গরমে ভারতে গণহারে মৃত্যু

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ভারতজুড়ে ভয়াবহ দাবদাহ অব্যাহত রয়েছে। গত ছয়দিনের তীব্র গরমে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা সাড়ে সাতশ’ ছাড়িয়েছে। শুধুমাত্র রবিবারই অন্ধ্রপ্রদেশ ও indiaতেলেঙ্গানা রাজ্যে তীব্র গরমে মারা গেছেন ১৬৫ জন। গত পাঁচদিনে ওই দুই রাজ্যের তাপমাত্রা গড়ে ৪৭ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে। ভারতের অন্যান্য অংশেও রেকর্ড তাপমাত্রা বিরাজ করছে। ভারতের আবহাওয়া সংস্থা জানায়, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা রাজ্যে আরো তিনদিন তীব্র দাবদাহ চলতে পারে। তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার হওয়ার পরপরই আবহাওয়া অধিদপ্তর তাপপ্রবাহ ‘গুরুতর’ বলে সতর্কবার্তা প্রচার করেছিল। ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘এটাই শেষ নয়, সর্বোচ্চ তাপমাত্রার দিক থেকে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে এবারের গ্রীষ্মকাল।’ সর্বশেষ ২০০২ সালের মে মাসে তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন নগরীতে গত পাঁচ বছরের মধ্যে চলতি মৌসুমে ভয়াবহ গরম বিরাজ করছে। রাজধানী লক্ষেèৗতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। রাজ্যের এলাহাবাদে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করছে। উড়িষ্যায় নয় নগরীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রির ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের সবচেয়ে উঁচু ভূমি পাঁচমারহির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ ডিগ্রি বেশি হয়ে ৪০ ডিগ্রি হয়েছে। বান্দায় ৪৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি, সুলতানপুরে ৪৬ এবং বারানসি, আগ্রা ও বেরেলিতে ৪৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। মধ্য প্রদেশের আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র খাজুরাহোতে তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। গত সপ্তাহে এখানে তাপমাত্রা ছিল ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তেলেঙ্গানা রাজ্যের হাসপাতালগুলোতে প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোকে (প্রচণ্ড গরমে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ) আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বেড়েছে এবং অন্ধ্রপ্রদেশে প্রাদেশিক সরকার সবগুলো জেলায় জরুরি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক সেবাদানে চিকিৎসকদল গঠন করেছে। অন্ধ্র ও তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকার হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে গণসতর্কতা জারি করেছে। কোনো রকম তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া দিনের বেলা বাইরে না বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ওই দুটি রাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে প্রচুর পানীয় ও তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রোদ এড়িয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু বলেছেন, ‘যত বেশি সম্ভব পানীয় জল বিতরণ কেন্দ্র চালু করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে কী করতে হবে ও কী করতে হবে না, সরকার তা নিয়েও প্রচার চালাবে।’ তিনি আরো জানান, ‘গত তিনদিনে শুধু আমাদের রাজ্যেই গরমে শতাধিক মৃত্যুর খবর পেয়েছি, তবে এই সংখ্যা আরো বাড়বে। নিহতদের জন্য আমরা এক লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছি। মৃত্যুর সংখ্যা যত কম করা যায় সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’ সূত্র : ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*