‘গ্রহণযোগ্য’ নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠনের জন্য সংলাপ আহবান

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৬, বৃহস্পতিবার: দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির আহবানে সাড়া দিয়ে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ একটি ‘গ্রহণযোগ্য’ নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠনের জন্য সংলাপ আহবান করেছেন। সংলাপ রোববার শুরু হয়েছে বিএনপিকে দিয়েই। কিন্তুরাষ্ট্রপতির এই উদ্যোগ কতখানি সফল হবে?ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এবং দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দল বিএনপি কি শেষপর্যন্ত একটি ‘গ্রহণযোগ্য’ নির্বাচন কমিশন গঠনকল্পে ঐক্যমতে পৌছাতে পারবে?
প্রথম দিনের সংলাপের পর বিএনপির প্রতিক্রিয়া খুবই ইতিবাচক। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা আশাবাদী হয়ে উঠেছে। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আজকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে খুশি হয়েছি, আশাবাদী হয়ে উঠেছি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি একজন আপাদমস্তক রাজনৈতিক নেতা। তিনি দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এবং তিনি সর্বজনশ্রদ্ধেয় একজন মানুষ। আমরা আশা করি দেশের বর্তমান যে রাজনৈতিক সংকট, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তার যে উদ্যোগ, তা নিঃসন্দেহে একটা ফলপ্রসু ভূমিকা পালন করবে। এবং এই আলোচনার প্রক্রিয়াটা অব্যাহত থাকবে।’
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা আগেই বলেছেন, তারা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। তবে বিএনপিকেও এই সিদ্ধান্ত মানতে হবে।
২০১২ সালেও বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সার্চ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এমন সংলাপের আয়োজন করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছিল কিন্তু সেই নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সংঘটিত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে।
২০১৪ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখেনির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি-জামাত জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধের সময় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে বহু মানুষ হতাহত হয়।
আওয়ামীলীগ-বিএনপির দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বমুখর সম্পর্ক, গত নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ না করা এবং বিএনপি-বিহীন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনক্ষমতা ধরে রাখায় আওয়ামীলীগের সফল হওয়া ইত্যাদি নানা কারণে অনেকেই শুরু হওয়া সংলাপের সাফল্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গোবিন্দ চক্রবর্তী ঢাকাটাইমসকে বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে সমালোচনা করাটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সাল থেকেই একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করার দাবি উঠছে। কিন্তু একটি সত্যিকারের গ্রহণযোগ্য কমিশন গঠনের বিষয়ে কোন সরকারইসচেষ্ট ছিলেন না। সবাই চেয়েছে নিজেদের পছন্দের নির্বাচন কমিশন গঠন করতে।’
নতুন করে শুরু হওয়া সংলাপ সফল হবে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংলাপের আয়োজন একটি ইতিবাচক বিষয়। কারণ, ২০১২ সালের আগে এভাবে সংলাপ করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হতনা। ২০১৯ সালের নির্বাচনের বহুদিন আগেই রাষ্ট্রপতির এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
অধ্যাপক গোবিন্দ বলেন, সংলাপ সফল হবে কিনা এখনি বলা যাচ্ছেনা, তবে বিএনপি বহু দিন ধরে নির্বাচনে অনেকটা নিষ্ক্রিয়। এই সংলাপ এবং নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েবিএনপি আবার রাজনীতির মাঠে ফিরে আসতে চাইবে।
সংবিধানে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে কাজ করবেন। নির্বাচন কমিশন গঠন করা নিয়ে রাষ্ট্রপতির এখতিয়ারের পরিধি নিয়ে ঢাকাটাইমস কথা বলেছিল আইন বিশেষজ্ঞ স ম রেজাউল করিমর সঙ্গে।
রেজাউল করিম বলেন, শতভাগ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব না হলেও সব দলের সাথে আলোচনা করে রাষ্ট্রপতি ‘মোটামুটি’ গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি এখতিয়ার চর্চার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু সব বিষয়ে তিনি পরামরশ করবেন এমন কোন বাধ্যবাধক্তা নেই।’
সংলাপ সফল হোক বা না হোক, রেজাউল করিম বলেন, ‘সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে যে অনাস্থার পরিবেশ আছে সেটি কেটে যাওয়ার একটা পথ তৈরি হবে যা দেশের বৃহত্তর স্বার্থের জন্য কল্যাণকর।’

রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্চ কমিটির মাধ্যমে একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপের আয়োজন করেছেন। শুরু হল বিএনপি দিয়ে।
এর আগে ১৮ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন গঠনকল্পে ১৩ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন। এর আলোকে গত ৬ ডিসেম্বর বিএনপি একটি প্রস্তাবনাপত্র রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ বরাবরর তাঁর বিবেচনার জন্য প্রেরণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*