গুলিস্তানের ফুটপাত দখল উচ্ছেদের পরদিনই

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৮ অক্টোবর, শুক্রবার: রাজধানীর গুলিস্তানে ফুটপাত ও সড়কে ফুটপাতের দোকানিদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের ‘ইঁদুর-বেড়াল খেলা’র আরেকটি উদাহরণ হয়ে গেলো বৃহস্পতিবারের উচ্ছেদ অভিযান। সিটি করপোরেশনের পরিচালনায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই আবার ফিরে এসেছে দোকানিরা।1
দোকানিরা বলছেন, বিকল্প ব্যবস্থা না করে বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও লাভ হবে না। কারণ, তাদের আয়ের আর কোনো বিকল্প নেই। এই অবস্থায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার উপায় খুঁজতে শনিবার হকারদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
আগের দিন এই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে গুলিস্তানে হাঙ্গামা কম হয়নি। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, পরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গে আসা তার রাজনৈতিক কর্মীদের অস্ত্র প্রদর্শন, ফুটপাতকে অবৈধ দখলমুক্ত করতে মেয়রের ঘোষণা- কমতি ছিল না কোনো কিছুরই। কিন্তু উচ্ছেদের পর দিন মেয়রের ছাড় না দেয়ার ঘোষণার কোনো প্রতিফলনই দেখা যায়নি। ওই এলাকায় গিয়ে আগের মতোই ফুটপাতের দোকানিদের কেনা-বেচায় মশগুল থাকতে দেখা গেলো।
রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর অন্যতম গুলিস্তানের ফুটপাত আর সড়কের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই দখল করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে আসছেন দোকানিরা। তাদের কারণে ওই এলাকা ধরে চলা পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। একাধিকবার উচ্ছেদ করেও হকারদেরকে সরাতে পারেনি সিটি করপোরেশন।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় গুলিস্তান ঘুরে দেখা যায় হকাররা তাদের নির্ধারিত স্থানে বসে ব্যবসা করছে। এদের একজন ইউসুছ আলী। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘গতকাল হঠাৎ করে আমাগো তুইল্যা দিছে। এর আগে যতবার তুলছে ততবার সিটি করপোরেশণ আগেই জানাইছে। কিন্তু এইবার কোনো নোটিশ বা মাইকিং না কইরাই আমাগো তুইল্যা দিছে।’
তুলে দেয়ার পর আবার কেন সড়কে এসেছেন-জানতে চাইলে এই দোকানি বলেন, ‘সরকারে আমাগো লাইগ্যা কোনো ব্যবস্থা না করলে আমরা কী করবো? কই যাবো। হেরা খালি কয় চইল্যা যাইতে। কিন্তু পেট চালামু কেমনে? বউ পুলাপানে কী খাইবো?’
আরেক দোকানি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘পাতাল মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সাথে ম্যাজিস্টেটের ঝামেলার খেশারত দিলাম আমরা। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে ব্যবসা বাণিজ্য কর। এই কাজ না করলে কী করে আমাদের সংসার চালাবো? তাই আবার দোকান খুললাম।’
বৃহস্পতিবার উচ্ছেদ অভিযানে এসে মেয়র খোকন বলেছিলেন, ‘ফুটপাতে দোকান বসবে না। ফুটপাত পথচারীদের জন্য। দোকানদারি করতে হলে তাদেও হাঁটার রাস্তা ছাড়তে হবে। ফুটপাতের এক ইঞ্চি জায়গাও কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’
তবে মেয়রের এই বক্তব্যেও কোনো নমুনা নেই গুলিস্তানে। কেউ বাধা দেয়নি- জানতে চাইলে দুই দোকানিই জানান, পুলিশ বা সিটি করপোরেশন- কোনা সংস্থাই তাদেরকে এখানে বসতে কোনো বাধা দেয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘এ বিষয়ে আগামীকাল (শনিবার) বেলা সাড়ে ১২টায় নগর ভবনে বৈঠক হবে। আনারা চলে আসবেন।’
জানতে চাইলে মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান বলেন, ‘সিটি করপোরেশন উচ্ছেদ করেছে। আমরা কেবল তাদেরকে সহযোগিতা করেছি। এ বিষয়ে মেয়র সাহেব হকারদের সঙ্গে বসবেন। এই বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয় তার জন্য অপেক্ষা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*