চট্টগ্রামে গণ পরিবহনে শৃংখলা আনতে সিএমপির অভিযান অব্যাহত রাখা ও জনসম্পৃক্ততার দাবি: ক্যাব

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৫ জুলাই ২০১৭, সোমবার: চট্টগ্রাম নগরীতে গণপরিবহনে শৃংখলা আনতে লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন গাড়ীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রেপালিট পুলিশের চলমান অভিযান অব্যাহত ও জোরদার করার দাবি জানিয়ে গণপরিবহনে শৃংখলা আনয়ন, ভোগান্তি ও হয়রানি লাগবে ভোক্তাদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দ। চট্টগ্রামে পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কর্তৃক চলমান অভিযান চলাকালে কৃত্রিমভাবে পরিবহন সংকট তৈরী করে জনদুর্ভোগ সৃষ্ঠি করে প্রশাসনের অভিযানকে রুখে দিতে মালিক শ্রমিক পরিবহন গ্রুপের অপতৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবি জানান
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গণপরিবহনে শৃংখলা আনায়নে প্রধান বাধা গণপরিবহনের মালিক-শ্রমিক গ্রুপ যারা কোন আইন ও নিয়মনীতি মানতে চায় না। যার কারনে চট্টগ্রামে যতবারই গণপরিবহন নিয়ে সভা সেমিনার ও আলোচনা করা হয় ততবারই তাদের নিজেদের মধ্যে আন্তঃকোন্দল ও দলাদলিতে কোন সভা ফলপ্রসু হয়নি। বিষয়গুলি অনেকটাই সাজানো নাটকের মতো। যার কারনে প্রশাসন বারবার গণপরিবহনে শৃংখলা আনতে উদ্যোগ নিলেও মালিক-শ্রমিকদের গ্রুপিং ও মারামারির কারনে কোন উদ্যোগ সফল হয়নি। যার ফলে শুধুমাত্র ফিটনেসবিহীন গাড়ী নয়, ২০-৩০ বছরের বেশী লক্কর যক্ক্র গাড়ী ছাড়া চট্টগ্রামে চলাচলের বিকল্প কোন উপায় নাই। ফিটনেস, লাইসেন্স সবকিছুই যেন টোকেনে চলে। গাড়ীগুলি অবৈধ ও ফিটনেস না থাকার কারনে একশ্রেণীর পুলিশকে চাঁদা দিয়েই গাড়ী চালাতে হচ্ছে। আর পুলিশ, পরিবহন মালিক, শ্রমিক সমিতির চাঁদার পুরো ভাগই যাচ্ছে ভোক্তাদের পকেট থেকে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বেশ কয়েকবার লক্করযক্ক্র গাড়ীগুলি নগরীর মহাসড়ক থেকে অপরাসারনের জন্য মালিকদের প্রতি আহবান জানালেও তারা কোন প্রকার কর্ণপাত করেনি। অধিকন্তু নগরীতে কোন নতুন গাড়ী নামাতে চাইলে সেখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ঠি করছে। সমিতিতে নাম তালিকাভুক্ত করতে গুনতে হয় বিপুল পরিমান অর্থ। যার কারনে নতুন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না।
নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ আজ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও সিএনজি টেক্সিতে মিটার সংযোজন করে মিটারে সিএনজি চালানো নিশ্চিত করতে পারে নি। চট্টগ্রামে সিএনজি টেক্সির অরাজকতা ও নৈরাজ্য দেখলে মনে হবে সাধারন জনগন যেন সিএনজি চালকের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। তারা কোন প্রকার নিয়মনীতি মানবে না। যে যার ইচ্ছামতো দ্বিগুন থেকে চারগুন ভাড়া আদায় করবে, যাত্রীর গন্তব্য স্থলে যাবে না। আর এ বিষয়ে প্রতিকারের জন্য আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে জানানোর সহজ উপায়ও নেই। ফলে গণপরিবহনে নৈরাজ্য ও হয়রানি যেন রীতি ও নিয়মে পরিনত হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ প্রশাসন রেগুলেটরী কর্তৃপক্ষ হিসাবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে। সেখানে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ও প্রশাসনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও বৈঠক অনেকটা দেনদরবারের আলোচনা ছাড়া কিছু নয়। কারন যাদের জন্য প্রশাসনের এই আইনের প্রয়োগ, সেই ভোক্তা হিসাবে সেখানে জনগনের অংশগ্রহন নিশ্চিত না হলে সরকারের যে কোন সাহসী উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে। তাই গণপবিহনে শৃংখলা আনায়ন ও নৈরাজ্য বন্ধে যে কোন আলোচনায় পরিবহন মালিক গ্রুপ ও শ্রমিকদের পাশাপাশি ভোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হলে এ আলোচনা একতরফা হয়ে যাবে। সেখানে জনস্বাথ্র্ উপেক্ষিত থেকে যাবে। তাই সে বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।
বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সহ সভাপতি হাজী ইকবাল আলী আকবর, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক এএম তৌহিদুল ইসলাম, ক্যাব দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: