চট্টগ্রামে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানার পাশেই একটি স্বর্ণের দোকান ডাকাতির ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বোমা মেরে ডাকাতি ও পরে অস্ত্রসহ ডাকাত আটকের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলোতে মোট ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। গিণি গোল্ড জুয়েলার্সের মালিক রূপন কান্তি ধর দুটি ও পুলিশ এশটিসহ তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে শনিবার রাতে কোতোয়ালী থানা সংলগ্ন আলকরণের প্রবেশমুখে হাজী দানু মিয়া সওদাগরের মালিকানাধীন অপরুপা জুয়েলার্স এবং জুয়েলারি সমিতির সহ-সভাপতি রতন ধরের মালিকানাধীন গিণি গোল্ড জুয়েলার্সে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতি শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া বোমায় আহত সৈয়দ (৪৫) নামে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাইক্রোবাসে করে ডাকাতরা দোকান দু’টির সামনে আসে। এসময় তারা সশস্ত্র অবস্থায় মাইক্রোবাস থেকে নেমে গিণি গোল্ড জুয়েলার্সে ঢোকার চেষ্টা করে। আরেক গ্র“প অপরুপা জুয়েলার্সে ঢোকার চেষ্টা করে। সেখানে ঢোকার এক পর্যায়ে বিকট শব্দে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। পরপর দু’টি বোমা ছুঁড়লেও লাল টেপে মোড়ানো একটি বোমা গিণি গোল্ড জুয়েলার্সের সামনে অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এ সময় ডাকাতরা গিণি গোল্ড থেকে বেশকিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে গেলেও অপরুপা জুয়েলার্সে গিয়ে তারা প্রতিরোধের মুখে পড়লে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এদিকে বোমা বিস্ফোরণের পর ডাকাতদল গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। বোমার আঘাতে গিণি গোল্ড জুয়েলার্স দোকানটি ক্ষতিগ্র্রস্ত হয়েছে। আর অপরুপা জুয়েলার্সের সামনে রাখা তাদের প্রাইভেট কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে বোমা বিস্ফোরণে আহত ১০ জনকে রাত পৌনে ৯টার দিকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দ নামে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অন্য আহতরা হলেন, রফিকুল আলম (৩৪), রাজিব চৌধুরী (১৮), নিশান (১৮), সাব্বির (১৯), সত্যজিৎ (২৯), মনসুর (৩০), মোশাররফ (৩০), মনির (৩০) ও মালেক (২০)। এদিকে ঘটনার পর ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রেবাসটি নগরীরর মাদারবাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার এস আই মফিজ উদ্দিন বলেন, মামলার এজাহারে অপরুপা জুয়েলার্স ও গিণি গোল্ড জুয়েলার্স থেকে চার লক্ষ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের মোট সাড়ে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাদি। এর মধ্যে চার ভরি ওজনের চারটি গলার হার, দুই ভরি ওজনের দুই জোড়া কানের দুলসহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার আছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারা দায়ের হওয়া এ মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরা হল, বাবুল ওরফে কালাম, মনির, শাহজাহান আলী বেপারি, জাকির হোসেন লিটন, ফোরকান হাওলাদার, সোহাগ, মোহাম্মদ হাসান, মো.মাসুদ ও কানা।  মামলার এজাহারে সদরঘাট থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি (ঢাকামেট্রো-চ-৫৪-০৩৫৮) উদ্ধারের কথা উল্লেখ রয়েছে। একই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নেজাম উদ্দিন বলেন, গিণি গোল্ড জুয়েলার্সের মালিক রুপন ধর বাদি হয়ে বিস্ফোরক আইনের ৩ ও ৪ ধারায় আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে নগরীর পাহাড়তলী থানায় দুই ডাকাতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। পাহাড়তলী থানার এস আই ফজলুল হক বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন পাহাড়তলী থানার ওসি এস এম আজিজুর রহমান। মামলায় দু’জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ইমতিয়াজ বাবুল নামে একজন গ্রেফতার আছে। আরেকজনকে অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ডাকাতির ঘটনার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাহাড়তলী থানায় চেকপোস্টে একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ ইমতিয়াজ বাবুল আটক হয়। এসময় তার সঙ্গে থাকা আরেক ডাকাত রিক্সা করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: