চট্টগ্রামে কথিত প্রেমিকা মনিসহ আটক ৩

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ফোনে কথা বলে বাসায় রুম ডেট করার ফাঁদে ফেলে শিকার ধরত সুন্দরী মনি আক্তার। দেখতে স্মার্ট এ নারীর কথায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা ctgপা দিতেন তার ফাঁদে। কিন্তু এ ফাঁদ যে কত ভয়ানক, তা যখন টের পেতেন তখন তাদের কিছুই করার থাকত না। মনির ফাঁদে এমন বহু যুবক নিঃস্ব হয়েছেন। অনেকেই তার ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়ে গোপনে মাসের পর মাস তাকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য হতেন। চট্টগ্রামে সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে ফাঁদে ফেলা একটি চক্রকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের শান্তিবাগ এলাকায় প্রেমিককে ডেকে নিয়ে বাসায় আটকে মুক্তিপণ দাবি করেছে কথিত প্রেমিকা মনি আক্তার (২৩), তার দুই সহযোগী মো: লিটন (২৫) ও মো: রনি (২৮)। তবে শেষ রা হয়নি তাদের। পুলিশের হাতে আটক হয়েছে কথিত প্রেমিকা মনিসহ তিনজন। গতকাল রাতে হালিশহরের শান্তিবাগ ও তাসফিয়া কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে খুলশী থানা পুলিশ। এ সময় ব্ল্যাকমেইলের শিকার শাহাদাত হোসেন নামে একজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি মোস্তফা গ্র“পের ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত আছেন। মনির সাথে আরো তিনজন ঘটনায় জড়িত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তারা হলো মাসুদ (৩০), এরশাদ (২৮) এবং মোছাম্মৎ কাজল (২৫)। পুলিশ তাদের খুঁজছে। উদ্ধারের পর শাহাদাত সাংবাদিকদের জানান, সকাল ৯টার দিকে রামপুরা এলাকায় যান তিনি। কাজল কৌশলে তাকে মনি আক্তারের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। শাহাদাতের কাছ থেকে কাজলসহ ছয়জন মিলে একটি মোবাইল সেট, মানিব্যাগ, পাঁচ হাজার টাকা, একটি ব্যাংক এশিয়ার ক্রেডিট কার্ড ও তার স্ত্রীর একটি এক্সিম ব্যাংকের ডেবিট কার্ড হাতিয়ে নেয়। সেখানে তার পাশে মনিকে বসিয়ে দেয়া হয় এবং ইয়াবাও দেয়া হয়। এ সময় মাসুদ ও এরশাদ নামে আরো দুইজন সাংবাদিক সেজে ছবি তুলে। ওই ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করে টাকা দাবি করে কাজল। খুলশী থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘খুলশী থানাধীন ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেনের সাথে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে প্রতারক মনি আক্তার। এক পর্যায়ে দেখা করার কথা বলে গত রোববার সকালে শাহাদাতকে হালিশহরের শান্তিবাগ এলাকায় ডেকে নিয়ে যায় মনি। যাওয়ার পর শাহাদাতকে আটকে তার পরিবারের কাছে দেড় লাখ টাকা দাবি করে কথিত প্রেমিকা মনি ও তার সহযোগীরা।’ ওসি বলেন, ‘এ ঘটনার পর রোববার বিকেলে শাহাদাতের ভাই থানায় এসে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর এ ঘটনার ওপর নজর রাখছিল পুলিশ। রোববার রাতে পুলিশের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাদের ৪০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠানো হয়। এরপর অপহরণকারীরা বাকি এক লাখ টাকা দাবি করায়, তাদের বলা হয়, রাতে বিকাশ বন্ধ থাকায় বাকি এক লাখ টাকা সরাসরি দেয়া হবে।’ ওসি আরো বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহাদাতের ভাই টাকা নিয়ে হালিশহরের তাসফিয়া কমিউনিটি সেন্টারের সামনে যান। এ সময় টাকা নিতে এলে তাদের আটক করে খুলশী থানা পুলিশের একটি দল। এরপর তাদের নিয়ে শান্তিবাগের একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে শাহাদাতকে উদ্ধার ও তিন অপহরণকারীকে আটক করে পুলিশ।’ খুলশি থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, কাজল হচ্ছে দলের মূল হোতা। কাজল বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে মনি আক্তারের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। তারপর টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়। চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে এ ধরনের প্রতারণা করেছে। খুলশীর ওই বাড়িতে একবার কেউ মনির মন ভোলানো কথায় পা দিলে মানসম্মান নিয়ে ফিরে আসতে পারত না। আগে থেকেই সেখানে গোপন ক্যামেরার ফাঁদ পেতে রাখত কাজল, মাসুদ ও পারভেজ। বিষয়টি টের পেয়ে গেলে অস্ত্রের মুখে লোকজনকে ছবি তুলতে বাধ্য করত চক্রের সদস্যরা। এরপর শুরু হতো মানসিক নির্যাতন। ইন্টারনেটে ছবি ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলে মুহূর্তেই আদায় করত দুই থেকে তিন লাখ টাকা। যারা টাকা দিতে পারতেন না তাদের ফোন করাতে বাধ্য করতেন পরিবারের সদস্যদের কাছে। অনেকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে বন্ধুদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতেন। সহজ-সরল অনেককে তারা বাসায় ডেকে নিয়ে জোর করে নগ্ন করত। পরে তা ভিডিও করত। এতে ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে কেউই মুখ খুলত না। সবাই বিষয়টি টাকা দিয়ে ধামাচাপা দিতে রাজি হতেন। সূত্র : নয়াদিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*