চকরিয়ায় ৩ মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে পাষণ্ড বাবা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে পাষণ্ড পিতা। নিহতরা হলো আয়েশা ছিদ্দিকী (১১), শিউলি জান্নাত (৯) daughterও তাহেরা জান্নাত (২)। এ ঘটনার পর স্বামী স্ত্রী উভয়ে পলাতক রয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চকরিয়ার বদরখালী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের নিদানতড়নি এলাকায় এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় আবদুল গনির সঙ্গে একই এলাকার আমেনা বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে। এদিকে আমেনা বেগম সম্প্রতি অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের কারণে আমেনা উধাও হয়ে যায়। আবার আমেনা ফিরে আসলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের জের ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ঘটায়। বৃহস্পতিবার রাতে এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য খাইরুল বশরের উপস্থিতিতে শালিশ বিচারও হয়। মা ফাতেমা বেগমের ভাষ্য, হত্যার পর বাবা আব্দুল গনি তার (ফাতেমা) ভাই আজগর আলীকে ফোন করেন। ফাতেমাকে বাড়ীতে গিয়ে সন্তানদের দেখে যেতে বলেন। পরে তারা বাড়ীতে গিয়ে সন্তানদের লাশ দেখতে পান। মা ফাতেমা বেগমের তথ্যমতে, স্বামী আব্দুল গনির সঙ্গে তার এক বছর ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। স্বামী আব্দুল গনি প্রায়ই তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন। তিন-চারদিন ধরে স্বামী বাসায় কোনো টাকাপয়সা দিতেন না। খাবারের জোগাড়ও করেননি। গতকাল সকালে ফাতেমা বেগম ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) এই ঘটনার বিচার দিতে যান। চেয়ারম্যানকে না পেয়ে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য খায়রুল বাশারের কাছে অভিযোগ করেন। আব্দুল গনিকে ডেকে এনে বকাঝকা করেন খায়রুল বাশার। এ সময় আব্দুল গনি স্ত্রীকে মেরে ফেলবেন বলে হুমকি দেন বলে বাশার জানিয়েছেন। ফাতেমার ভাষ্য, খায়রুল বাশার তাকে গতকাল রাতে বাসায় থাকতে নিষেধ করেন। এ কারণে তিনি নিদারতরনীতেই তার নানির বাড়ীতে থাকেন। ভোরের দিকে তার ভাই আজগর আলীকে স্বামী ফোন করেন। তিনি তাকে বলেন, ফাতেমা যেন সন্তানদের এসে দেখে যায়। পরে তারা গিয়ে তিন সন্তানের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। আব্দুল গনি ও ফাতেমার ১২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তার নাম রিফাত। সে ছোটবেলা থেকে নানার বাড়ীতে থাকে। নিহত তিন শিশুর লাশ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চকরিয়া থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাস চন্দ ধর ঘটনাস্থল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সূত্র : শীর্ষ নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*