চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম পরিবর্তন ও নামফলক থেকে জিয়ার নাম মুছে ফেলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ইংরেজী, মঙ্গলবার: চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ীস্থ জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করার সরকারী সিদ্ধান্ত ও নামফলক থেকে ছাত্রলীগ কর্তৃক জিয়ার নাম মুছে ফেলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, উপদেষ্টা বেগম রোজী কবীর, গোলাম আকবর খন্দকার, এস এম ফজলুল হক ফজু, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। আজ ১২ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অসাধারণ দেশপ্রেমিক, অসীম সাহসিকতা, সততা, নিষ্ঠা ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক জিয়াউর রহমানের অবদান দেশের জন্য অসমান্য। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টরের কমান্ডার ও জেডফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। তিনি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের বিশ্ব মানচিত্রে ব্যাপকভাবে পরিচিত করিয়েছেন স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে। জাতির মার্যদাকে বিশ্বব্যাপি প্রশংসিত করিয়েছেন তার শাসন আমলে। বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের সৈনিক ও রাজনৈতিক জীবনের সততা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রম প্রতিটি মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবেও তার পরিচিতি সর্বজনবিদিত। সময়ের পরিক্ষায় উত্তির্ণ হয়েছে তার রাজনৈতিক দর্শন ও দিকনির্দেশনা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপি দেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সর্বাধিক সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে সিপাহী-জনতার মিলিত প্রয়াসে জিয়াউর রহমান দেশের হাল ধরেছিলেন। রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে আমৃত্যু চেষ্টা চালিয়েছিলেন। জাতির মধ্যে একটি উদ্দীপনা সৃষ্টি করে তাদেরকে জাগিয়ে তুলতে তিনি সফল হয়েছিলেন। দেশের সকল সংকট মুহূর্তে তিনি ত্রাণকর্তা হিসেবে বার বার অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামীলীগের নেতারা মুখেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কাথা বলেন কিন্তু আসলে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। সেইজন্যই একজন সেক্টর কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের নামফলক মুছে ফেলার মত ধৃষ্টতা স্থাপন করে গোটা মুক্তিযুদ্ধকে অপমানিত করেছে। তাদের এই উচ্ছৃংখল কর্মকান্ড বাংলাদেশের রাজনীতিকে বিপজ্জনক যুগে নিয়ে যাচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রামের সার্কিট হাউস জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্থান। এই সার্কিট হাউসেই তিনি নিহত হয়েছিলেন। সার্কিট হাউসের সাথে শহীদ জিয়ার রক্ত মিশে আছে। নামফলক থেকে জিয়ার নাম মুছে ফেললেও বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় থেকে জিয়ার নাম মুছে ফেলা যাবে না। চট্টগ্রামের জনগণ সরকারের এ হঠকারী সিদ্ধান্ত কখনোই মেনে নেবে না। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জিয়া স্মৃতি যাদুঘরের নাম ফলকে পুনরায় শহীদ জিয়ার নাম পুন:স্থাপন করে নাম পরিবর্তনের সরকারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহবান জানান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: