চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় গণপরিবহনে রাজনৈতিক সহিংসতায় ২ জন নিহত আহত ১১৯

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : গত ২২ দিন ধরে টানা অবরোধ ও ১০ দিনের হরতালে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গণপরিবহনে রাজনৈতিক সহিংসতায় ২ জন নিহত ও2 ১১৯ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে অগ্নিদগ্ধ হয়েছে ২২ জন। তাদের মধ্যে ১৫ জন যাত্রী ও ৭ জন পরিবহন চালক শ্রমিক রয়েছে। অন্যরা সহিংস আক্রমণের শিকার হয়ে আহত হয়েছে। এ সময় ১১টি বাস, মিনিবাস, হিউম্যানহলার, ১৬টি ট্রাক ও কার্ভাড ভ্যান, ১৪টি সিএনজি-অটোরিক্সা সহ অন্যান্য যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এছাড়াও ভাংচুর করা হয়েছে ১৪ টি বাস-মিনিবাস ও হিউম্যানহলার, ৩১টি ট্রাক ও কার্ভাড ভ্যান, ৭৮টি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, মোটর সাইকেল, কার ও অন্যান্য যানবাহন। একই সময়ে রেল পথে ৫দফা নাশকতা চালায় দু®কৃতিকারীরা। এতে করে গণপরিবহণ ব্যবহারকারী প্রতিটি যাত্রী ও চালক চরম আতংকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে যাতায়াত করছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। দেশের সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কর্মরত এ সংগঠনের রাজনৈতিক সহিংসতা নিরসন কর্মসূচির আওতায় যাত্রী-গণপরিবহন জিম্মি করে রাজনীতি ও সহিংসতা প্রতিবেদন-২০১৫ প্রকাশ উপলক্ষে গণমাধ্যমে1 প্রেরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। চট্টগ্রামের বিভিন্ন আঞ্চলিক দৈনিকে প্রকাশিত রাজনৈতিক সহিংসতার সংবাদ মনিটরিং করে সংগঠনের পক্ষ থেকে আরো বলা হয় গত টানা ২২ দিনের অবরোধ ও ১০ দিনের হরতালে সারাদেশের পরিবহন খাতে ৭০৪০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ সময় গণপরিবহনের ভয়াবহ সংকটে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। যেসব যানবাহন রাস্তায় নামছে তাতে জীবনের ঝুঁকির সাথে যাত্রীদের দ্বিগুণ-তিনগুণ অতিরিক্ত ভাড়াও গুণতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয় গত ৫ জানুয়ারি সরকারের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই রাজনৈতিক সহিংসতা চট্টগ্রামে ৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়। ওই দিন নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ঢাকামুখী সকল বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়াও ২ জানুয়ারি ষোলশহর রেল ষ্টেশনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী সাটল ট্রেনের হোস পাইপ কেটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীরা। ৮ জানুয়ারি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অবরোধকারীরা রেল লাইনের ফিসপ্লেট খুলে ফেললে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ৭৫ জন যাত্রী মারাত্মক ভাবে আহত হয়। একই দিন চট্টগ্রামে লোহাগড়ায় পর্যটন বাহী বাসে পেট্টোল বোমা হামলায় ৩ পর্যটক গুরুতর আহত হয়। ১২ জানুয়ারি মিরসরাইয়ে ট্রাকে পেট্টোল বোমা হামলায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে এনামুল হক (৩৬) নামে এক যাত্রী নিহত ও ২ জন আহত হয়। ১৪ জানুয়ারি লোহাগড়ায় পিকেটিং করতে গিয়ে কার্ভাড ভ্যান চাপায় মো: জোবায়ের (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়। একই দিন সীতাকুন্ডে দুবৃত্তদের ছোড়া পেট্টোল বোমা হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে চিত্র নায়িকা মৌসুমীসহ অন্যান্য শিল্পী কলাকুশলীরা। ব্ল্যাকমানি চলচ্চিত্র ইউনিটের গাড়ী লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা পেট্টোলবোমা হামলা চালালে অল্পের জন্য তারা রক্ষা পায়। ২০ জানুয়ারী চট্টগ্রামে চন্দনাইশে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আসিফ ইমতিয়াজ এর গাড়ী ভাংচুর করে অবরোধকারীরা। একই দিন কর্তব্যরত অবস্থায় পেট্টোল বোমা হামলার শিকার গুরুতর আহত হন নগরীর চান্দগাঁও থানার তিন পুলিশ সদস্য। এছাড়াও গত ২২ দিনের রাজনৈতিক সহিংসতায় নগরী ও জেলার ২৭টি স্পর্টে সড়কে আগুন দিয়েছে অবরোধ সমর্থকরা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: