চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণের ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষককে বাঁচানোর চেষ্টা এবং ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত নেয়ার অভিযোগ অস্বীকাctg_press_meetর করেছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষেদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শাহ। মঙ্গলবার (২৬ মে) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। ঘটনার সঙ্গে আমার ন্যূনতম সম্পৃক্ততা থাকলে এই মুখ আমি আপনাদের দেখাবো না। আমার ঘাড়ে কয়টা মাথা? কেউ সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারলে আমি নিজেই নিজের বিচার করব।’ ১৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মিনাগাজীর টিলা এলাকায়। ধর্ষিতার মায়ের অভিযোগ, তাদের প্রতিবেশি হাজী শাহআলম ফুসলিয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। এতে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে শাহআলমের পরামর্শে তার গর্ভপাত ঘটানো হয়। ৭ মে রাঙ্গুনিয়া থানায় অভিযোগ দাখিলের পর পুলিশ শাহআলমকে গ্রেপ্তার করলেও পরে ছেড়ে দেয়। উল্টো তার ১৪ বছর ৬ মাস বয়সী ছেলেকে আপন বোনের ধর্ষক বানিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেয়। ২৫ মে আদালতে দায়ের করা এক মামলার এজাহারে ধর্ষিতার মা অভিযোগ করেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সরকারি গাড়িতে করে শাহআলমকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। আর রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হুমায়ন কবির ও এস আই মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় টাকার বিনিময়ে শাহআলমকে বাদ দিয়ে ধর্ষিতার বড় ভাইকে ধর্ষক সাজিয়ে গ্রেপ্তার করেছে। ধর্ষিতার মায়ের দায়ের করা মামলার এজাহারে নাম আসার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মোহাম্মদ আলী শাহ। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমি কি এতই ক্ষমতাধর যে আমার কথায় ওসি মামলা করবে, তা-ও আবার ভিকটিমের ভাইকে আসামি করে? ওসি কেন আমার কথায় প্রভাবিত হবে? উনি কি আমার অধীনে চাকুরি করেন?’ অভিযুক্ত ধর্ষক শাহআলমকে নিজের গাড়িতে করে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার অভিযোগ নাকচ করে আলী শাহ বলেন, ‘এটা বানোয়াট, কল্পকাহিনী। বর্তমান ওসি রাঙ্গুনিয়ায় যোগদানের পর আমি কোনদিন থানায়ও যাইনি।’ হাজী শাহআলমের বাড়িঘরও মোহাম্মদ আলী শাহ চেনেন না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং ধর্ষিতার নিরীহ ভাইয়ের মুক্তির দাবি জানিয়ে আলী শাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া আর কোন জনপ্রতিনিধি এ পর্যন্ত এই অমানবিক, বর্বর, নিষ্ঠুর ঘটনার প্রতিবাদ করেনি।’ রাঙ্গুনিয়া থেকে নির্বাচিত বর্তমান সাংসদ হলেন সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব আছে বলে এলাকায় আলোচনা আছে। আলী শাহ’র দাবি, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে গতানুগাতিক মোড়লিপনার রাজনীতি পাল্টে দিয়েছেন। দিনমজুর, ভিখারি, রিক্সাওয়ালা সবাইকে পাশে বসতে দেন। এজন্য তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে মানুষের কাছে তাকে বিতর্কিত করার জন্য একটি মহল হীন চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে কারা জড়িত তা সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেননি মোহাম্মদ আলী শাহ। সংবাদ সম্মেলনে আলী শাহ বলেন, ‘আশির দশক থেকে লড়াই-সংগ্রাম করে আজকের মোহাম্মদ আলী শাহ’র জনম। টাকা ও অর্থের কাছে সেদিনও বিক্রি হয়নি, আজ কেন মাত্র এক-দুই লাখ টাকার জন্য বিক্রি হব?’ সংবাদ সম্মেলনে একাই উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী শাহ। মঞ্চে এই নেতার পাশে আওয়ামী লীগের আর কোন নেতাকর্মী ছিলেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*