চট্টগ্রামের নতুন ফিশারিঘাটের বৈধ বাজারটি নিয়ে স্বার্থন্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ইংরেজী, রবিবার: চট্টগ্রামের নতুন ফিশারিঘাট রক্ষার দাবি করেছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। শেখ হাসিনার উন্নয়ন বিদ্বেশী একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন চট্টগ্রামের বুকে গড়ে উঠা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও মৎস্য বাজারটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। আজ ১০ ফেব্রুয়ারী রবিবার দুপুরে নতুন ফিশারিঘাটে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানায় ফিশারিঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবি লীগ ও সোনালী যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতি। নতুন ফিশারিঘাট এলাকা থেকে মৎস্যজীবীদের বিতারণ ষড়যন্ত্র ও হয়রানির প্রতিবাদে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে মাছের আড়ৎদার ছাড়াও মৎস্য আহরণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. আমিনুল হক (বাবুল সরকার) বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির মালিকানাধীন পাথরঘাটার ইকবাল রোড ফিশারিঘাটে দীর্ঘদিন ধরে পাইকারী মৎস্য বাজার পরিচালনা করে আসছিল। কালক্রমে জনসংখ্য বৃদ্ধি, ব্যবসার প্রসার লাভের কারণে উক্ত বাজারটি স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। এখানে মৎস্য সরবরাহকারী ও গভীর সমুদ্র হতে আরোহিত মৎস্য যথাসময়ে বাজারের আনা নেওয়ার খরচ বৃদ্ধি ও মাছের গুণগতমান ক্ষুন্ন হওয়ায় ব্যবসায়ীগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদেশী ক্রেতাগণ বিভিন্ন সময় বাজার পরিদর্শন করে বাজারের নানা সমস্যা ও নোংরা পরিবেশের জন্য বরাবরই আপত্তি দিয়ে আসছিলেন। তাছাড়া প্রতিনিয়ত যানজটের কারণে পাথরঘাটায় অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীসহ সর্ব সাধারণের মধ্যে জনদুর্ভোগ দেখা দেয়। তাছাড়া ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কারণে নদীতে যত্রতত্র ফিশিং বোট ও ট্রলার নোঙ্গর করে থাকায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষ নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন ঘাট বন্ধ করে দেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় অতিসম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে ৩.৯৭৭৫ একর জমি লীজ নিয়ে যুগ ও সময়ের প্রয়োজনে চট্টগ্রামে একটি পরিবেশ বান্ধব আন্তর্জাতিক মানের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও মৎস্য বাজার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যা চট্টগ্রাম বাসীর জন্য একটি গর্বের বিষয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করে। বন্দর কর্তৃপক্ষকে উক্ত লিজ ভূমির বার্ষিক খাজনা ও জামানত বাবদ প্রায় ১ কোটি টাকার অধিক পরিশোধ করা হয়েছে এবং উক্ত জমির বার্ষিক ভাড়া বাবদ ৩২ লক্ষ টাকা প্রদান করা হচ্ছে। উক্ত মৎস্য বাজারটি আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন ও পরিবেশ সম্মতভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এখানে খোলামেলা পরিবেশে এবং স্বাস্থ্য সম্মতভাবে সোনালী যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবি লীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখা এবং অন্যান্য সমিতির সদস্যদের নিজ ব্যয়ে মৎস্য আড়ত নির্মাণ করা হয়। তাছাড়া মৎস্যের গুণগত মান রক্ষার জন্য এখানে যুগোপযোগী চাহিদা মত বরফকল ও মৎস্য হিমাগার নির্মাণ করা হয়। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো জানান, শেখ হাসিনার উন্নয়ন বিদ্বেশী একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন চট্টগ্রামের বুকে গড়ে উঠা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও মৎস্য বাজারটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় উক্ত চক্র মিথ্যা তথ্য ও ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ ও জনসাধারণকে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে বাবুল সরকার আরো জানান, বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির ব্যানারে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হতে বার্ষিক ইজারা নিয়ে বৈধভাবে উক্ত বাজারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে সমিতির কেউ সরকারের জায়গা দখল করে বা জায়গার মালিক সেজে বাজার প্রতিষ্ঠা করেনি। বন্দরের ভাড়াটিয়া হিসেবে বন্দর কর্তৃপক্ষকে বার্ষিক ভাড়া দিয়ে সমিতির উক্ত জায়গায় অবস্থান করছে। সুতরাং অবৈধভাবে জায়গা দখল করে মৎস্য বাজার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া বারবার খালের মোহনা দখলের কথা বলে যে অপবাদ দেয়া হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এখানে প্রকৃত সত্য হলো বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের আওতায় চাক্তাই রাজাখালী খালের মোহনার দুইপাড়ে সিসি ব্লক দ্বারা বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরাই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে, যার কারণে খালের মোহনা আরো প্রশস্ত হয়েছে। সুতরাং এখানে দখলের প্রশ্নই আসে না।
তিনি আরো জানান, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও বাজারটি ঘিরে বর্তমানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয়। সুতরাং বৈধ বাজারটি নিয়ে স্বার্থন্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে যা দেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের বিরুদ্ধে কুঠারাগাত ছাড়া আর কিছু নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*