চট্টগ্রামে লোডশেডিং

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : গরম শুরুর আগেই চট্টগ্রামে শুরু হয়ে গেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং।Lodsading তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) রেকর্ডে গত কয়েক মাস থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং নেই। পিডিবি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে পিডিবির অধীনে থাকা বর্তমান গ্রাহকদের বিদ্যুৎ চাহিদা ৬০০ মেগাওয়াট বা তার উপরে। কিন্তু চট্টগ্রামে গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং রেন্টাল ও কুইক রেন্টালগুলো থেকে দৈনিক সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। লোডশেডিংও নেই। তবে নগরীর চান্দগাঁও, মোমিন রোড, হালিশহর, অক্সিজেন, আসকারদীঘির পাড়সহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল ১০ টা থেকে ১১টা দুপুর ২টা থেকে ৩টা সন্ধ্যা ৭ টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের বিভিন্ন কাজে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একজন গ্রাহক জানান, রোববার রাতে সাড়ে ১০টায় লোডশেডিং হয়েছিল। হালিশহর ছোটপুলের একজন গ্রাহক জানান, সোমবার বিকেলের দিকে লোডশেডিং হয়েছিল। প্রায় আধাঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। অক্সিজেন এলাকার এক গ্রাহক জানান, গত রোববার রাত ১১টায় এবং সোমবার সকালে বিদ্যুৎ ছিল না। তবে পিডিবির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান লোডশেডিংয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, গত কয়েক মাস যাবত পিডিবির রেকর্ডে কোনো লোডশেডিং নেই। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না সেখানে হয়ত কোনো মেইটেইন্যান্স কাজ চলছিল। পিডিবি সূত্র মতে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬০২ মেগাওয়াট, বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে ৬৬২ মেগাওয়াট। এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল ৬৯৮ মেগাওয়াট, চাহিদা ছিল ৬৬৬ মেগাওয়াট, ১৩ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে ৫৪০ মেগাওয়াট, চাহিদা ছিল ৫৬২ মেগাওয়াট, ১২ ফেব্রুয়ারি ৭৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, চাহিদা ছিল ৫৯৮ মেগাওয়াট। একইভাবে ১১ ফেব্রুয়ারি ৬৮৪ মেগাওয়াট এবং ১০ ফেব্রুয়ারি ৮২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল। বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক থাকায় এ সময় গ্রাহকদের চাহিদামতোও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানায় পিডিবি কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে পিডিবির ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ফার্নেস অয়েলচালিত হাটহাজারী ও দোহাজারীতে দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাসচালিত রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট, ১৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট এবং রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ২২০ মেগাওয়াট পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এছাড়া বেসরকারি রেন্টাল বা কুইক রেন্টালভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকেও বিদ্যুৎ কিনছে পিডিবি। সূত্র : ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

%d bloggers like this: