খান বাহাদুর আহছানুল্লাহর অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে: চবিভিসি ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২০ মে ২০১৭, শনিবার: চট্টগ্রাম আহছানিয়া মিশনের সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, মুসলমানদের শিক্ষা বিস্তারে খান বাহাদুর আহছানুল্লাহর অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কেন না তৎকালীন পরাধীন ভারতে মুসলমানদের অবস্থা ছিল শোচনীয়। শিক্ষা-দীক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে তাঁরা কল্পনাতীত দুর্বিষহ অবস্থার শিকার হয়েছিল। এ রকম বৈরী পরিবেশে খান বাহাদুর আহছানুল্লাহ বাংলা ও আসামের সহকারী শিক্ষা পরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে তিনি মুসলমানদের শিক্ষা বিস্তারে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন যা এ দেশের মুসলমানেরা কখনো ভুলতে পারে না। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম তাঁর সম্বন্ধে মোটেই ওয়াকিবহাল নয়। তাঁর প্রচেষ্টায় যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয় তার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম গভর্নমেন্ট হাই স্কুল (১৯০৬), ইলিয়টগঞ্জ আর বি হাই স্কুল (১৯০৮), গভর্নমেন্ট মুসলিম হাই স্কুল, চট্টগ্রাম (১৯০৯), মাধবপুর শেখ লাল হাই স্কুল, কুমিল্লা (১৯১১), রায়পুর কে. সি. হাই স্কুল (১৯১২), দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসা (১৯১৩), চান্দিনা পাইলট হাই স্কুল, কুমিল্লা (১৯১৬), কুটি অটল বিহারী হাইস্কুল বি.বাড়িয়া (১৯২০), চন্দনা কে. বি. হাইস্কুল, কুমিল্লা (১৯২০), চৌদ্দগ্রাম এইচ জে পাইলট হাইস্কুল (১৯২১), বুড়িচং কে.বি. হাইস্কুল (১৯২৫), অপর্ণা চরণ সিটি কর্পোরেশন গার্লস হাইস্কুল (১৯২৭), চট্টগ্রাম ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (১৯২৭), হোমনা পাইলট হাইস্কুল (১৯২৯) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। তাই, এই মহৎপ্রাণ শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক এবং মহান বুজর্গের নামে চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ করার জন্য বক্তাগণ সরকারের প্রতি আকুল আহবান জানান।
অবিভক্ত বাংলা ও আসামের প্রথম ও একমাত্র বাঙ্গালী মুসলিম সহকারী শিক্ষা পরিচালক এবং ‘স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টের সেবা’র মহান ব্রতে প্রতিষ্ঠিত আহছানিয়া মিশনের প্রতিষ্ঠাতা, আধ্যাত্মিক সাধক ও সমাজসেবক হজরত খান বাহাদুর আহছান উল্লাহ (রহ.) এবং শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে তাঁহার অবদান ঃ প্রসঙ্গ চট্টগ্রাম শীর্ষক সেমিনার আজ ২০ মে, ২০১৭ ইংরেজী শনিবার সকাল ৯ টায় চট্টগ্রামস্থ জি.ই.সি কনভেনশন সেন্টার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ নওয়াব আলীর সভাপতিত্বে এই সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আলহাজ্ব অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। এতে স্বাগত ভাষণ দেন চট্টগ্রাম আহছানিয়া মিশনের জেনারেল সেক্রেটারী কর্নেল (অব.) আলহাজ্ব এ.টি.এম সালাউদ্দিন বীরপ্রতীক। প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও পি এইচ পি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ সেলিম উল্লাহ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মজিদ।্ এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সমন্বয়ক আলহাজ্ব এ এফ এম এনামুল হক, এতে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নলতা পাক রওজা শরীফের খাদেম হজরত আলহাজ্ব আনসার উদ্দীন আহমদ। সভার শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন চট্টগ্রাম আহছানিয়া মিশনের কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব রাশেদ আহমদ। সেমিনার শেষে মেজবান অনুষ্ঠানে আগত অভ্যাগতদের মধ্যহ্ন ভোজে আপ্যায়ন করা হয়। অতঃপর বিকাল ৩ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত খান বাহাদুর আহছান উল্লাহ (রহ.) জীবন ও কারামতের উপর স্মৃতিচারণ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: