গাজীপুরে মামুনের মুরগির খামারে বিভিন্ন জাতের দেশি-বিদেশি ফুল ও ফলের শোভা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৯ জুলাই ২০১৭, শনিবার: আ ন ম নূরুল্লাহ মামুন। গাজীপুর মহানগরীর ২৯নং ওয়ার্ডের ছোট দেওড়া এলাকার বাসিন্দা। উদ্দীপনায় দেড় বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন জাতের মুরগির খামার। পাশাপাশি গাড়ল, বিদেশি গাভি ও হাঁসও পালছেন। এ খামারের পশ্চিম পাশে পুকুরে করেন মাছ চাষ।
গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা তার মৎস্য খামারে মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি তিনি বায়োগ্যাস প্ল্যান্টও গড়ে তুলেছেন। মামুনের মুরগির খামারে বিভিন্ন জাতের দেশি-বিদেশি ফুল ও ফলের গাছে এক নৈসর্গিক শোভা বিরাজমান। ছোট দেওড়া এলাকাসহ আশপাশের এলাকার লোকজনের কাছে এই খামার একটি বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
চলতি বছর জানুয়ারি মাসে ১৬০টি তিতির মুরগি ও ছয়টি টার্কি দিয়ে তিনি এ ব্যবসা শুরু করেন। এ খামারে বর্তমানে শত শত তিতির মুরগির পাশাপাশি টার্কি, আসলি মুরগি বা ফাইটার, করকনাথ জাতের মুরগিও রয়েছে। সম্প্রতি তিনি ডিম থেকে মুরগির বাচ্চা ফোটানোর জন্য ইনকিউবেটর ও সেটার মেশিন কিনেছেন। ইতোমধ্যে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর কার্যক্রমও তিনি শুরু করেছেন।
নূরুল্লাহ মামুন জানান, স্বল্প খরচে যে কেউ চাইলে তার খামারে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটাতে পারবেন। বিশেষ করে যারা বিভিন্ন জাতের মুরগি পালন করতে ইচ্ছুক তাদের তিনি বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করবেন বলেও জানান।
মামুনের খামারে বিভিন্ন রঙের টার্কি রয়েছে। একটি টার্কি একটানা ২০টির বেশি ডিম দেয়। চার মাস পর থেকে টার্কি খাওয়ার উপযোগী হয়। ছয় মাস বয়সী একটি টার্কির ওজন সাত থেকে আট কেজি পর্যন্ত হতে পারে। দানাদার খাদ্য ছাড়াও ঘাস, কলমির শাক, বাঁধাকপি ও সবজি জাতীয় খাবার খায় টার্কি। একটি টার্কির ওজন ২৫ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে ডিমপাড়া একটি টার্কির বাজারমূল্য সাত হাজার টাকা।
অন্যদিকে, তিতির পালনে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন মামুন। তার মতে, তিতির পালনে খুলতে পারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। তিতির দেখতে অনেকটা মুরগির মতো হলেও এটি আসলে পাখি। তবে গ্রামাঞ্চলে একে চায়না বা চীনা মুরগি বলা হয়। দেশে তিতির পাখির বাজারমূল্য দেশি হাঁস-মুরগির চাইতে অনেক বেশি। তাই এটি পালন দেশি মুরগির চাইতেও লাভজনক। একজোড়া তিতিরের বর্তমান বাজারমূল্য ২৫০০ টাকা।
এই খামারে কয়েক ডজন করকনাথ চিকেন রয়েছে। জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার আয়াম সেমানি মুরগিকে ভারতে হাইব্রিড করে এর নাম দেওয়া হয়েছে করকনাথ চিকেন। এর গোটা শরীর কালো! চামড়া, ঠোঁট, নখ, ঝুঁটি, মুখ, জিভ, মাংস, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনকি হাড় পর্যন্ত কালো! পৃথিবীর সবচেয়ে সুস্বাদু মুরগি আয়াম সেমানির পর করকনাথ চিকেনের অবস্থান। করকনাথ জাতের একজোড়া ডিমপাড়া মুরগির বর্তমান বাজার মূল্য ছয় হাজার টাকা।
এই খামারে আসলী মুরগি বা ফাইটারও রয়েছে। একটি ফাইটার মুরগি তিন থেকে চার ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এই মুরগির ওজন চার থেকে পাঁচ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এক জোড়া ডিমপাড়া ফাইটার মুরগির বর্তমান বাজার মূল্য ১০ হাজার টাকা।
বাণিজ্যিকভাবে গাড়ল পালনও শুরু করেছেন মামুন। গাড়ল ভেড়া জাতীয় প্রাণী। স্বভাবের দিক থেকে ভেড়ার সঙ্গে মিল থাকলেও শারীরিক তুলনায় গাড়লের গঠন কিছুটা ভিন্ন। আশির দশক থেকে দেশে বিচ্ছিন্নভাবে গাড়ল পালন শুরু হয়েছে। একটি গাড়লের ওজন ৫০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে তিন মাস বয়সী একটি গাড়লের মূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: