চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাগান বাজার ইউপি চেয়ারম্যান রুস্তম আলীর সংবাদ সম্মেলন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৭ ফেব্র“য়ারী: ফটিকছড়ির বাগান বাজার ইউনিয়নের টানা পাঁচবার নির্বাচিত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মো. রুস্তম আলী আজ ৭ ফেব্র“য়ারি এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবী করেন, তাকে গাড়ি চাপায় হত্যা চেষ্টার মূলহোতা শাহাদাত হোসেন সাজু ও সহযোগীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। DSC_0077
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকাল চারটায় আমি চিকনছড়া হতে মোটরসাইকেল করে করালিয়া তাকিয়ায় অনুষ্ঠিত ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার জন্য রওনা হই। কিন্তু আনুমানিক এক কিলোমিটার পথ যাওয়ার পর বশির ড্রাইভারের বাড়ির পাশে (চাবিদ আলী ঢালু নামে পরিচিত) পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পিকআপ আমাকে চাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে হঠাৎ বেপরোয়া গতিতে ছুঁটে আসে। ওই অবস্থায় আমি প্রাণ রক্ষার জন্য মোটরসাইকেল সড়কের অন্যদিকে নিয়ে গেলে পিকআপটিও গতিপথ পরিবর্তন করে। তখন পিকআপের বাম্পারের ধাক্কায় আমি এবং আমার সহযাত্রী বাচ্চু মিয়া মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের ঢালে গড়িয়ে পড়ে যাই। দুইজনেই শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেলেও গুরুতর দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাই। ওই সময় একটি বিকট শব্দও শুনতে পাওয়া যায়। ফলে অত্যধিক আতংকে আমি সজোরে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার দিতে থাকি। তখন স্থানীয় লোকজন ও চলাচলরত বিভিন্ন গাড়ির যাত্রীরা জড়ো হয়ে আমাকে উদ্ধার করে। পাশাপাশি তারা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে গাড়ির চালক খোরশেদ আলমকে ধরে ফেলেন। এ সময় লোকালয়ে মিশে গিয়ে চালকের অন্যান্য সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে ভূজপুর থানার দাঁতমারা তদন্তকেন্দ্রের সাব ইন্সপেক্টর (এস আই) আবদুল বাতেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে চালক খোরশেদ আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ওই সময় চালকের কাছ থেকে দুইটি মোবাইল ফোনও জব্দ করে পুলিশ। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে বলে আমি জানতে পারি। 120
তিনি আরো বলেন, পুলিশের জব্দ করা মোবাইলের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, পশ্চিম গজারিয়া গ্রামের মরহুম আলী আজম সরকারের ছেলে শাহাদাত হোসেন সাজুর প্ররোচনায় আমাকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালান পিকআপ চালক খোরশেদ আলম। এ সংক্রান্ত বেশকিছু কথোপকোথনের রেকডিং সংরক্ষিত ছিল জব্দ মোবাইলে। এছাড়া ওইদিন অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারি চালক খোরশেদ আলম ৪৪ বার ডায়াল করেন শাহাদাত হোসেন সাজুর মোবাইল ফোনে। পাশাপাশি শাহাদাত হোসেন সাজুর ৩৩ বার কল রিসিভ করেন চালক খোরশেদ আলম। যা থেকে আমাকে হত্যা চেষ্টার মূলহোতা কে? তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। তাছাড়া খোরশেদ আলম তার জবানবন্দিতে স্বীকার করেন যে, সে শাহাদাত হোসেন সাজুর নির্দেশে আমি এবং আমার বড় ছেলে উত্তর জেলা ছাত্রলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামকে হত্যার সুযোগ খোঁজছিলেন দীর্ঘদিন থেকে। ২৮ জানুয়ারির ঘটনা তারই অংশ। যেই পিকআপ দিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় ওই পিকআপটি শাহাদাত হোসেন সাজু কিনে দেন বলেও স্বীকার করেন খোরশেদ আলম। হত্যার মিশন সফল করতে পারলে সাজু নগদ আরও দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায়ের অঙ্গীকার করেন খোরশেদের কাছে। ইতোমধ্যে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধও করেন সাজু। যা দুইজনের কথোপকোথন ও পুলিশের কাছে দেওয়া খোরশেদ আলমের তথ্যে জানা যায়। এসব বিষয় প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও স্বীকার করেন খোরশেদ আলম।130
লিখিত বক্তব্যে আরো উল্লেখ করা হয়, শাহাদাত হোসেন সাজু দীর্ঘদিন থেকে আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে ক্ষতি করার চেষ্টায় লিপ্ত। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে স্বাধীনতা বিরোধীদের সহায়তায় সাজু আমার বাড়িঘর লুট করেন। বর্তমানে সে নিজেকে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি দাবি করছেন। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে সাজু প্রকাশ্যে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। যা বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রাকে বাঁধাগ্রস্ত করছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিগত ১৯৮৬ সাল থেকে এলাকাবাসীর ভালোবাসা, আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে আমি ধারাবাহিকভাবে পাঁচবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। সেই থেকে আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে এলাকাবাসীর সুখ দুঃখের সাথী হয়ে পাশে থাকার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যা আজও অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আমি উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু আমার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল নানাভাবে আমাকে ঘায়েল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন দীর্ঘদিন থেকে। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের কাছে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা প্রত্যাশা করেন।140
সংবাদ সম্মেলনে অন্যানোর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম সোলাইমান বি.কম, উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বখতেয়ার সাঈদ ইরান, মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. মাহমুদ হাসান, দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানে আলম, নারায়ন হাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদ, হারুয়াল ছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সরওয়ার আজম চৌধুরী, ফটিকছড়ি মৎস্যজীবী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ হারুন, আজকের প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বোরহান আহমেদ, উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পরিবেশ ও বন বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ফটিকছড়ি প্রেসক্লাবের সদস্য আবু মনসুর প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*