গুলশানে খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রোববার ৪ জানুয়ারি সকালে আরো জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সদস্য বাড়ানোর পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।  10এছাড়া সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। পুলিশের সাঁজোয়া যান এপিসিও নিয়ে আসা হয়েছে। রাতের নিরাপত্তা চেয়ে সকাল থেকে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত ফিরোজ কবির বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের নিরাপত্তার বিষয় সামনে রেখে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। রাতের চেয়ে সকালে অধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তিনি বলেন, এখানে যে কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার বাসায় যাওয়ার ব্যাপারে আমাদের কোনো বাধা নেই। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি বড় করে দেখা হচ্ছে। থানার অপারেশন অফিসার শেখ সোহেল রানা বলেন, গুলশানের এই এলাকাটি কূটনৈতিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। 0000তাই রাজনৈতিক কারণে কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক তা আমরা চাই না। এ কারণে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে সকাল থেকে দেখা হচ্ছে, বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নিয়েছেন। আনা হয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক নারী পুলিশ সদস্যও। গণমাধ্যম কর্মী ছাড়া এই রাস্তায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।1 গুলশান কার্যালয়ে ১৬ ঘন্টা ‘‘অবরুদ্ধ’’ অবস্থায় রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শনিবার রাত পৌনে ১২ টা থেকে রবিবার বিকাল ৩টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। গতকাল  বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ গ্রেপ্তার হলে বেগম খালেদা জিয়া নয়াপল্টন যাওয়ার উদ্দেশ্যে গুলশান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা  করেন। এ সময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খালেদা জিয়াকে বাধা দিয়ে বলেন, আপনি যদি বাসভবনে যেতে চান তাহলে আপনাকে আমরা বাসভবনে দিয়ে আসবো। অন্যকোথাও যেতে দেয়া হবে না। একথার পর থেকেই মূলত তিনি গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।2 এদিকে তার অবরুদ্ধের কথা শুনে শনিবার সকাল থেকেই বিএনপিপন্থী আইনজীবী, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ দলীয় নেতাকর্মীরা তার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। এ সময় তাদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। বর্তমানে গুলশান এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুলশান এলাকার প্রতিটি প্রবেশ পথে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই এলাকার দুপুরের পর থেকে আর্ম পুলিশ ব্যাটালিয়ান মোতায়ন করা হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় শতাধিক পুলিশ সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা গুলশান কার্যালয়ের চারপাশ ঘিরে রেখেছেন। গুলশান কার্যালয়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ৫ জানুয়ারি সহিংসতা ও নৈরাজ্য এড়াতে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তার গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। khaladaশনিবার দিবাগত রাত সোয়া একটায় গুলশান কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিং-এর সময় তিনি এ অভিযোগ করেন। শিমুল বিশ্বাস জানান, খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসে ২০ দল ঘোষিত কর্মসূচি পালনের জন্য দেশবাসী ও নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থানরত যুগ্ম-মহাসচিব রিজভী আহমেদের অসুস্থতার সংবাদ জানতে পেরে তাকে দেখতে সেখানে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। তিনি তার গাড়িতে উঠে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পরও পুলিশ খালেদা জিয়াকে তার কার্যালয় থেকে বের হতে দেয়নি। তাকে কার্যালয় থেকে তার বাসায়ও যেতে দেওয়া হচ্ছে না। 2141এরপর তিনি আবার তার অফিসে উঠে যেতে বাধ্য হন বলে জানান তিনি। শিমুল বিশ্বাস বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) বের হতে চাইলে পুলিশ বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা নেই। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে বের হতে দেয়া হয়নি, তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এটা আপনারা সাক্ষী। এটা গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীও দেখেছেন। দেশে গণতন্ত্র নেই ও অন্যের প্রতি ন্যুনতম সম্মানবোধ নেই, আপনারা এই প্রকৃত সত্যটুকু দেশবাসীর কাছে পৌছে দেবেন বলে বিএনপি আশা করে। শিমুল বিশ্বাস বলেন, এ সরকার পাগল হয়ে গেছে। তারা যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। দেশবাসীও এটা বিশ্বাস করে। চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী বলেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার ও ২০দল ঘোষিত কর্মসূচির এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখার জন্য দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: