খেজুর রস জালিয়ে হবে গুড়, তৈরি হবে পিঠা ও পায়েস

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৬ ডিসেম্বর, সোমবার: কুয়াশার চাদরে মোড়া প্রকৃতি। শিশির ভেজা ঘাসের আইল মাড়িয়ে চলেছে গাছি। গন্তব্য খেজুর গাছ থেকে রসের পাতিল নামানো। সেই রস জালিয়ে হবে গুড়। তৈরি হবে পিঠা, পায়েস।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন চলছে শীতকালীন ছুটি। সবাই যে যার মত চলে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। অনেকে আবার বন্ধু বান্ধবের বাড়িতে বেড়াতে যাবেন। উদেশ্য একটাই। মায়ের হাতের শীতের পিঠা পায়েস খাওয়া। সকালে উঠে ঠাণ্ডা খেজুরের রস পান করলে যেনো অমৃতের স্বাদ মেলে।
শীতকালে গ্রামের বাড়িতে না গেলে বোঝা যাবে না শীতের মজা। সকালে খড় কুটা জালিয়ে আগুন পোহানো। খেজুর রসে ভেজানো পিঠা, ধুপি পিঠা, চিতই পিঠা, তেলে ভাঁজা পিঠা সবই মেলে। উনুনের পাশে বসে পিঠা তৈরি ও খাওয়ার মাঝে যে অন্য রকম এক তৃপ্তি তা কেবল গ্রামের বাড়িতেই মেলে।
সকালের কাঁচা রস থেকে যে পায়েস রান্না করা হয় তার স্বাদ অতুলনীয়। সকাল বেলা মাঠ থেকে আনা খেজুর রসের সঙ্গে আতপ চাল দিয়ে রান্না হয় পায়েস। সঙ্গে নারিকেল কোরা দিয়ে এটিকে আরো সুস্বাদু করে তোলা হয়।
সকালে রসের হাড়ি বহন করা হয় বিশেষভাবে। দুই মাথা আল বিশিষ্ট বাকা বাঁশ দিয়ে বহন করা হয় অনেকগুলো হাড়ি। পাতিলের সেই রস ছেকে উনুনে দিয়ে জ্বাল দেওয়া হয়। চারকোণা আকৃতির বিশেষ চুলায় টিনের পাত্রে রস জাল দেওয়া হয়। একসময় রস ঘন হয়ে লালচে রঙ ধারণ করে। তারপর এক সময় হয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত গুড়।
গুড় দানা বসানোর জন্য বিশেষ এক কাজ করা হয়। যাকে গ্রামের ভাষায় বলা হয় বিচ মারা। একটা খেজুরের ডাল এক মাথা চেপটা করে কাটা হয়। তারপর অল্প করে গুড় নিয়ে গুড়ের পাত্রেই ঘষতে হয়। এক সময় এই ঘষা গুড় শুকিয়ে হালকা ঘিয়ে রঙ ধারণ করে। তখন সমস্ত গুড় ভালো করে মিশিয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যায় দানাগুড়।
দানাগুড়ের কদর বাজারে অনেক বেশি। এক হাড়ি গুড় এর দাম ৭০০ টাকা থেকে ১২০০টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। খেজুরের গুড়ের জন্য বিখ্যাত যশোর অঞ্চল।
বিকালে গাছি খেজুর গাছ কাটার সময় পিঠে একটি করে রসের হাড়ি ও ঠোঙ্গা নিয়ে গাছ কাটতে ওঠেন। গাছ কাটা হয়ে গেলে সেখানে রশি দিয়ে বাধা হাড়ি গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। সারা রাত ফোঁটা ফোঁটা পড়তে থাকে খেজুরের রস। সন্ধ্যা রাতের খেজুরের রসেরও রয়েছে অন্যরকম স্বাদ। গ্রামে এই সময়ের রস ও পান করা হয়।
যাদের এখন হাতে অবসর সময় আছে এই সময় চলে যেতে পারেন যশোরে। ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে করে সরাসরি যশোর যাওয়া যায়। ভাড়া ৪৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে। যাদের কোন আত্মীয় স্বজন ওখানে নেই তারা হোটেলে থাকতে পারবেন। অল্প টাকায় বেশ ভালো মানের কয়েকটি হোটেল আছে সেখানে। যশোর শহর থেকে গ্রাম বেশি দূরে নয়। সকাল বেলা লোকাল বাস, টেম্পু, অটো রিকশা প্রভৃতি পাওয়া যাবে। সেখান থেকে যেকোনো গ্রামে যেতে চাইলে যেতে পারবেন। আর যশোর অঞ্চলের মানুষ অতিথিপরায়ণ। আপনি শহর থেকে এসেছেন শুনলে আপনাকে তারা শীতের আপ্যায়ন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*