চট্টগ্রাম ওয়াসায় কর্মচারীদের বিক্ষোভ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : চট্টগ্রাম ওয়াসায় কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেছে। রোববার সকাল থেকে চার ঘন্টাব্যাপী কর্মচারীরা বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। ব্যাংক স্লিপ জাল করে প্রায় ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে ১১ জনকে সাময়িক বহিষ্কারের পর কর্মচারীরা এই বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে। চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন ব্যানারে এ সময় বিক্ষোভের পাশাপাশি ওয়াসা ভবন ঘেরাও করে রাখে তারা। পরে এ ব্যাপারে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের আশ্বাস পেয়ে তারা ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়। কর্মসূচি চলাকালে জলবাহীসহ ওয়াসার সকল প্রকারের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।এদিকে এ দুর্নীতির ঘটনায় সাময়িক বহিষ্কৃতরা হলেন, ওয়াসার ওয়াটার ওয়ার্ক্স এর সহকারী প্রকৌশলী আশিক মাহমুদ চৌধুরী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম, ওভারশিয়ার আবদুর রহিম, চালক আলতাব আলী, মো. আবদুর রব, মো. শাহ জামাল, আমানত খাঁন এবং সহকারী মো. আনোয়ার হোসেন, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. ইউছুফ, মো. শাহাদাৎ।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে ভয়াবহ পানি সংকটের কারণে ওয়াসার ১৫টি ভাউচারের দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৭৫ গাড়ি পানি বিক্রি হয়ে থাকে। ওয়াসার নিয়মানুযায়ী ভাউচারের পানির জন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে একটি রিকুইজিশন ফরম পূরণ করতে হয়, যেখানে একজন ওভারশিয়ার, একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলী স্বাক্ষর করেন।স্বাক্ষরিত এ রিকুইজিশন ফরম নিয়ে গ্রাহককে জনতা ব্যাংকের ওয়াসা শাখার নির্ধারিত হিসাবে জমা দিতে হয়। ব্যাংক স্লিপ দেখে একজন ওভারশিয়ার বিতরণের রশিদ দেন। এ রশিদের একটি নমুনা গ্রাহক এবং একটি ভাউচারের চালকের কাছে দেয়া হয়। চালক রশিদ অনুযায়ী পানি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেন বলে জানা গেছে। এদিকে গত নয় মাস ধরে ওয়াসার ১৫টি ভাউচারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরুরি পানি বিক্রির টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মেলায় গত বৃহষ্পতিবার এদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
ওয়াসা কর্মকর্তারা জানান, গ্রাহকদের বেশীরভাগই এ প্রক্রিয়ায় ওয়াসা কর্মকর্তা, চালক ও সহকারীদের সহযোগিতা নিয়ে থাকেন। এই সুযোগে ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতি করে টাকা আত্মসাত করে আসছে। জালিয়াতির ক্ষেত্রে চক্রটি সই ও স্ট্যাম্প জাল করে ভূয়া ব্যাংক স্লিপ গ্রাহকদের ইস্যু করে পানি সরবরাহ করতো। গ্রাহকদের টাকা ওয়াসার হিসাবের বদলে যেত নিজেদের পকেটে।তবে ওয়াসার বিতরণ রশিদটি জাল না হওয়ায় সেখানে বিতরণকৃত পানির রেকর্ড সংরক্ষিত আছে। যার মাধ্যমে দুর্নীতির বিষয়টি উঠে আসে। এ বিষয়ে কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম বলেন, ওয়াসার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে ব্যাংক স্লিপ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এসব উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের দোষ ঢাকতে সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে আট শ্রমিকসহ ১১ জনকে বহিষ্কার করেছে। তবে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, স্বাক্ষর ও সিল নকল করে ওয়াসার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ঘটিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক তদন্তের ওপর ভিত্তি করে ১১ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে শীগগিরই আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জালিয়াত চক্রের সকল সদস্যকে চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে রোববার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে কর্মচারী মূল ফটক থেকে সরে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কক্ষ ঘেরাও করে অবস্থান নেয় শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন। এসময় সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশও করে তারা।সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ওয়াসার চিহ্নিত কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিজেদের লুটপাট ঢাকতে কর্মচারীদের উপর নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছে। তারাই ওভারটাইমের টাকা দিতে গড়িমসি করে, ২৮ বছর ধরে চাকরিরত কর্মচারীদের পদোন্নতি না দিয়ে নতুন পদায়নের মাধ্যমে নিজেদের আখের গোচাচ্ছেন। এসময় ওয়াসার বিভিন্ন প্রকল্পেও কর্মকর্তারা দুর্নীতি অব্যাহত রেখেছে অভিযোগ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এদিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে বেলা ১২টার দিকে শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম নিজেদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এক সপ্তাহ’র আল্টিমেটাম দিয়েছি। এর মধ্যে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমরা লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করব।

Leave a Reply

%d bloggers like this: