গরু রক্ষার নামে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষোভ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক ; ০৭ জুলাই ২০১৭,শুক্রবার
ভারতের এখন প্রধান সমস্যা কী? গরু। গরু বাঁচাতেই হবে। আর সে জন্য প্রয়োজনে মানুষ খুন করলেও অসুবিধা নেই। প্রতিনিয়তই গরু রক্ষাকারীদের হাতে মানুষ হত্যার খবর আসছে। আরো নানাভাবে নির্যাতনের খবরও আসছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর গরুর গোশত খাওয়াকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের ওপর হামলা হয়েছে অন্তত ৩২টি। এসব হামলায় ২৩ জন নিহত হয়েছেন। অনেকেই মনে করেন, এটা হলো অত্যন্ত কড়াকড়ি হিসাব। ভালোভাবে তথ্য সংগ্রহ করলে নিহতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে।
উগ্রতা এতটাই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, সরকারি তত্ত্বাবধানে প্রজননের জন্য গরু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেয়ার সময়ও আক্রমণ চালানো হচ্ছে।
ভারতে গরু রক্ষার জন্য উগ্র হিন্দুদের মধ্যে আন্দোলন অনেক দিনের। অনেক রাজ্যে কয়েক বছর আগে থেকে গরু জবাই নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু এমন প্রকট আকারে ছিলো না। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এটা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। আর যারা শিকার হচ্ছেন, তাদের সবাই মুসলিম।
এর সর্বশেষ শিকার হয়েছেন ঝাড়খণ্ড রাজ্যের আলিমুদ্দিন ওরফে আসগর আনসারি। গত সপ্তাহে গাড়িতে করে গরুর গোশত বহন করার অভিযোগে গো-রক্ষকেরা ওই মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করে। ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ে বিজেপির এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম নিত্যানন্দ মাহতো। সে দলটির রামগড় ইউনিটের মিডিয়া ইনচার্জ। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাজধানী রাঁচি থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে রামগড় জেলায় আনসারিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
উত্তেজিত জনতা আনসারির গাড়ি থামিয়ে এতে গরুর গোশত বহন করা হচ্ছিল সন্দেহে নিষ্ঠুরভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা আর কে মল্লিক গণমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে তার লোকেরা আক্রান্ত ওই মুসলিমকে রক্ষা করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা লোকটিকে হামলাকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তিনি মারা যান।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এ হামলার ঘটনার সাথে জড়িত ১০ জনকে শনাক্ত করেছি। পুলিশ জানায়, আলিমুদ্দিনের ওপর হামলা চালাতে মাহতো এলাকাবাসী প্ররোচিত করে।
ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়া এতই তীব্র হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পর্যন্ত বিবৃতি দিয়ে উগ্র হিন্দুদের সংযত থাকার আহ্বান জানাতে বাধ্য হয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘গো-ভক্তির নামে মানুষকে খুন করা মেনে নেয়া যায় না।’ তিনি এ প্রসঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর দোহাইও দিয়েছেন। মহাত্মা গান্ধীর সবরমতী আশ্রম প্রতিষ্ঠার শতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন হয় গুজরাটে। মোদি বৃহস্পতিবার সেই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। সেখানে নিজের ভাষণে তিনি গান্ধীর অহিংস নীতির পক্ষেই বলেছেন।
মোদি বলেন, ‘গো-রক্ষার অর্থ কি একজন মানুষকে খুন করা? কখনোই নয়। অহিংসাই আমাদের জীবনের পথ।’
গো-সম্পদ রক্ষার জন্য হিংসাত্মক পথ নেয়ার প্রয়োজন পড়ে না বলে বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেছেন মোদি।
