চট্টগ্রামে ইসলামিক ফ্রন্টের সাংবাদ সম্মেলন

DSC_0220নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলদেশ চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিন জেলার উদ্যোগে গতকাল ১৮ ডিসেম্বর বিকেল ৩ টায়  সর্বজন গ্রহণযোগ্য একটি জাতীয় নির্বাচন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রক্রিয়া বাতিল, দেশব্যাপী অব্যাহত সন্ত্রাস, খুন-গুম ও দুর্নীতি বন্ধ, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণার বাস্তবায়নে সংসদে আইন পাশ সহ চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন, ধর্ম অবমাননাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের আইন প্রনয়নের দাবীতে অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানের ২১ ডিসেম্বরের জনসভা সফলকল্পে চট্টগ্রামস্থ দামপাড়া ইমাম ম্যানসন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, জনসভা প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক ও চট্টগ্রাম নগর ইসলামিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবদুল করিম তারেক।
সংবাদ সম্মেলনে  অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম নগর ইসলামিক ফ্রন্টের সভাপতি জননেতা আলহাজ্ব এইচ এম মুজিবুল হক শুক্কুর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা কাজি জসিম উদ্দীন, সাধারন সম্পাদক স ম শহীদুল হক ফারুকী, উত্তর জেলা সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ মুছা আল কাদেরী, সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ জসিম উদ্দীন তৈয়বী, চট্টগ্রাম নগর সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এম মহিউল আলম চৌধুরী, সহ সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা আবু ছালেহ, মাওলানা রিয়াজ মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এম ওয়াহেদ মুরাদ, দক্ষিণ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল রেজা, দক্ষিণ জেলা অর্থ সম্পাদক মাষ্টার জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম নগর অর্থ সম্পাদক মাওলানা নাছির উদ্দীন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব এম মঈনুদ্দীন চৌধুরী হালিম, ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম নগর সভাপতি আবু ছাদেক ছিটু, সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমদ, দক্ষিণ জেলা ছাত্রসেনা সভাপতি নুরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দীন রানা, উত্তর জেলা ছাত্রসেনা সভাপতি আহসানুল আলম, সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ রেজা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসেনা সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন, মোহাম্মদ শাহাদৎ, আবদুল কাদের, ইরফান উদ্দীন প্রমুখ।
আসন্ন ২১ ডিসেম্বরের জনসভার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয় জাতীয় জীবনের এমনি এক নাজুক মুহূর্তে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের উদ্যোগে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন দেশের জাতীয় রাজনীতিতে বিরাজ করছে এক বিষ্ফোরোম্মুখ পরিস্থিতি। দেশের সর্বত্র অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, ঘুষ, দুর্নীতি, খুন, গুম, অপহরণ, হাইজ্যাক, চুরি, ডাকাতি, টেন্ডারবাজী, বোমাবাজী, রাহাজানী, ছিনতাই, লুন্ঠন সহ ইত্যকার নানাবিধ গর্হিত কর্মকান্ড জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবনে এক দুর্বিষহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে গোটা দেশ সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। ফলতঃ জননিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ক্ষমতায় টিকে থাকার এবং ক্ষমতায় যাওয়ার উদগ্র বাসনায় রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতায় জাতীয় জীবন আজ সংকটাপন্ন। দুই বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক কাঁদাছোড়াছুড়ি ও বিষোদগার অসহনীয় মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জনগণের প্রতি প্রদত্ত প্রতিশ্র“তি ও ওয়াদা বেমালুম ভুলে গিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো অধিকতর দলকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় উপেক্ষিত হচ্ছে দেশ ও জাতীয় স্বার্থ। জঙ্গী তৎপরতা ও ধর্মদ্রোহী নাস্তিকদের অস্বাভাবিক দৌরাত্ম্য ও আস্ফালন ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে দেশের রক্তার্জিত মহান স্বাধীনতার চেতনা ও মুল্যবোধ ভুলুন্ঠিত হচ্ছে। আত্ম ও দল কেন্দ্রীকতা, একগুয়েমি, গোয়ার্তুমি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়নতা তীব্র আকার ধারণ করায় কষ্টার্জিত গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। দেশের অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলো অধিকতর বিদেশ নির্র্ভর হওয়ায় বিদেশীরা দেশের অভ্যন্তরীন রাজনীতি ও নীতি নির্ধারণে নাক গলানোর সুযোগ পাচ্ছে। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোতে অলস টাকার পাহাড় থাকলেও দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসছে না। ফলে বিনিয়োগে বিরাজ করছে স্থবিরতা। বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার মত জঘন্য অনাকাংখিত ঘটনায় দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের শিক্ষাজীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন ও পাশ্চাত্য সভ্যতার অনুপ্রবেশে নীতি-নৈতিকতার স্খলন হয়ে যুব সমাজের মুল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে। তাই এহেন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জাতীয় জীবনে প্রকৃত ইসলামী তাহজিব তামাদ্দুন অনুশীলনের কোন বিকল্প নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*