গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে পুলিশের কতিপয় সদস্য

Policess1-300x200থামছে না পুলিশের বর্বরতা। অসৎ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে চোখে পড়ার মত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ফলে তারা  আরো আগ্রাসী হয়ে উঠছে। একের পর এক সাধারণ মানুষের উপর তাদের অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে চলেছে। বর্তমানে পুলিশের বিরুদ্ধে জনসাধারণের এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগের মাত্রাও বাড়তে শুরু করেছে। তাদের মনোভাব এমন পর্যায় গিয়ে পৌঁছেছে যে আজ তাদের চেয়ে ক্ষমতার উর্ধ্বে কেউ নয়, এমনটাই ভাবছে কতিপয় পুলিশ সদস্য। তাই নিয়মিতই তাদেরকে বেপরোয়া হয়ে উঠতে দেখা যায়। ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বে অবহেলা ও ঘুষ গ্রহণ ছাড়াও চাঁদাবাজি, দাবি করা টাকা না পেয়ে হত্যা, গুলি করে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজানো, উদ্ধার করা মালপত্র আত্মসাৎসহ গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে পুলিশের কতিপয় সদস্য। পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখার পরিসংখ্যান থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
অথচ অভিযোগের ভিত্তিতে লোক দেখানো সাজা দেখিয়েই এই ধরনের অসৎ পুলিশ সদস্যদেরকে আরো আগ্রাসী করে তোলা হচ্ছে। পরিপক্ক সাজার অভাবেই তারা আরো বেশি নিয়মনীতির অবজ্ঞা করছে। অনেকটা স্বাধীনচেতা মনোভাব নিয়ে যা খুশি তাই এমনভাবে মানুষের উপর অত্যাচার করে যাচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর কাছে সাধারণ জনতা, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী কেউই নিরাপদ নয়। এ যেন এক  স্বাধীনচেতা পুলিশ বাহিনী। যখন যার উপর ইচ্ছে তার উপরই তারা চড়াও হচ্ছে। আইনের লেবাস শরীরে ধারণ করে তারাই আজ ‘আইন রাক্ষসে’ পরিণত হয়েছে। পুলিশের নির্মম বর্বরতা আজ সাধারণ জনতার চোখের আড়ালে নয়। নিয়মশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে এসে তারাই ভাঙছেন নিয়ম। মানবাধিকার বিষয়ক কোন জ্ঞানই যেন তাদের মধ্যে নেই। প্রকাশ্যে একজন নারী পথচারিকে চুলের মুঠি ধরে টেনে-হিঁচড়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। অপরাধ ফুট ওভার ব্রিজ দিয়ে পারাপার না হওয়া। এই ঘটনায় সেই সময় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভের এবং উত্তেজনার সৃষ্টি করলে হয়নি কোন প্রতিবাদ। অথচ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে অবাধেই ফুটওভার ব্রিজ ছাড়াই পারাপার হচ্ছে মানুষ। ঢাবিতে ২য় বারের মত পরীক্ষা দেবার সুযোগের দাবিতে বিক্ষোভকারি শিক্ষার্থীরাও কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলো তাদের আন্দোলন। কিন্তু পরিণামে তাদের ভাগ্যেও জুটেছে এক নির্মম পরিণতি। মানবাধিকার লঙ্ঘন করে মহিলা শিক্ষার্থীদেরকে পেছন থেকে সজোরে লাথি মারছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা যা চোখ এড়ায়নি গণমাধ্যমের।
বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেল্থ টেকনোলজির ছাত্রীদের ওপরও পুলিশ এক নির্মম বর্বরতা চালায়। অবশ্য ঐ ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করলেও মূল হোতা কতোয়ালি মডেল থনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। মানবাধিকারকে বুটের নিচেই রাখতে চায় তারা। সম্প্রতি বেশকিছু ঘটনা চিত্রে দেখা গেছে পুলিশের বুট, লাঠি ইত্যাদির টার্গেট নারীদের শরীর।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, কোন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা না নেবার ফলে পুলিশের এই ধরনের অসভ্যতা বাড়ছে। এসব বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কিছু বিছিন্ন ঘটনা ঘটে যা স্বীকার করার কিছু নেই। অনেক সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে অনেক পুলিশ ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অপরাধ বিশ্লেষক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ সদস্যদের আচরণ শুধু অমানবিকই নয়, বর্বর ও অসভ্য। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আড়াই বছরে পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার ৩৪ হাজার ১২৯ জন সদস্য নানা মেয়াদে দণ্ড পান। গত বছর বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশের ১৩ হাজার ৯৩১ জন নানা মেয়াদে দণ্ড পান। আর চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই সেই সাজাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার।
সূত্র : আ.স.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*