গান্ধীর জীবনদর্শন স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘গো-রক্ষার কথা মহাত্মা গান্ধী বা বিনোবাভাবের চেয়ে বেশি আর কেউ বলেননি।’
কিন্তু মোদির এই বার্তায় কোনো লাভ হবে? খুব সম্ভবত হবে না। কারণ গরুর প্রতি ভক্তি থেকে নয়, বরং রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে এ ঘটনা ঘটাচ্ছে উগ্রহিন্দুবাদীরা।
প্রথমটি হলো, মুসলিমরা যাতে কোনোকালেই ভারতে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন স্থানে গরুর গোশতকেন্দ্রিক একটি অর্থনৈতিক ধারা গড়ে তুলেছিল মুসলিমরা। এখন গরু জবাই বন্ধ করে দেয়া মানে মুসলমানদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়া। উত্তর প্রদেশের অনেক কসাইখানা, কাবাবখানা বন্ধ হয়ে গেছে। মুসলমানেরা বেকার হয়ে পড়েছেন।
এখানেই শেষ নয়, মূল কারণ সম্ভবত অন্যটা এবং সেটা রাজনৈতিক। গো-রক্ষা বা গো-ভক্তি প্রচারের মাধ্যমে ভারতের মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টি আড়াল করা হচ্ছে। মোদি ক্ষমতায় এসেছিলেন যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে, সেগুলোর প্রায় কোনোটিই বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপকভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে ভারত। কিন্তু সাধারণ মানুষের দৃষ্টি যাতে সেসব দিকে না যায়, সে জন্যই গো-রক্ষা বা গো-ভক্তির দিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ উত্তেজনার ফলে মোদির ব্যর্থতা আলোচনায় আসতেই পারছে না। তা ছাড়া এ ইস্যু ব্যবহার করে খুব সহজেই ভারতীয় সমাজকে বিভক্ত করা যায়। বিজেপি সেটা সফলভাবেই প্রয়োগ করেছে।
নরেন্দ্র মোদি এবং তার টিম এ কাজটি বেশ সফলভাবেই করে আসছেন। তারা একটার পর একটা ইস্যু তুলে ভোটারদের বেশ ভালোভাবেই প্রতারিত করছেন। নোট বাতিলকরণের মাধ্যমে উত্তর প্রদেশসহ কয়েকটি রাজ্যে তারা জয়ী হলেন। ওই জিগিরের কোনো জবাব কংগ্রেস বা ভারতের বিরোধী দলগুলোর ছিল না। তাদের অপ্রস্তুত রেখে মাঠ দখল করে ফেলেছিলেন মোদি। নির্বাচনের সময় নানা উদ্ভট পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হলো, নোট বাতিলকরণে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বরং এতে দেশের লাভ হয়েছে। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, নোট বাতিল করার ফলে ভারতের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে।
তা ছাড়া ভারতের প্রধান সমস্যা গরু নয়। নোবেল পুরস্কারজয়ী অর্মর্ত্য সেনের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের ৬৮.৭ ভাগ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। তাদের কল্যাণের দিকেই নজর দেয়ার দরকার ছিল সবচেয়ে বেশি।
ভারতে কৃষি খাতের অবস্থা এখন খুবই করুণ। কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ৩৬ হাজারের বেশি কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। কাশ্মির পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি ঘটছে। নৃশংসতা চালিয়েও প্রতিবাদ দমন করা যাচ্ছে না।
গো-রক্ষার ডামাডোলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি একটি কথা বলেছিলেন : যারা গরুকে মা বলছে, তারা কিন্তু গরুর চামড়া দিয়ে তৈরি জুতা পরতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না।
ভারতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে আন্দোলন গড়ে উঠছে। দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরের মতো বিভিন্ন শহরে ‘নট ইন মাই নেম’ শিরোনামে প্রতিবাদ হয়েছে। তা ছাড়া মেয়েরা গরুর মুখোশ পরে জানিয়েছেন, ভারতে মেয়েদের চেয়ে গরুর দাম বেশি।
গরু রক্ষার নামে মানুষ হত্যাভারতে গো-রক্ষার রাজনীতি মোহাম্মদ হাসান শরীফ ০৬ জুলাই ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০ প্রিন্ট ৩৪ ০ ০ এড়ড়মষব ০ ৩৪ গরু রক্ষার নামে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে হয়েছে বিক্ষোভ ভারতের এখন প্রধান সমস্যা কী? গরু। গরু বাঁচাতেই হবে। আর সে জন্য প্রয়োজনে মানুষ খুন করলেও অসুবিধা নেই। প্রতিনিয়তই গরু রক্ষাকারীদের হাতে মানুষ হত্যার খবর আসছে। আরো নানাভাবে নির্যাতনের খবরও আসছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর গরুর গোশত খাওয়াকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের ওপর হামলা হয়েছে অন্তত ৩২টি। এসব হামলায় ২৩ জন নিহত হয়েছেন। অনেকেই মনে করেন, এটা হলো অত্যন্ত কড়াকড়ি হিসাব। ভালোভাবে তথ্য সংগ্রহ করলে নিহতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে। উগ্রতা এতটাই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, সরকারি তত্ত্বাবধানে প্রজননের জন্য গরু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেয়ার সময়ও আক্রমণ চালানো হচ্ছে। ভারতে গরু রক্ষার জন্য উগ্র হিন্দুদের মধ্যে আন্দোলন অনেক দিনের। অনেক রাজ্যে কয়েক বছর আগে থেকে গরু জবাই নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু এমন প্রকট আকারে ছিলো না। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এটা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। আর যারা শিকার হচ্ছেন, তাদের সবাই মুসলিম। এর সর্বশেষ শিকার হয়েছেন ঝাড়খণ্ড রাজ্যের আলিমুদ্দিন ওরফে আসগর আনসারি। গত সপ্তাহে গাড়িতে করে গরুর গোশত বহন করার অভিযোগে গো-রক্ষকেরা ওই মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করে। ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ে বিজেপির এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম নিত্যানন্দ মাহতো। সে দলটির রামগড় ইউনিটের মিডিয়া ইনচার্জ। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাজধানী রাঁচি থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে রামগড় জেলায় আনসারিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। উত্তেজিত জনতা আনসারির গাড়ি থামিয়ে এতে গরুর গোশত বহন করা হচ্ছিল সন্দেহে নিষ্ঠুরভাবে তার ওপর হামলা চালায়। সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা আর কে মল্লিক গণমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে তার লোকেরা আক্রান্ত ওই মুসলিমকে রক্ষা করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা লোকটিকে হামলাকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তিনি মারা যান। তিনি বলেন, ‘এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এ হামলার ঘটনার সাথে জড়িত ১০ জনকে শনাক্ত করেছি। পুলিশ জানায়, আলিমুদ্দিনের ওপর হামলা চালাতে মাহতো এলাকাবাসী প্ররোচিত করে। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়া এতই তীব্র হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পর্যন্ত বিবৃতি দিয়ে উগ্র হিন্দুদের সংযত থাকার আহ্বান জানাতে বাধ্য হয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘গো-ভক্তির নামে মানুষকে খুন করা মেনে নেয়া যায় না।’ তিনি এ প্রসঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর দোহাইও দিয়েছেন। মহাত্মা গান্ধীর সবরমতী আশ্রম প্রতিষ্ঠার শতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন হয় গুজরাটে। মোদি বৃহস্পতিবার সেই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। সেখানে নিজের ভাষণে তিনি গান্ধীর অহিংস নীতির পক্ষেই বলেছেন। মোদি বলেন, ‘গো-রক্ষার অর্থ কি একজন মানুষকে খুন করা? কখনোই নয়। অহিংসাই আমাদের জীবনের পথ।’ গো-সম্পদ রক্ষার জন্য হিংসাত্মক পথ নেয়ার প্রয়োজন পড়ে না বলে বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেছেন মোদি। গান্ধীর জীবনদর্শন স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘গো-রক্ষার কথা মহাত্মা গান্ধী বা বিনোবাভাবের চেয়ে বেশি আর কেউ বলেননি।’ কিন্তু মোদির এই বার্তায় কোনো লাভ হবে? খুব সম্ভবত হবে না। কারণ গরুর প্রতি ভক্তি থেকে নয়, বরং রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে এ ঘটনা ঘটাচ্ছে উগ্রহিন্দুবাদীরা। প্রথমটি হলো, মুসলিমরা যাতে কোনোকালেই ভারতে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন স্থানে গরুর গোশতকেন্দ্রিক একটি অর্থনৈতিক ধারা গড়ে তুলেছিল মুসলিমরা। এখন গরু জবাই বন্ধ করে দেয়া মানে মুসলমানদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়া। উত্তর প্রদেশের অনেক কসাইখানা, কাবাবখানা বন্ধ হয়ে গেছে। মুসলমানেরা বেকার হয়ে পড়েছেন। এখানেই শেষ নয়, মূল কারণ সম্ভবত অন্যটা এবং সেটা রাজনৈতিক। গো-রক্ষা বা গো-ভক্তি প্রচারের মাধ্যমে ভারতের মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টি আড়াল করা হচ্ছে। মোদি ক্ষমতায় এসেছিলেন যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে, সেগুলোর প্রায় কোনোটিই বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপকভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে ভারত। কিন্তু সাধারণ মানুষের দৃষ্টি যাতে সেসব দিকে না যায়, সে জন্যই গো-রক্ষা বা গো-ভক্তির দিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ উত্তেজনার ফলে মোদির ব্যর্থতা আলোচনায় আসতেই পারছে না। তা ছাড়া এ ইস্যু ব্যবহার করে খুব সহজেই ভারতীয় সমাজকে বিভক্ত করা যায়। বিজেপি সেটা সফলভাবেই প্রয়োগ করেছে। নরেন্দ্র মোদি এবং তার টিম এ কাজটি বেশ সফলভাবেই করে আসছেন। তারা একটার পর একটা ইস্যু তুলে ভোটারদের বেশ ভালোভাবেই প্রতারিত করছেন। নোট বাতিলকরণের মাধ্যমে উত্তর প্রদেশসহ কয়েকটি রাজ্যে তারা জয়ী হলেন। ওই জিগিরের কোনো জবাব কংগ্রেস বা ভারতের বিরোধী দলগুলোর ছিল না। তাদের অপ্রস্তুত রেখে মাঠ দখল করে ফেলেছিলেন মোদি। নির্বাচনের সময় নানা উদ্ভট পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হলো, নোট বাতিলকরণে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বরং এতে দেশের লাভ হয়েছে। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, নোট বাতিল করার ফলে ভারতের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। তা ছাড়া ভারতের প্রধান সমস্যা গরু নয়। নোবেল পুরস্কারজয়ী অর্মর্ত্য সেনের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের ৬৮.৭ ভাগ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। তাদের কল্যাণের দিকেই নজর দেয়ার দরকার ছিল সবচেয়ে বেশি। ভারতে কৃষি খাতের অবস্থা এখন খুবই করুণ। কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ৩৬ হাজারের বেশি কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। কাশ্মির পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি ঘটছে। নৃশংসতা চালিয়েও প্রতিবাদ দমন করা যাচ্ছে না। গো-রক্ষার ডামাডোলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি একটি কথা বলেছিলেন : যারা গরুকে মা বলছে, তারা কিন্তু গরুর চামড়া দিয়ে তৈরি জুতা পরতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না। ভারতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে আন্দোলন গড়ে উঠছে। দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরের মতো বিভিন্ন শহরে ‘নট ইন মাই নেম’ শিরোনামে প্রতিবাদ হয়েছে। তা ছাড়া মেয়েরা গরুর মুখোশ পরে জানিয়েছেন, ভারতে মেয়েদের চেয়ে গরুর দাম বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*