমানে বলবৎ আছে। বর্তমানে দেশে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে সম্পদের মূল্য অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ আয়কর বিধান পূর্বের ন্যায় এই সার চার্জ আরোপের বিষয়টি সাধারণ করদাতাদের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাই ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের নীট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি টাকার স্থলে ৫ কোটি টাকার অধিক সম্পদের অধিকারীদের ক্ষেত্রে এই সার চার্জ আরোপ করার প্রস্তাব করছি।
১৫। রপ্তানীমুখী শিল্পসমূহের বৈষম্য দূরীকরণের জন্য ইপিজেড এর বাইরে অবস্থিত রপ্তানীমুখী শিল্পসমূহকে ইপিজেড এর ভেতরের শিল্প সমূহকে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা। বৈষম্য নীতির ফলে বিশেষ ক্ষেত্রে বিদেশী বিনিয়োগকারী দশ বছরের কর অবকাশ পেলেও ইপিজেড এর বাইরের স্থানীয় রপ্তানী উদ্যোক্তাগণ সেই সুযোগ পায় না। তাই এই বৈষম্য নীতি দূরীকরণের প্রস্তাব করছি।
১৬। অঘোষিত আয়ের ১০% ট্যাক্স দিয়ে এর উক্ত ট্যাক্সের জরিমানা আরোপসহ বিভিন্ন ইন্ডাষ্ট্রিতে বিনিয়োগ করার সুযোগ প্রদান করলে শিল্পায়ন বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, নতুন শিল্পায়নের পাশাপাশি দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পাবে।
১৭। ব্যক্তি শ্রেণীর রিটার্ণ দাখিলের শেষ সময় আইন অনুযায়ী প্রতি বৎসর ৩০ শে সেপ্টেম্বর নির্ধারিত আছে। উক্ত সময়ে দেশে বন্যা, দূর্যোগ, ঈদ, পূজা ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হওয়ায় বার বার প্রতি বৎসর রিটার্ণ দাখিলের সময় বাড়ানো হয়। উহাতে করদাতাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়। তাই আইন করে উক্ত ৩০শে সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ১৫ই নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করছি।
১৮। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ৩০ (এম) ধারা বাতিল করণ:- কোম্পানী করদাতা ৫০,০০০/- টাকার উর্ধ্বে কোন ব্যয় এবং ১৫,০০০/- টাকার উর্ধ্বে মজুরী বা বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রে ক্রস চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফারের বিধান বাতিল করণের প্রস্তাব করছি।
১৯। ভ্যাট আপীল মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে ১০% হারে ভ্যাট পরিশোধ করা হয়। ইহা অত্যধিক বিধায় ৫% হারে ভ্যাট পরিশোধ পূর্বক আপীল মামলা দায়ের প্রস্তাব করছি।
২০। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ৫৩ই ধারায় অর্জিত কমিশন, ডিসকাউন্ট অথবা ফি আয় উৎসে কর্তিত করের ভিত্তিতে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ৮২ সি ধারায় চূড়ান্ত করদায় হিসাবে গ্রহণের প্রস্তাব করছি।
২১। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের আয়কে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ৬ষ্ঠ তপশীল পার্ট-৩ ক্লজ-৩৫ এ বর্ণিত হ্যান্ডিক্স্যাপ্টস রপ্তানী আয় ১লা জুলাই ২০১৫ থেকে আগামী ৫ বছরের জন্য করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করছি।
২২। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ৬ষ্ঠ তপশীল পার্ট-এ ক্লজ-৪১ এ বর্ণিত পেনশনার সেভিংস সার্টিফিকেট এর সুদ আয় পুন:করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করছি।
২৩। আয়কর আপীল ও আপীলাত ট্রাইব্যুনালকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাস্ত করণসহ ট্রাইব্যুনালে আয়কর আইনজীবী হতে এবং বিচার বিভাগীয় সদস্য নিয়োগের প্রস্তাব করছি।
২৪। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করা হইলেও অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন এখনো হয়নি। চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে সারা বাংলাদেশের উন্নয়ন। এই কথা বিবেচনা করে চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম কাস্টমস্ হাউস এবং চট্টগ্রামের সম্মানিত করদাতাদের পরিশোধিত আয়করের মাধ্যমে অর্জিত আয়ের ১০% শতাংশ চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করছি। স্পেশাল ইকনোমিক জোন তৈরীর কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়া টার্নেল নির্মাণ, কক্সবাজার ও বান্দরবান কে পর্যটন রাজধানী হিসাবে ঘোষণা পূর্বক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হইলে সরকারের পর্যটন ও খাতেও অনেক রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে।

২৫। ঢাকা-চট্টগ্রাম ব্যতিত অন্যান্য বিভাগকে সার্বিক সমতা ভিত্তিক উন্নয়নের জন্য বিভাগওয়ারি বাজেট বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করছি।
২৬। হাইব্রিড প্রযুক্তির নতুন গাড়ী বর্তমানে বিদেশে তৈরী হচ্ছে। এই প্রযুক্তির গাড়ী চালাতে তেল, গ্যাস কিছুই লাগে না। উক্ত গাড়ী শুধুমাত্র ব্যাটারীর মাধ্যমে চালিত হয়। ইহাতে তেল ও গ্যাস সাশ্রয় সহ পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকবে। এই গাড়ী আমদানী শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক সহনিয় পর্যায়ে কমিয়ে আমদানী করার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করছি। লেখক : সভাপতি, চট্টগ্রাম কর আইনজীবী সমিতি

Leave a Reply

%d bloggers like this: