গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন রোহিঙ্গা মুসলিম আয়মার বাগন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৬ জুলাই ২০১৭, বুধবার: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযানে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন রোহিঙ্গা মুসলিম আয়মার বাগন। গর্ভাবস্থার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে মিয়ানমারের সৈন্যরা তাকে গণর্ধষণ করে। কিন্তু আয়মার যখন তার স্বামীকে গণধর্ষণের কথা জানান, তখন তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে অন্যদের দয়ায় বেঁচে রয়েছেন আয়মার।
রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে শুধু আয়মার নয়, এরকম গণধর্ষণের শিকার বহু নারীকে ফেলে চলে গেছেন তাদের স্বামীরা। জাতিসংঘ আশঙ্কা করছে, ওই অভিযান এতটাই নিষ্ঠুর ছিল যে সেটা মানবতাবিরোধী অপরাধের সমান। বার্তা সংস্থা এএফপি সম্প্রতি মিয়ানমার সরকারের পরিচালিত একটি সফরে রাখাইন প্রদেশে যান। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের অগোচরে ওই গ্রামে গিয়ে কথা বলেন বার্তা সংস্থার সংবাদদাতারা।
সেই প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০ বছর বয়সী আয়মার কায়ার গং টং নামে এক গ্রামের বাসিন্দা। সন্তান প্রসবের মাত্র কয়েকদিন আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
ছোট্ট একটি কন্যা শিশুকে কোলে নিয়ে আয়মার বলেন, ‘আমার তখন নয় মাস চলছিল। তারা জানতো আমি গর্ভবতী, কিন্তু তাতেও দমেনি। যদিও এটা ঘটার জন্য আমাকে অভিযুক্ত করে আমার স্বামী। এ কারণে সে অন্য এক নারীকে বিয়ে করে আরেক গ্রামে গিয়ে রয়েছেন।’দুই সন্তানের মা হাসিন্নার বায়গনের বয়সও ২০ বছর। তিনি জানান, তাকেও পরিত্যাগ করার হুমকি দিয়েছে তার স্বামী। কারণ গত ডিসেম্বরে তিনজন সৈন্য তাকে ধর্ষণ করেছিল। এসব ঘটনা যখন ঘটছিল তখন রাখাইনের গ্রামগুলো ছিল পুরুষশুন্য, রয়ে গিয়েছিল শুধু নারী, শিশু আর বয়স্ক মানুষেরা।

সৈন্যদের ধর্ষণের এসব অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে মিয়ানমারের সরকার। এই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৭৪ হাজার রোহিঙ্গাদের অনেকেই জাতিসংঘ তদন্তকারী এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর কাছে যেসব অভিযোগ জানিয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে রাখাইন রাজ্যে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গাদের অভিযোগ মিলে যাচ্ছে।
কায়ার গং টংয়ের রোহিঙ্গারা জানান, তাদের গ্রামে ১৫টির মত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তিনটি ধর্ষণের ব্যাপারে তারা মামলা করেছেন, কিন্তু কোন ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। বাকিরা ভবিষ্যত হয়রানির আশঙ্কায় অভিযোগ জানাতে চায়নি। কিছু নারী সম্মানহানির ভয়ে অভিযোগ জানায়নি।
মানবাধিকারী গোষ্ঠীগুলো বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সীমান্তের জাতিগত সংঘাতে ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*