চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতা সুমন গ্রেফতার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১১ নভেম্বর: অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী, অস্ত্র ব্যবসায়ি ও যুবলীগ নেতা রিদুয়ানুল হক সুমনsumon
মঙ্গলবার রাতে নগরীর ডবলমুরিং থানার রশীদ বিল্ডিং এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সুমন সাতকানিয়ার পশ্চিম ঢেমশা আলী নগরের হারুনুর রশীদের ছেলে।
দুইটি হত্যাসহ পাঁচ মামলা এবং অসংখ্য জিডি থাকার পরও সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থাকায় সাতকানিয়ার থানা পুলিশ এতোদিন তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অবশেষে তাকে নগরী থেকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি পুলিশ।
সন্ত্রাসী সুমনকে গ্রেফতারে স্বস্থি ফিরেছে সাতকানিয়া সাধারণ মানুষের মনে।
তাকে বুধবার আদালতে হাজির করে ৫দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর আলম।
সিআইডি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সাতকানিয়ার গাটিয়াডাঙ্গায় (সুমনের শশুরবাড়ি এলাকা) সন্ত্রাসী সুমনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা গোলতাজ বেগম (৩২) নামে এক নিরীহ মহিলাকে গুলি করে হত্যা করে। জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের আগের দিন রাতে সন্ত্রাসীরা মহিলার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছিল। sএ ঘটনায় দুই সন্ত্রাসী গ্রেফতারের পর আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে অস্ত্রের যোগানদাতা এবং হুকুমদাতা হিসেবে যুবলীগ সুমনের নাম প্রকাশ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু গোলতাজ বেগমকে নয় এর আগে সুমনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা নগরীর আল-জাহান বোডিং এ আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলামকে হত্যা করে। তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় দুটি হত্যাসহ ৫টি মামলা এবং অসংখ্য জিডি থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত সরকার সমর্থিত পেশাজীবী সংগঠনের প্রভাবশালী এক নেতার আশ্রয়ে থাকায় সাতকানিয়া থানা পুলিশ সন্ত্রাসী সুমনকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
সূত্র মতে, সুমনের সহযোগী হিসেবে ছিল সন্ত্রাসী জোবায়ের। তার নামেও একাধিক মামলা রয়েছে। জোবায়ের সন্ত্রাসী সুমনের অস্ত্র ভান্ডার এবং অস্ত্র বিক্রির দেখভাল করতো। তারা এতোটা বেপরোয়া ছিল যে, প্রকাশ্যে এলাকায় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করতো এবং অস্ত্র হাতে নিয়ে ছবি তোলা ছিল তাদের শখ। তার প্রমাণ মিলেছে সিআইডি’র সংগ্রহে থাকা বেশ কিছু ছবি, যাতে নিজেরা অস্ত্র হাতে ছবি তোলা এবং সন্ত্রাসী সুমনের ভাতিজীর হাতে অস্ত্র দিয়ে তোলা ছবি। এসব ছবি সিআইডি’র হাতে আসার পরপরই তাদের গ্রেফতারে তৎপর হয়ে উঠে প্রশাসন। এ অবস্থায় ৩ মাস আগে গোপনে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসী জোবায়ের।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাতকানিয়ার পশ্চিম ঢেমশা এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। তারও আগে ১৯ সেপ্টেম্বর সুমনের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের লোকজনকে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় গুলি করে আহত করার অভিযোগে সুমনসহ তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়।
এছাড়া চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সাতকানিয়ার ঠাকুরদিঘী বাজার এলাকা থেকে অস্ত্র উদ্ধার মামলায় পুলিশ সুমনসহ তার দুই সহযোগির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলেও সাতকানিয়া পুলিশ বরাবরই সন্ত্রাসী সুমনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এ ব্যাপারে সাতকানিয়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন খন্দকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুমন নামে একজনকে সিআইডি গ্রেফতার করেছে শুনেছি। তবে আমি তাকে চিনি না। এ নামে কোন সন্ত্রাসী আছে কিনা আমার জানা নেই।
তিনি বলেন, রাজনীতির কারণে যে কারো বিরুদ্ধে মামলা থাকতেই পারে।
এদিকে সুমনের বিরুদ্ধে এলাকার অনেক লোক থানায় জিডি এবং মামলা করলেও তারা তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তবে সিআইডি’র হাতে গ্রেফতার হওয়ার সংবাদ শুনে তারা খুশি হয়েছেন বলে জানান। সূত্র: শীর্ষ নিউজ

Leave a Reply

%d bloggers like this: