চট্টগ্রামে নৃশংসভাবে মা-মেয়ে হত্যা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাটের একটি বাসায় মা ও মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সদরঘাট থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ১১ টার মধ্যে কোনো এক সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। নিহতরা হলেন স্থানীয় মাংসবিক্রেতা শাহ আলমের স্ত্রী নাসিমা বেগম (২৮) ও তাদের মেয়ে রিয়া আক্তার ফাল্গুনী (১০)। ছয় তলা ওই ভবনের চতুর্থ তলায় তাদের বাসার বসার ঘরে নাসিমার এবং বাথরুমে রিয়ার রক্তাক্ত লাশ পাctg-killওয়া যায়। ওসি আজাদ বলেন, “বসার ঘরের ওয়ারড্রোবের ওপর একটি রক্তমাখা ছুরি পাওয়া গেছে। এটি ডাকাতির কোনো ঘটনা কি-না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ নালা পাড়ায় ওই বাসার গলির মুখেই শাহ আলমের মুরগীর দোকান। তার শ্যালক মোহাম্মদ আলাল সেটি দেখাশোনা করেন। আর শাহ আলমের মাংসের দোকান আরও একটু সামনে। শাহ আলম-নাসিমা দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে রিয়া নগরীর মাদারবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। হত্যাকাণ্ড যখন ঘটে, তখন তার দুই ভাই স্কুলে। শাহ আলম জানান, সকাল পৌনে ৮টার দিকে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এরপর সকাল ৯টা ৭ মিনিটে দুই ছেলে মো.হৃদয় হোসেন (১৪) এবং মো.রিয়াদ হোসেন (১২)। ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে স্ত্রী নাসিমার সঙ্গে তার শেষবার কথা হয়। তারা উভয়ই মিউনিসিপ্যাল মডেল হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। সকাল সোয়া ১০টার দিকে তাদের বাসার কাজের বুয়া হন্তদন্ত হয়ে চিৎকার করে ছুটে এসে বলে, শাহআলমের বাসার ভেতরে সব রক্ত। একথা শুনে আলাল দৌঁড়ে বাসায় গিয়ে দেখতে পায় নাসিমার রক্তাক্ত দেহ ড্রইংরুমের মেঝেতে এবং রিয়ার গলা কাটা বিভৎস দেহ বাথরুমে পড়ে আছে। নাসিমার পেটে ছুরিকাঘাত ও গলা জবাই করা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাসার গৃহপরিচারিকা জামেনা বেগম জানান, তিনি প্রতিদিন সকাল ১০টার দিকে বাসায় কাজের জন্য আসেন। বৃহস্পতিবার এসে দেখতে পান বাসার দরজা আগে থেকেই ভেজানো অবস্থায় আছে। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে তিনি দেখতে পান সারা মেঝেতে রক্ত আর রক্ত। সামান্য ভেতরে ঢুকে তিনি দু’জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি দৌঁড়ে নিচে চলে যান। তবে বাসার ভেতরে কাউকে তিনি দেখতে পাননি বলে জানান জামেনা। নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, “বাসার স্টিলের আলমারির লক ভাঙা ছিল। ctg_pic_newsঘর ছাড়াও সিঁড়িতে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। সিঁড়িতে আমরা একটি ছোট কাপড়ের ব্যাগ পেয়েছি, যেটা সোনার গয়না রাখার কাজে ব্যবহার হতো বলে মনে হয়েছে।” শাহ আলম জানান, স্ত্রীর গলা কাটা লাশটি ড্রইংরুমে পড়ে ছিল। দুর্বৃত্তরা তার স্ত্রীর পেটে ছুরিকাঘাতও করেছে। আর মেয়ে রিয়ার গলা কাটা লাশ বাথরুমে পাওয়া যায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা স্টিলের আলমারি থেকে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপির কোতয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, ‘ডাবল মার্ডারের বিষয়টি আমাদের কাছে এখনো ক্লিয়ার না। আপনাদের কীভাবে জানাব? ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ আমরা সবাই এখনো ঘটনাস্থলে আছি।’ চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদার, নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তানভীর আরাফাত ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তাদের টিমে আরও ছিলেন নগর পুলিশের উপ কমিশনার (গোয়েন্দা) কুসুম দেওয়ান, উপ কমিশনার (দক্ষিণ) কামরুল আমীন, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সহকারি কমিশনার (কোতয়ালি জোন) শাহ মো.আব্দুর রউফ, বন্দর থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম, বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন, কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নেজাম উদ্দিন, সদরঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মর্জিনা বেগম এবং নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এস আই) সন্তোষ চাকমাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*