খালেদা জিয়া মাঠে নামায় বদলে যাচ্ছে রাজনীতির দৃশ্যপট

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ledচেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মাঠে নামায় বদলে যাচ্ছে রাজনীতির দৃশ্যপট। এতে এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের সুযোগ পাচ্ছেন বিএনপি প্রধান। একদিকে সিটি নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি; অন্যদিকে ভোটার ও কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্তও হতে পারছেন। এতে নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়ছে। সর্বত্রই চাঙাভাব শুরু হয়েছে দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততায়। হামলা-মামলা ও গ্রেফতার আতঙ্ক থাকলেও সেনা মোতায়েনের সংবাদে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের মনোবল বেড়ে গেছে। দীর্ঘ আন্দোলনের পরও ফলাফল হাতে না পাওয়ায় বিরোধী জোটের যেসব নেতাকর্মীরা ঘাবড়ে গিয়েছিলেন তারাও বিভিন্নভাবে তৎপর হয়ে উঠছেন। এ নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে প্রথমে দলে দোটানাভাব সৃষ্টি হলেও; কর্মীদের সঙ্গে খুব সহজে যোগাযোগের অনেকটা সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এটিকে শেষ পর্যন্ত পজেটিভ হিসেবেই দেখছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন- নির্বাচনে আসায় কর্মীরা মাঠে আসতে শুরু করেছে। গ্রেফতারের ভয়ে এখনো যেসব নেতাকর্মীরা মাঠে আসতে পারছেন না তারাও শেষ পর্যন্ত প্রচারণায় অংশ নেবেন। যদিও বিএনপি জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বক্তৃতা করে ও গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে অভিযোগ করা হচ্ছে, সরকার বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, টানা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলনের ফলে বিরোধী জোটের  নেতাকর্মীরা অনেকটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। বিশেষ করে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলায় সক্রিয় নেতাদের বেশিরভাগকেই জেলে ঢুকিয়েছে সরকার। বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদসহ অসংখ্য নেতাকর্মীদের গুম করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার অথবা আটকের পর ‘কথিত বন্দুক যুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বিএনপি-জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের অনেক নেতাকর্মী। ‘বন্দুক যুদ্ধ’ থেকে রক্ষা পাননি ছাত্রদলের কর্মীরাও। ঠিক এ অবস্থায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা সিটি নির্বাচনে যাওয়াই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেছেন। তাছাড়া বিএনপিপন্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলী নেতারাও নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। সেই সময় তারা যুক্তি উপস্থাপন করেছেন সিটিতে অংশ নিলে কর্মীরা চাঙা হবে। সিনিয়র নেতাদের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করার পথ তৈরি হবে। আর পর্যায়ক্রমে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় খালেদা জিয়ার গণসংযোগ ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেবে। তাছাড়া তিনি (খালেদা জিয়া) নির্বাচনী মাঠে নামার পর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আর এটাই স্বাভাবিক। কারণ, তিনি সাধারণ মানুষের নেত্রী। অবশ্য এরআগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু প্রচারণা নয়, ঢাকার এক প্রান্তে প্রবেশ করে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হবেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, কার্যত এখন তা-ই দেখা যাচ্ছে। শনিবার থেকে প্রতিদিনই তিনি প্রচারণায় নেমে পড়ছেন। তার সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও যুক্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে নানা হিসাব-নিকাশের পর শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা আনেকটা আশাবাদী হয়ে উঠেছে। শুধু সেনা মোতায়েন নয়, দাবি উঠেছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাইলে কমিশনকে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। সোমবার ইশতেহার ঘোষণার পর মির্জা আব্বাসের স্ত্রী প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মির্জা আব্বাসের নির্বাচনী প্রচারণায় সরকার বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান করছে। প্রচারণা অংশ নেয়া কর্মীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু এরপরও কর্মীরা সকল বাধা উপেক্ষা করে মাঠে রয়েছে। ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে সরকারের নানা ধরনের বাধার জবাব দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাসের স্ত্রী। সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*