চট্টগ্রামে আতঙ্কিত শিশু মিনার-মারিয়া

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : মিনার (৪) ও মারিয়া (৬) কে নিয়ে বাসায় বসে Minarআছেন দাদী বেগম সামসুন্নাহার (৬৮)। মা খায়রুন জান্নাত গেছেন নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করতে। দিনের বেলায় নির্বাচনী প্রচারনার সময় তার উপর হামলা করেছে হিরণের সন্ত্রাসীরা। আর বাবা কাউন্সিলর মাহফুজুল আলম মামলার জামিন নিতে ঢাকায় অবস্থান করছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা হঠাৎ বাড়ির বাইরে বিকট আওয়াজে সন্ত্রাসীরা বাসার গেইটের সামনে মিছিল করছে, বাসার গেইট, লোহার রড় ও লাঠি ভাঙ্গার চেষ্টা করছে। ভয়ে মিনার ও মারিয়া কান্নাকাটি করছে। কারণ, তারা আর কখনো এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি দেখেনি। পুরো বাড়ি ঘিরে রেখেছে প্রায় ২০০/৩০০ সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীদের সাথে পুলিশকেও দেখা গেছে অতিউৎসাহী। মিনার ও মারিয়ার কান্না পুলিশের কাছে পৌছলেও তাদের যেন কিছুই করার নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এমন ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৩ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ২০দলীয় জোট সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মাহফুজুল আলমের বাসায়। সব সময় বাসায় প্রচুর লোকের আনাগোনা থাকলেও আজ নীরব কেউ বাসায় নেই। কারণ পুলিশ এসে যে কোন সময় যাকে পাবে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাবে। মাহফুজুল আলম জানান, আমি বিগত পাঁচ বছর এই এলাকার কাউন্সিলর থাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এলাকায় আমার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তাই আসন্ন সিটি নির্বাচনে আমি যেন প্রার্থী হতে না পারি সেজন্য আমার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ হোসেন হিরণ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে একাধিক রাজনৈতিক মামলা দিয়েছে। মামলার ঠুনকো অজুহাত দিয়ে নির্বাচন কমিশন আমার প্রার্থীতা বাতিল করলে আমি উচ্চ আদালত থেকে প্রার্থীতা ফিরে পাই। প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার পর থেকে হিরণ ও তার সন্ত্রাসীরা আমার কর্মীদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। প্রতিদিন নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। গত ১০ এপ্রিল আমার প্রচার মাইকে হামলা চালিয়ে প্রচার কর্মী ফারুকসহ তিন জনকে আহত করে। সর্বশেষ গতকাল আমার স্ত্রীসহ ২০/ ২৫ জন মহিলা প্রচারণায় বের হলে ওয়ারলেস ৫নং লাইনে হিরণের সন্ত্রাসীরা মহিলাদের উপর হামলা চালায়। এতে পাঁচজন আহত হয়। তিনি বলেন, এই ঘটনায় আমার স্ত্রী দুপুরে থানায় অভিযোগ দায়ের করে সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ দায়ের করার খবর শুনে হিরণের নির্দেশে তার সন্ত্রাসীরা আমার বাসা ঘেরাও করে রাখে। বাসায় আমার ছোট দুই সন্তান ও আমার বৃদ্ধ মা ছিলেন। এমন অবস্থায় খুলশী থানার পুলিশের কাছে সহযোগিতা চাইলে তারা সহযোগিতা না করে বরং হিরণের পক্ষ অবলস্বন করে। পরে নির্বাচন কমিশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিনকে বিষয়টি জানালে তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*