‘চট্টগ্রামকে গ্লোবাল সিটি করতে বুদ্ধিদীপ্ত নগর ভাবনা জরুরী’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : চট্টগ্রামকে গ্লোবাল সিটিটে রূপ দিতে বুদ্ধিদীপ্ত-উদ্ভাবনী নগর ভাবনা জরুরী উল্লেখ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিলুর ctg_smরহমান বলেছেন, জলবদ্ধতা, যানজট, নোংরা পরিবেশ ও নিরাপত্তাহীনতা নগরীর বহুল চিহ্নিত সমস্যা। এগুলোর কার্যকর সমাধান ছাড়া বিশ্বমানের নগর গড়া সম্ভব নয়। সোমবার চিটাগাং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে চিটাগাং রিসার্চ ইনেশিয়েটিভে আয়োজিত উন্মুক্ত আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও চিটাগাং রিসার্চ ইনেশিয়েটিভের সম্বয়ক ড. হোসেন জিলুর রহমান, স্বাগত বক্তব্য দেন সিআইইউ’র উপাচার্য ড. ইরশাদ কামাল খান। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেরিন অ্যাকাডেমির কমান্ড্যান্ট ড. সাজিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালিক, ডা. মইনুল ইসলাম মাহমুদ ও ড. শামসুল হোসাইন। ‘চিটাগাং স্ট্র্যাটেজি ফর ফ্রেন্ডলি গ্লোবাল সিটি’ শীর্ষক এ উন্মুক্ত আলোচনায় তরুণরা নগরীকে গ্লোবাল সিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাদের চিন্তাভাবনাগুলো তুলে ধরেন। ড. হোসেন জিলুর রহমান বলেন, বিশ্বমানের নগরী গড়া শুধু পরিকল্পনাবিদদের কাজ নয়। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা- প্রজন্মের বুদ্ধিদীপ্ত ও উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলনে সত্যিকার গ্লোবাল সিটি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। যুব সম্পৃক্ততার অন্যতম ক্ষেত্র হল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রী ও নবীন চাকরি উদ্যোক্তারা। তিনি বলেন, তরুণদের ভাবনাগুলো আমরা শুনতে চাই। তাদের নানা সমস্যার সমাধানের জন্য চট্টগ্রামে একটি মেন্টর কমিটি গঠন করার চেষ্টা করা হবে। যারা তরুণদের নানা বিষয়ে পরামর্শ দিবে। এছাড়া গবেষণার কোন বিকল্প নেই। গবেষণার মাধ্যমে নতুন আবিস্কার জরুরি। তরুণদের চেতনায় কিছু সিটি ল্যান্ড মার্কস আছে যা গ্লোবাল সিটি ব্রান্ডিং এর অপরিহার্য দিক। অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্বমানের নগরী গড়তে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা সহ নগর জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, উন্নত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করণ, তরুণ প্রজন্মের জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ, শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য হ্রাস, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অবশ্যই করতে হবে। নগরীতে নির্মিত ফ্লাইওভারগুলোর আদৌ কোন প্রয়োজন আছে কিনা তা ভেবে দেখা দরকার। শিক্ষার্থীদের জন্য পার্টটাইম চাকুরির সুযোগ নিশ্চিত করা, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, তরুণ উদ্যেক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান সহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে তাদের কথায়। ডা. মইনুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, মানুষ সব সময় উপরের দিকে দেখে। আমরা সব সময় ঢাকার সাথে নিজেদের তুলনা করি। কিন্তু এই ভাবে গ্লোবাল সিটি হবে না। রাঙ্গামাটি বা কাপ্তাইয়ের একটা ছেলের প্রেক্ষাপটে আমাদের ভাবতে হবে। চট্টগ্রামের মত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঢাকায় নেই। আমাদের এসব কাজ লাগাতে হবে। ড. সাজিদ হোসেন বলেন, তরুণরা এগিয়ে যাবার সময় নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। এসময় তাদের দরকার হয় একজন উপযুক্ত মেন্টরের। চট্টগ্রামে এই সুযোগ তৈরির জন্য আমরা চেষ্টা করছি। একটা ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হবে। তরুণরা বিনামূল্যে এই সেবা পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*