চট্টগ্রামে যুবলীগ ছাত্রলীগের ফের সংঘাত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১ নভেম্বর: চট্টগ্রাম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর সিআরবির সামনে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ফের সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরীCRB বাবর এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনের অনুসারীরা। প্রায় ২০ মিনিটব্যাপী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির পর পুলিশ ধাওয়া দিয়ে এবং ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন। পুলিশ একজনকে আটক করেছে। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কোতয়ালি থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, লিমন CRB-1গ্রুপের বাবু নামের এক ছেলেকে সিআরবিতে পেয়ে মারধর করে বাবর গ্রুপের কর্মীরা। এতে উত্তেজিত হয়ে লিমন গ্রুপের কর্মীরা সিআরবিতে এসে অবস্থান নেয়। বাবর গ্রুপের কর্মীরাও সেখানে এলে মারামারি শুরু হয়। আমরা হালকা লাঠিচার্জ এবং তিন রাউন্ড গুলি করে সংঘর্ষে জড়িতদের সরিয়ে দিয়েছি। পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। এর আগে ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রকাশ্য রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়েছিল দুই গ্রুপ। এতে দু’জন নিহত হন। নিহতরা হলেন যুবলীগ কর্মী সাজু পালিত (২৮) ওCRB-2 আট বছরের শিশু আরমান। এ ঘটনার পর বাবরকে যুবলীগ থেকে এবং লিমনকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। সর্বশেষ ১২ অক্টোবর দুপুরে সিআরবির সাত রাস্তার মোড়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে আবারও রক্তক্ষীয় সংঘাত ঘটে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ তিনজন আহত হয়। এর ধারাবাহিকতায় হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর গ্রুপ এবং সাইফুল আলম লিমন গ্রুপ নগরীতে পাল্টাপাল্টি শোডাউনও করেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জামতলা বস্তির দিক থেকে শ’খানেক কিশোর-যুবক এসে সিআরবির মূল ফটকের সামনে এসে জমায়েত হয়। খবর পেয়ে crb-3এনায়েতবাজারের দিক থেকে বাবর গ্রুপের শ’খানেক কর্মীও লাঠিসোঠা নিয়ে সেখানে আসে। উভয় গ্রুপ প্রকাশ্যে অস্ত্রশস্ত্রের মহড়া দেয় বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। উভয় গ্রুপের কর্মীরা প্রায় ২০ মিনিট মারামারি করেন। এসময় গোলাগুলির আওয়াজ শোনা গেছে বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এদিকে সংঘাত শুরুর খবর পেয়ে কোতয়ালি থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। র‌্যাবের চারটি টিমও ঘটনাস্থলে যায়। তারা ধাওয়া দিয়ে উভয় গ্রুপকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সংঘর্ষে জড়িত একজনকে আটক করেছে। তবে তার নাম-পরিচয় বিস্তারিত জানাতে পারেননি কোতয়ালি থানার ওসি মো.জসিম উদ্দিন। সংঘর্ষে হেলাল, শাহেদ ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও দু’জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।CRB-4 তারা বাবরের অনুসারী বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে হেলাল ও লিমন ছিলেন না বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। বাবরের অনুসারীদের সূত্রে জানা গেছে, হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। নগরীর নন্দনকানন এলাকার অমিত মুহুরী নামে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একজন সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেন। হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর এবং লিমনকে ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রকাশ্য রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে কয়েক মাসের মাথায় তারা জামিনে মুক্তি পান। এ ঘটনার পর বাবরকে বহিস্কার করা হলেও পরে তাকে যুবলীগে ফিরিয়ে এনে কেন্দ্রীয় কমিটির উপ অর্থ বিষয়ক সম্পাদকের পদ দেয়া হয়। তবে লিমনের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করেনি ছাত্রলীগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*