গোলাম মোহাম্মদ কাদের ভালো চরিত্র ও নির্ভেজাল মানুষ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ আগস্ট ২০১৯ ইংরেজী, শনিবার: জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটন বলেছেন, বর্তমান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও বেগম রওশন এরশাদ সুন্দরভাবে মিলেমিশে কাজ করতে পারে তাহলে দলের পরিবর্তন ঘটবে। এরশাদ সাহেব একজন ভদ্রলোক ছিলেন তাকে দিয়ে আমরা অনেক অপকর্ম করিয়েছি এখন আর এটা ঘটবে না। প্রতিনিয়ত একটা ইমেজের ব্যাপার সামনে আসছে জাতীয় পার্টিতে। জাপার বনানী অফিসে একান্ত স্বাক্ষাৎকাওে তিনি এসব কথা বলেন।
লোটন বলেন, আমরা হয়তো সাংগঠনিক ট্যুরে বেড়িয়ে যেতাম কিন্তু স্যারের মৃত্যুর পরে থেমে গেছে অন্যদিকে বন্যা চলে আসছে। আপনার মনে আছে কিনা ১৯৮৮ সালের বন্য আমরা জাতীয় পার্টি মোকাবেলা করছি। এবার জিএম কাদেরের নেতৃত্বে মাঠে নেমেছি। সবাই ত্রাণ দেয়ার জন্য কাজ করছি। বেগম রওশন এরশাদও আমাদের সঙ্গে আছেন। আমি মনে করি আগামী দিনে সাংগঠনিকভাবে যদি আমরা কাজ করতে পারি তাহলে আমাদেরকে, জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে সরকার গঠন করতে পারবে না।


রওশন এরশাদ, জিএম কাদের মিলে জাতীয় পার্টিকে একটি সম্মানজনক স্থানে নিয়ে আসবে এটাই আমাদের আশা। ঠিক অন্য দুই দলের কাছাকাছি অবস্থানে। এখানে বিএনপির ১৯ দফা জাতীয় পার্টির ১৮ দফা, বিএনপি ইসলাম পন্থী, জাতীয় পার্টিও ইসলাম পন্থী। তাহলে আমাদের জনপ্রিয়তা কম হবে কেন? আমরা কেন পরিনি?
আমরা ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলাম ২০০৮ সালে তারেক জিয়ার শক্তিটাকে চূর্ন বিচূর্ন করে দিয়েছি। আমাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মার্চ করলেছিলেন। ২০১৪ সালে আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলাম বর্তমানের আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছি। কিন্তু একটা দু:খ লাগে যখন নির্বাচনের সময় আসে তখন অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। যেমন বিএনপির কাধে ভর দিয়ে জামায়াতে ইসলাম তাদের ছাত্র সংগঠনকে এবং যুব সংগঠন সংগঠিত হয়েছে কিন্তু আমরা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে আমরা কোন সুযোগ পাইনি। বরং আমরা আওয়ামী লীগের শিকারে পরিণত হয়েছি আমরা। উল্টো আরো আমাদেরকে দৌড়ের ওপর রেখেছে। আমাদের নিজস্ব কোন্দলের কারণে কিছু স্বার্থনেষী মহল, কিছু পদ বিক্রি করছে, পদ বঞ্চিত লোকগুলো দল ছেড়ে চলে গেছে। নির্বাচনের সময় যারা মনোনয়ন পাওয়ার কথা তাকে না দিয়ে টাকার বিনিময় অন্যকে মনোনয়ন দেয়া এরকম বাজে অবস্থা বিড়াজ করছে দলে। বর্তমানে স্যার বেচে নেই কিন্তু দল অনেক শক্তিশালী। যেমন বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসলেন। জিয়াউর রহমান মৃত্যুর পরে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেছে । আমরা মনে করি এরশাদের পর গোলাম মোহাম্মদ কাদের এসেছে। তার যে শক্ত ইমেজ, ভালো চরিত্র, নির্ভেজাল একটা মানুষ এটা আমি আপনি পছন্দ না করলেও এ দেশের মানুষ পছন্দ করছে এটা বড় কথা। হয়তো আমার আপনার স্বার্থে লাগে এজন্য পছন্দ নাও হতে পারে। কিন্তু গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে সবাই পছন্দ করছে।
রাজনীতি দুর্বিত্তায়নের কারণে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি বলেন মানুষের প্রতি মানুষের আস্থা চলে গেছে। সে ক্ষেত্রে জিএম কাদেরের মতো একজন লোক আসাতে মানুষ এখন খুশি যে একজন ভালো মানুষ এসেছে। যদি জিএম কাদেরকে এরশাদ সাহেব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলেন সেদিন আমি নিকেতনের বাসায় এসেছি। দুই দিন পর ওই বাসার দারোয়ান আমকে বলছে একজন ভালো মানুষকে আপনারা সরিয়ে দিলেন। এটা কি একটা কাজ করলেন। একটা ভালো লোককে বাদ দিলেন।
তিনি বলেন, অনেকে বলে আওয়ামী লীগ নাকি আমাদেরকে ছাড় দেয় না কিন্তু না আমরাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভালোভাবে বসতেই পারিনি আমি এইটুকু মনে করি। আওয়ামী লীগ চাইবে জাতীয় পার্টির মতো একটি দলকে তাদের সঙ্গে রাখতে।
আগামী দিনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বলেন আর বিএনপি বলেন কোন দলই এককভাবে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাবে না। সে ক্ষেত্রে জোট লাগবেই। আর এজন্য আমরা যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিশ্বাস করি, স্বাধীনতা সর্বোভৌমত্বকে বিশ্বাস করি একারণে আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গেই থাকবো। এটা আমাদের জন্য ভালো হবে।
এখন জাতীয় পার্টি রাজনৈতিকভাবে পেছনে থাকার করণে কী এরশাদের মামলা, এমন প্রশ্নের জবাবে আলমগীর সিকদার লোটন বলেন, আবারো দু:খের কথা, ভদ্রলোক তো আর মামলা ফ্রি থেকে মরতে পারলো না। অনেক অংশে মামলাই দায়ী কারণ তিনি বার বার বলছে শৃঙ্খলমুক্ত নই। কিন্তু আমরা মহা জোটের সঙ্গে যাওয়ার পরেও তো শৃঙ্খলমুক্ত করলো না। ২০০৮ সালে জনসভায় এরশাদ বললেন আমি এখন শৃঙ্খল মুক্ত, আমার সঙ্গে জনগণ আছে। আওয়ামী লীগ তো শৃঙ্খল মুক্ত করলো না। কিন্তু জিএম কাদের তো শৃঙ্খল মুক্ত। এখানে জিএম কাদেরের মতো একজন শক্ত ব্যক্তিতে আটকাতে পারবে না।
সর্বশেষ এরশাদের একটি মামলা চলমান ছিলো সেক্ষেত্রে দলের কোন নেতার ষড়যন্ত্র ছিলো কিনা জানতে চাইলে আলমগীর সিকদার লোটন বলেন, ষড়যন্ত্র যে সেটা দেখাও যায় বোঝাও যায়। আমাদের দলের ভেতর থেকে স্যারের (এরশাদের) মামলা উঠুক সেটার জন্য শক্তভাবে সরকারের সঙ্গে ওকালতি করতে পারেনি। ঘরের শত্রু বিভীষণ, আপনার বিরুদ্ধে আমি শত্রুতা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*