খাবারে রুচি বাড়াতে কি করবেন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইংরেজী, বুধবার: খাবারের রুচি বাড়ানো
মৌরির চা: মৌরি পিত্ত-রস নিঃসৃত করতে সাহায্য করে, ফলে হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। দুই থেকে তিন কাপ পানিতে এক চা-চামচ মৌরি ও আধা চা-চামচ মেথি ফুটিয়ে নিন। এরপর ছেঁকে দিনে একদুবার পান করুন।

যোগ ব্যায়াম: দিনে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট যোগ ব্যয়ামের অভ্যাস হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। যোগ ব্যায়াম শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই সমানভাবে উপকারী। তবে যোগ ব্যায়াম শুরুর আগে ডাক্তার ও প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিয়ে নেওয়া দরকার।

আদা: আদার নির্যাস খাবারে স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি এর প্রাকৃতিক তেল হজম প্রক্রিয়ার সময় উৎপন্ন গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে। গরম পানিতে আধা চামচ আদার রস মিশিয়ে পান করুন দিনে দুবার। এছাড়া রান্নায় আদার ব্যবহারও সমানভাবে উপকারী।

ফল ও সবজি: আপেল, পেয়ারা, কমলা, আঙুর ইত্যাদি ফল ক্ষুদা বাড়াতে সহায়ক। অন্যদিকে টমেটো, ধনেপাতা, ব্রোকোলি ইত্যাদি সবজি হজমে সহায়ক। এই ফল ও সবজিগুলো হজমে সহায়ক এনজাইম নিঃসরণে সহায়তা করে। তাই ক্ষুদা মন্দা দূর করতে খাদ্যতালিকায় প্রচুর সবজি ও ফল রাখা উচিত।

পানীয় গ্রহণ কমান: যারা ক্ষুদা মন্দায় ভুগছেন তাদের উচিত খাবার খাওয়ার সময় পানি, চা, কফি বা কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা। কারণ অতিরিক্ত পানীয় গ্রহণের ফলে পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি হতে পারে। ফলে খাবারে অরুচি আসতে পারে।

নিয়মমাফিক খান: নিয়ম মেনে চললে শরীরকে কার্যক্ষম রাখতে সাহায্য করে। সময় মতো ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠা, ব্যায়াম করা, সময় মেনে খাওয়া এবং সারা দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করা শরীর স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। আর এভাবে নিয়ম মেনে চললে অরুচি হওয়ার সমস্যাও কমে আসবে।

জেনে নিন ৭টি পদ্ধতি যা অনুসরণ করলে খাবারের রুচি বাড়বে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা:

১. দিনের প্রধান খাবারকে ভাগ করুন ৬ ভাগেঃ

আমাদের দেশে সাধারণত তিনটি প্রধান সময়ে মানুষ খাদ্য গ্রহণ করে। সকালে, দুপুরে এবং রাতে। এই খাবারের পরিমাণ কিছুটা বেশি হয়ে থাকে যা স্বল্প রুচির ব্যক্তির জন্য গ্রহণ করাটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। তাই দিনের খাবারকে ছোট ছোট ৬ টি ভাগে ভাগ করে নিন। এই পদ্ধতিতে খেলে নিজেকে ভারী মনে হবে না, এছাড়া ক্ষুধা বাড়বে। যাদের খাবারে একদমই রুচি নেই, তারা নিজেদের পছন্দের সময়ে খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন।

২. আপনার পছন্দের খাবারগুলোই রাখুন দৈনিক খাদ্য তালিকায়ঃ

সাধারণত এদেশের মানুষ খুব একটা পছন্দের না হলেও বাসায় যা রান্না হয় তা ই খেয়ে নেয়। কিন্তু স্বল্প রুচির ব্যক্তিদের পক্ষে এ ব্যাপারটা বেশ কঠিন। তাই দৈনিক খাদ্য তালিকায় রাখুন আপনার পছন্দের খাবারগুলোই। তবে সে খাবারগুলো যদি ফ্যাট যুক্ত, তেলে ভাজা হয়ে থাকে তবে পরিমাণের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন।

৩. খাবারে যুক্ত করুন ধনেপাতা, পুদিনা এবং বিভিন্ন মশলাঃ

অনেক সময় খাবারের সুন্দর গন্ধই (মানুষের রুচি বাড়িয়ে তোলে। তাই খাবার তৈরির সময় এতে এমন মশলা ব্যবহার করুন যা সুঘ্রাণ তৈরি করে এবং স্বাদ বাড়িয়ে তোলে। ধনে পাতা, পুদিনা এসবও খাবারের সুঘ্রাণ এবং স্বাদ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। সেই সাথে বাড়িয়ে দেয় ক্ষুধা।

৪. আঁশযুক্ত খাবার কম গ্রহণ করুনঃ

যদিও আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য আঁশযুক্ত খাবার অপরিহার্য, কিন্ত খাবারে রুচি বৃদ্ধি করার জন্য কিছুদিন আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণ বন্ধ রাখা যেতে পারে। আঁশযুক্ত খাবার হজম হতে কিছুটা বেশি সময় লাগে যা আমাদের ক্ষুধাবোধকে দমিয়ে রাখে। ভাত, আলু, ইত্যাদি খাবারের পরিবর্তে আটার রুটি প্রধান খাবার হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিন এ অবস্থায় থাকা উচিত নয়, কারণ শরীর অন্যান্য চাহিদা পূরণে আঁশযুক্ত খাবারের কোন বিকল্প নেই।

৫. খাবার সময়গুলোকে আকর্ষণীয় করে তুলুনঃ

খাবারের রুচি বাড়াতে পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই যতটা সম্ভব আকর্ষণীয় করে তুলুন খাওয়ার সময়টা। জ্বালিয়ে নিতে পারেন মোমবাতি, টিভিতে দেখতে পারেন প্রিয় কোন অনুষ্ঠান যা আপনার রুচি বাড়িয়ে তুলবে। খাবার টেবিলে অস্বস্তিকর আলোচনা সর্বাবস্থায় পরিহার করুন।

৬. পরিবার বা বন্ধুদের সাথে খাওয়ার অভ্যাস করুনঃ

একা খাওয়ার চেয়ে পরিবারের সবাই বা বন্ধুদের সাথে খাওয়া অনেক বেশি আকর্ষণীয়। খাওয়ার সময় তাদের সাথে গল্প করলে আপনার খাওয়ার মূহুর্ত হয়ে উঠবে আনন্দময়, ফলে খুব স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে আপনার রুচিও।

৭. খাওয়ার সময় বড় প্লেট ব্যবহার করুনঃ

বড় প্লেটে স্বাভাবিক পরিমাণ খাবার খেলেও আপনার মনে হবে পরিমাণের চেয়ে কম খেয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই আরেকটু বেশি খাওয়ার ইচ্ছা জাগবে। ছোট প্লেটের তুলনায় বড় প্লেট বেশি খাবার খেতে মানুষকে উৎসাহিত করে। তাই যাদের খাবারে রুচি কম, তারা বড় প্লেটে খাবার গ্রহণ করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*