চট্টগ্রামের মেয়ে ইলাকে ছেড়ে স্বামী অশোক জার্মানীতে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১২ নভেম্বর: চুয়েট থেকে পাশ করা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার অশোক কুমার দাশের সঙ্গে ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর ঘর বেঁধেছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ইলা রাণী দাশ। স্বামীর ঘর হবে স্বর্গসুখের-আর দশজন বাঙালি তরুণীর মতো এক বুক স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু ইলার ভাগ্যে সেটা লেখা ছিল না। Rani
বিয়ের এক বছরের মাথায় উচ্চশিক্ষিত অশোক জার্মানিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য বাবার কাছ থেকে টাকা আনতে ইলা’র ওপর শুরু করে অত্যাচার। শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হন ইলা। এক পর্যায়ে ইলাকে না জানিয়েই জার্মানিতে পাড়ি জমায় অশোক। স্বামীকে ফিরে পাবার জন্য পাগলের মত ছুটে বেড়ান ইলা। শেষ পর্যন্ত তাকে আদালত আর আর্ন্তজাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। তবুও শেষ হয়নি স্বামীকে ফিরে পাবার জন্য ইলা’র যুদ্ধ।
ইলা রাণী দাশ বলেন, অশোককে ফেরানোর জন্য আমি অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে আমার কোন কথাই শুনছে না। আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে গেছি। তারাও আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। স্বামীকে ফিরে পাবার কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে আমি ইন্টারপোলের কাছে গেছি।
ইলা পদ্মা অয়েল কোম্পানির কর্মকর্তা সমর কান্তি দাশের মেয়ে। তাদের বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার উত্তর ফতেয়াবাদ গ্রামে। অশোক কুমার দাশ সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া গ্রামের শ্যামমুহুরী হাটের অমল কান্তি দাশের ছেলে।
ইলা জানান, চুয়েট থেকে পাশ করলেও বড় কোন চাকুরি করত না অশোক। কারও অধীনে চাকুরি করাকে অসম্মানজনক মনে করত সে। বিয়ের পর থেকেই বিদেশে চলে যাবার কথা বলত। ২০০৯ সালের ৭ আগস্ট বেড়ানোর জন্য জার্মানিতে যান স্বামী-স্ত্রী। সেদেশে বসবাসরত ইলা’র চাচা মূলত তাদের নিয়ে যান। এরপর থেকে জার্মানিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বাসনা জাগে অশোকের। কিন্তু ব্যাংক সলভেন্সি ছিল না। ২০ লক্ষ টাকার সংস্থান করতে ইলা’র ওপর নেমে আসে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: