চট্টগ্রামের টেরী বাজারে মা মনসা মন্দিরে সন্ত্রাসী হমলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২১ জুলাই: চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের টেরীবাজারস্থ শতাব্দীর প্রাচীন শ্রী শ্রী মা মনসা দেবীর বিগ্রহ মন্দিরে হামলা চালিয়ে মন্দিরের পুরোহিতসহ নারী-পুরুষদের উপর ন্যাক্কারজনক আক্রমণ ও মন্দিরে ভাংচুরের প্রতিবাদে আজ ২০ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২ টায় এক সংবাদ সম্মেলন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জহুরলাল চক্রবর্ত্তী বলেন, দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার যেখানে পুরোহিত,press 5 সেবায়েত অপহরণ, হত্যা ও মন্দির ভাঙ্গচুরের জন্য কঠোর অবস্থানে, সেখানে ঐ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হিন্দু সম্প্রদায়কে দেশ ত্যাগের জন্য উৎসাহিত বই অন্য কিছু নহে এবং তা সরকারের অস্থিতিশীল ও প্রশাসনকে অকার্যকর দেখানোর অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয় বলে লিখিত বক্তেব্যে উল্লেখ করেন। লিখিত বক্তব্যে আরো জানান দেশ যখন উন্নয়নের উচ্চ শিখড়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা রুখে দিতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে দু:স্কৃতকারীরা। একের পর এক মসজিদ, মন্দির, গীর্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি হামলা ও গুপ্ত হত্যা চালিয়ে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের সচেতন মানুষকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ কোন ধর্ম সমর্থন করে না। টেরীবাজার মা মনসার শতবর্ষী মন্দিরের ভূমি আত্মসাৎ করে যারা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের পাঁয়তারা করছে সন্ত্রাসী লেলিয়ে তারা ধর্মদ্রোহী, রাষ্ট্রদ্রোহী সমাজের শত্র“, মানবতার শত্র“। তাদের কোন জাত নেই। বক্তারা অবিলম্বে মনসা মন্দিরে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ভাংচুরকারী মন্দিরের পুরোহিতকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধরকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীPress 1 ভূমিদস্যুদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবী জানান। টেরীবাজার মনসা মন্দিরে হামলাকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী উজ্জ্বল কুমার চন্দ্রের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জনের সন্ত্রাসী গত ১৫ জুলাই মন্দিরে হামলা চালিয়ে মন্দির ভাঙ্গচুর করে এবং সেবায়েত ও তার মাসহ অনেককে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে থানায় মামলা নেয়া হয়নি। কিন্তু বিবাদীর মামলা গ্রহণ করে। পরে সেবায়েত আদালতে মামলা দায়ের করে। হামলায় বসতবাড়ী ও মন্দিরের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আক্রমণকালে সন্ত্রাসীরা মন্দিরে স্থিত প্রণামী বক্সে মন্দিরের উন্নয়নের জন্য সংগ্রহকৃত ২ লক্ষ টাকাসহ মন্দিরে রক্ষিত স্বর্ণালংকার ও রূপা, তামাসহ বহু মূল্যবান জিনিসপত্র ও দলিলাদী নিয়ে যায়। ঘটনার দিন হতে এ পর্যন্ত সেবায়েত পরিবারবর্গ নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অনাহারে অনিদ্রায় জীবন যাপন করছে বলেও উল্লেখ করেন। এর আগেও মঠ মন্দির, গীর্জাসহ অসংখ্য মন্দিরের হামলার সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের অবহেলা ও পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাবের কারণে দু:স্কৃতিকারীরা ক্রমান্বয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের নিকট আকুল আবেদন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক সুষ্ঠু বিচার করে বিহীত ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।Photo 10
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম জেলা হিন্দু মহাজোটের সমন্বয়কারী জহুরলাল চক্রবর্ত্তী। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী সেবক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্রী তপন চক্রবর্ত্তী, জেলা হিন্দু মহাজোটের সহ-সভাপতি শ্রী চন্দন চক্রবর্ত্তী, শ্রীমৎ সূর্যানন্দ ব্রহ্মচারী, চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক রেজাউল করিম রেজা, বৃহত্তর চট্টগ্রাম শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী সেবক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল দাশ রানা, মন্দিরের পুরোহিত শ্রী স্বপন আচার্য্য, তপন আচার্য্য, সুভাষ আচার্য্য, রাজীব দাশ সুজয়, মানবেন্দ্র সেন কালু, রাজীব বিশ্বাস, চট্টগ্রাম মহানগর সাংস্কৃতিক পার্টির সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন স্বপন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*