গ্রেফতারের হুমকিতেও আন্দোলনে অনড় খালেদা জিয়া

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : গ্রেফতারের হুমকি আমলে নিচ্ছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে নেয়ার অবস্থানেই অনড় রয়েছেন তিনি। চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতেও থাকছে অবরোধ। এর মধ্যে সরকার নির্বাচন ইস্যুতে সমঝোতার উদ্যোগ না নিলে কঠোর আর কী কী Khaladaকর্মসূচি দেয়া যায়, তা নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ড ভাবছে বলে জানা গেছে। বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের একাধিক নেতা বলেছেন, খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে সরকার যদি মনে করে আন্দোলন থেমে যাবে তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। বরং এর ফলে আন্দোলন আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেছেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত যৌক্তিক কারণে জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আন্দোলন থেমে যাবে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। গ্রেফতার-মামলা-হামলা-গুলি চালিয়ে আন্দোলন দমন করা গেছে, এমন উদাহরণ বাংলাদেশে নেই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। এখন তার দল ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার কথা বলছে এটা কেউ মেনে নেবে না। রফিকুল ইসলাম মিয়া এ ক্ষেত্রে ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ১৯৯৬ সালের ওই নির্বাচন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের চেয়ে অনেক ভালো ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকার চিন্তা না করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে সংযোজন করে গণতন্ত্রের পথ খুলে দেন, নতুন নির্বাচন হয়। অথচ ৫ জানুয়ারিকে নিয়ম রক্ষার নির্বাচন বলেও এখন শেখ হাসিনার সরকার ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার কথা বলছে এবং বাহিনীগুলো দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণতন্ত্রকে শেষ করে দিচ্ছে। বিএনপি প্রধানকে গ্রেফতার করার বিষয়ে গত কয়েক দিন সরকারের মন্ত্রীরা নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, ‘যে সহিংস কর্মসূচি চলছে, তাতে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করাই যুক্তিযুক্ত’। খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ একটিrafique সূত্রে জানা গেছে, সরকারের গ্রেফতার হুমকি নিয়ে খালেদা জিয়া মোটেও চিন্তিত নন; বরং তাকে গ্রেফতার করা হলে আন্দোলন কিভাবে এগোবে, তা নিয়ে তিনি কাজ করছেন। তৃণমূল পর্যায়ে কথা বলার সময় তিনি নেতাকর্মীদের এমন ধারণাই দিচ্ছেন। বিএনপি প্রধান মনে করছেন, তাকে গ্রেফতার করা হলে আন্দোলন আরো বেগবান হবে। ‘আন্দোলন কত দিন চলবে?’ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ প্রশ্নের উত্তরে একটাই কথা বলেছেন, ‘বিজয় না হওয়া পর্যন্ত’। জানা গেছে, কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কয়েক দিনে অন্তত তিনজন কর্মী নিহত এবং কয়েকজন নিখোঁজ হওয়ার পর নেতাকর্মীরা যাতে নিষ্ক্রিয় না হয়ে পড়ে, সে জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাজ করছেন। নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। সবাইকে ধৈর্য ধরে আন্দোলন চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। দ্রুত বর্তমান অবস্থার উত্তরণ হবে এমন আশ্বাসও দেয়া হচ্ছে দল থেকে। দলের সিনিয়র এক নেতা জানিয়েছেন, জনিকে ‘হত্যা’র ঘটনায় নেতাকর্মীরা আরো বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিনই আন্দোলনের গতি বাড়ছে। নেতাকর্মীদের মনোবল অটুট আছে। তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। বিএনপির হাইকমান্ডের ভাবনা অনুয়ায়ী, সরকার ইতোমধ্যে আন্দোলন দেখে ‘নার্ভাস’ হয়ে উঠেছে। আগামী এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন আন্দোলন ধরে রাখতে পারলে আন্দোলনের মাঠ পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। জোট নেতারা বলছেন, চলতি মাসের শেষে রাজধানীতে আন্দোলনের গতি আরো বাড়বে। তখন যোগ হতে পারে লাগাতার হরতাল-অসহযোগের মতো নতুন কর্মসূচি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: