গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থাই সংকট সমাধানের উপায় : মার্কিন কংগ্রেস

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানের উপায় হল সকল দcongressলের অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে গিয়ে এ সংকট সমাধানের চেষ্টা ফলপ্রসূ হবে না বলে মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে বাংলাদেশ বিষয়ে এ মত দিয়েছে আলোচকরা। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের ভঙ্গুর অবস্থা : রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উগ্রবাদ’। যুক্তরাষ্ট্রের হাউস কমিটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক উপকমিটি এ শুনানির আয়োজন করে। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন দ্যা ডেডিস ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন পলিসির এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লিসা কার্টিস, ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ ও হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনের সরকার সম্পর্ক বিভাগের পরিচালক জয় কানসারা। আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশে ব্যাবসা করেন যুক্তরাস্ট্রের নাগরিক ফ্লেচলি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টিসল অন ফরেন রিলেশনসের সিনিয়র ফেলো আলিসা আয়ার্স। শুনানিতে নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বাংলাদেশের নানান সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। দর্শক সারিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের ২২ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসেরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। শুনানিটি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির রেবার্ন হাউস অফিস বিল্ডিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, রাজপথে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা আর সন্ত্রাসবাদের উত্থানের আশঙ্কায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন মার্কিন কংগ্রেস। আলোচকরা বলেন, বাংলাদেশের এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের উপায় হল সকলের অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলো রক্ষা করা। সমাবেশ ও বাক স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া বন্ধ করতে হবে। মানুষের ভোটাধিকার দেয়ার অধিকার গুলোর নিশ্চয়তা দিতে হবে। মার্কিন কংগ্রেসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় সাব-কমিটির শুনানিতে প্যানেল আলোচকদের বক্তব্যে বাংলাদেশকে তুলে ধরা হলো সংঘাতময় এক দেশ হিসেবে। আলোচনায় মার্কিন কংগ্রেসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় সাব-কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান ম্যাট সালমন বলেন, এই শুনানি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়। কোনো দেশের সরকারকে হেয় করার জন্য নয়। বরং একটি দেশ কিভাবে অগ্রগতি অর্জন করতে পারে সে বিষয়গুলো মার্কিন প্রশাসনের নজরে আনা। এর আগে উপ-কমিটির চেয়ারম্যান সালমন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে এখন বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। যদিও দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিভক্ততা রয়েছে, তবে সাম্প্রতিক ২০১৪ সালের সংসদীয় নির্বাচনের পর সহিংস বিক্ষোভে উভয় রাজনৈতিক শিবিরে বহু নির্দোষ ব্যাক্তির নির্মম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।’ ‘এর বাইরেও দেশটির ইসলাম পন্থীদের সহিংস ঘটনার রিপোর্টগুলোতে উদ্বেগ হওয়ার মত বিষয় রয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তাদের দেশের বাইরে থেকে সদস্য নিয়োগ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ার অংশীদারদের সাথে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে তৎপরতা চালাচ্ছে, তখন ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিতভাবে জানা দরকার।’ ‘এই শুনানির মাধ্যমে বাংলাদেশের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা এবং বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে পরামর্শ দিতে পারে তা বের করা যাবে। একইসঙ্গে এ পরামর্শ দেশটির গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, যা স্থিতিশীল এবং ইসলামী চরমপন্থার ক্ষেত্রে অসহিষ্ণু হতে সহায়তা করবে।’ সূত্র : শীর্ষ নিউজডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*