চট্টগ্রামে বিস্ফোরিত ভবনে বিশেষজ্ঞ দল পর্যবেক্ষণ করছে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ২৭ জানুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার: চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার দেওয়ানবাজার নিরাপদ হাউজিং সোসাইটির মাদ্রাসা ভবন নামের যে ছয়তলা ভবনটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে সেখানে নগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয় টিম সহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞ দল পর্যবেক্ষণ করছে। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা গ্যাস বিস্ফোরণ থেকেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। কারণ অন্য কোনো আলামত এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবুও অধিকতর তদন্তের জন্য বোমা নিষ্ক্রিয় দল সহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞ টিমকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসা ভবন নামের এই ভবনটিতে মোট ৩৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে বিস্ফোরণে ভবনটির ১৮টি ফ্ল্যাট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আরও নয়টি ফ্ল্যাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ভবনের দেয়াল উড়ে গিয়ে রাস্তার বিপরীতে থাকা শাহাদাত হোসেনের মালিকানাধীন ভবনের ওপর পড়ে। এতে ওই ভবনটির ৮টি ফ্ল্যাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরমধ্যে কোন ফ্ল্যাটের দরজা জানালা উড়ে গেছে। কোথাও ছোটখাটো ফাটল দেখা দিয়েছে। বিস্ফোরণের লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ফ্ল্যাটের আসবাব।
এর আগে ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে মাদ্রাসা ভবনের তিনতলার ৩০১ নম্বর ফ্ল্যাটে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে ভবনের কয়েকটি ফ্ল্যাটের দেয়ালে সাঁটানো ঘড়ি ৫টা ১৬ মিনিটে বন্ধ হয়ে থাকতে দেখা যায়। ওসব ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের বক্তব্য ঠিক এই সময়েই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যার কারণে ঘড়িগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এই ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ভবনটি আনোয়ারা উপজেলার পরুয়াপাড়া এলাকার আরবিয়া খাইরিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মালিকানাধীন।
ঘটনাস্থলে নগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, যে ফ্ল্যাটটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে তার তিনটি কক্ষের দেয়ালই ভাঙা দেখা গেছে। চুলার গ্যাস লাইনের চাবিও খোলা ছিল। এছাড়া বিস্ফোরণে ফ্ল্যাটের যে তিনজন আহত হয়েছে তার মধ্যে ছোট মেয়েটি জানিয়েছে ভোর পাঁচটার দিকে সে রান্নার জন্য আগুন ধরাতে গেলে এই ঘটনা ঘটে।’বিস্ফোরণে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ফ্ল্যাটের আসবাব
তিনি বলেন, ‘শীতকাল বলে ফ্ল্যাটের আশপাশের দরজা জানালা সব বন্ধ ছিল। অন্যদিকে গ্যাস লাইনের চাবি খোলা থাকায় দীর্ঘক্ষণ ধরে গ্যাস চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। যার কারণে আগুন ধরাতে গিয়েই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের এখন পর্যন্ত তাই মনে হচ্ছে।’
গ্যাসের আগুন থেকে এতবড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা বোমা বা এই জাতীয় কোনো আলামত পাইনি। ঘটনাস্থলে কোনো স্প্রিন্টার বা এরকম আলামত পাইনি। তবুও অধিকতর তদন্তের জন্য বোমা নিষ্ক্রিয় টিম ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেছে। তারা আলামত তদন্ত করছে।’
যে ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে সেটিতে মা-স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে থাকতেন লোহাগাড়া উপজেলার হাজিপাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবদুল মোতালেব চৌধুরী। সামনের ফ্ল্যাটে গিয়ে উড়ে পড়ে আসবাব। বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী মোহাম্মদ আফসার বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আবদুল মোতালেব তার স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যান। তাই বিস্ফোরণের সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। এসময় তার মা ছামেদা খাতুন (৭০), ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম চৌধুরী (২৭) ও মেয়ে তনিমা আফরিন (১৭) বাসায় ছিলেন। তারা তিনজনই আহত হয়েছেন। এতে আরও আহত হয়েছেন ভবনের চারতলার বাসিন্দা সৈয়দ মাহমুদুল হক নামের পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। তিনি বাম হাতে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। পাশাপাশি কপালের কিছুটাও পুড়ে গেছে।
তিনি বলেন, ঘুমের মধ্যে ছিলাম। এসময় শুনি বিকট আওয়াজ। পরে তড়িঘড়ি করে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের অন্যদের নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করি। এসময় দেখি চারপাশে ধোঁয়া। পরে ভবনের ছাদে ওঠার সময় কপালের কিছু অংশ পুড়ে যায় আর হাতে ব্যথা পাই। বিস্ফোরণে লণ্ডভণ্ড মাদ্রাসা ভবন।
ঘটনাস্থলে এসেছেন আরবিয়া খাইরিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ সুহাইল সালেহ। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভবনটি খুবই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ছিল। যারা ভবনে আসছেন-যাচ্ছেন তারা নিরাপত্তারক্ষীদের নজরদারীতে ছিল। এই ঘটনায় অন্য কিছু ভাবার কোনো কারণ নেই। মাদ্রাসার নামে বরাদ্দকৃত ভবন বলে হয়তো কেউ কেউ অন্যভাবে নিচ্ছেন।’
এই ভবনের ভাড়া বাবদ পাওয়া টাকা দিয়েই এতিমখানার ছেলেদের পড়াশোনা খরচ চালানো হয়। এই ঘটনায় পুরো ভবনের ২৭টি ফ্ল্যাট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাই এতিমখানার শিশুদের জন্য বরাদ্দ টাকা দিয়েই ভবনের সংস্কার কাজ করতে হবে। আমরা এ ঘটনায় সবার সহযোগিতা আশা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*