চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকায় কবরস্থানের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩ এপ্রিল ২০১৯ ইংরেজী, বুধবার: চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় সিডিএ কর্তৃক স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বরাদ্দকৃত কবরস্থানের জায়গায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক ছাত্রনেতা সাফায়েত উল হক জাবেদ ও নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফারুক ইসলাম সাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ সোমবার দুপুরে সিডিএ চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম বরাবর জমা দেওয়া হয়৷ তিনি অভিযোগ গ্রহণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অথরাইজ অফিসার-০২ ও চান্দগাঁও জোনের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। কিন্তু এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বন্ধ করা হয়নি নির্মাণ কাজ। ঘুমিয়ে আছে সিডিএ এমন মন্তব্য করেন স্থানীয়রা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,
চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা বি-ব্লকস্থ জামে মসজিদ কমপ্লেক্স এর উত্তর পাশে বিশাল জায়গা জুড়ে ইতিমধ্যে আনুমানিক ১০ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের পাইলিং সম্পন্ন হয়েছে। এখন পিলার উঠানো হচ্ছে, কিছুদিনের মধ্যে প্রথম তলার ছাদ দাঁড়িয়ে যাবে। অথচ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এছাড়াও যেহেতু এটা কবরস্থানের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা, এখানে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তবুও ভূমিদস্যুরা তৎপর। তাদের নজর থেকে বাদ যাচ্ছে না কবরস্থান পর্যন্ত। যেখানে শুয়ে আছে অনেক মুসলিম। যে জায়গায় আবাসিক এলাকা হবার আগে থেকেই শত বছরের পুরনো কবর ছিল। নির্মাণ হচ্ছে দশ তলা এপার্টমেন্ট। তবে নীচতলায় অজুখানা, দ্বিতীয় তলায় স্টাফ রুম রাখা হবে প্রচার করে স্থানীয়দের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, যেন কেউ প্রতিবাদ না করে। এটা ক্যাবল কৌশল মাত্র। মূলত এটি বহুতল এপার্টমেন্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। যেখানে ফ্ল্যাট বাসা যা বিক্রয় বা ভাড়া দিয়ে অর্থ লাভের অসৎ উদ্দেশ্য। কবরস্থান একটি পবিত্র জায়গা। বাণিজ্যিক স্থাপনা হলে মানুষ এখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করবে, যা কিছুতেই সমর্থন যোগ্য নয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আসে এহেন অন্যায় কার্যকলাপ বন্ধ করা একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
অনুমোদন ছাড়া যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ বেআইনি। তার উপর এটি কবরস্থানের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা। কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করেই গড়ে তোলা হচ্ছে এই বহুতল ভবন। দ্রুত গতিতে উঠে যাচ্ছে পিলার ও ছাদ। অচীরেই দাঁড়িয়ে যাবে অবৈধ এই স্থাপনা। এখানে মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের নাম ব্যবহার করা হলেও মূলহোতা জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা। তার মালিকানাধীন একটি ফাউন্ডেশনের নামে অর্থায়ন করা হচ্ছে এই স্থাপনা নির্মাণে। জানা যায়, এই ফাউন্ডেশন সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত নয়। সরকারকে রীতিমতো বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যা খুশি তাই করছেন এই জামায়াত নেতা। কয়েকবছর আগে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার বর্ধিত অংশ (বহদ্দারহাট মোড় থেকে পেপসি মোড় পর্যন্ত অংশ) নির্মাণে সিডিএ-কে চুক্তি ভিত্তিক দশ কোটি টাকা লোন দেওয়ার একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে পত্রিকার মাধ্যমে অত্র এলাকায় হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের প্রস্তাব রাখে, যা নিজস্ব লোক দিয়ে তোলা হবে এবং নিজস্ব উদ্যোগে উন্নয়ন কাজ করার প্রস্তাব রাখে। যা সরকার তথা কর্তৃপক্ষকে অসম্মান ও হেয় করার সামিল। কথিত এই ব্যক্তির এহেন বিতর্কিত ও অন্যায় কার্যকলাপ কিছুতেই গ্রহণ যোগ্য নয়। সেই জামায়াত নেতার অর্থের উৎস ও যাবতীয় কর্মকাণ্ড সরকারের সংশ্লিষ্টদের খতিয়ে দেখা উচিৎ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: