ক্ষুদ্রঋণে ঝুঁকি কম

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৭ নভেম্বর: ক্ষুদ্রঋণে ঝুকি কম থাকায় বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফআই) ঋণ নেয়ার পরিমাণ প্রতি বছরই কিছুটা বাড়ছে। ক্ষুদ্রঋণ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) ২০১৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,small তাদের লাইসেন্স নিয়ে যারা ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাদের মোট তহবিলের ১৬ দশমিক ৪৭ ভাগই এসেছে ব্যাংকঋণ থেকে। এমআরএর কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ২০১১ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের তহিবল বাড়ানোর প্রয়োজনেই ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া বেড়েছে। এমআরএর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে দাতাদের বিনিয়োগ কমেছে। কমেছে পিকেএসএফের অর্থায়নও। এ কারণেও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংকঋণ নেয়ার পরিমাণ বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন তারা। এ ছাড়া যথাসময়ে অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে বলে ব্যাংকগুলোও ক্ষুদ্রঋণের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ দেয়া নিরাপদ মনে করে। এমআরএর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের জুন শেষে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৬৭৬টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মোট তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে ব্যাংকঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের একই সময়ে ক্ষুদ্রঋণ খাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ ছিল ৪ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, যা ওই সময়ের মোট তহবিলের ১৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর আগের বছরের জুন শেষে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংকঋণের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা, যা ওই সময়ের মোট তহবিলের ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ। আর ২০১১ সালের জুন শেষে ছিল ২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ, যা তখনকার মোট তহবিলের ১২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এমআরএ পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিলের চাহিদা অনেক। একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে। তাতে যে পরিমাণ তহবিল দরকার, তা তাদের নেই। এজন্য ব্যাংকগুলো যাতে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন করে সেজন্য এমআরএর পক্ষ থেকে কর্মশালা করেছি। ব্যাংকের অর্থায়ন সে কারণেই বাড়ছে। ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোফাইন্যান্সের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক এম এ বাকী খলিলী বলেন, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া নিরাপদ। কারণ তারা সময়মতো ঋণ ফেরত দেয়, অর্থাৎ ঝুঁকি কম। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে ব্যাংক এ খাতে ঋণ বাড়াবে এটাই স্বাভাবিক। আবার ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিলের চাহিদাও বাড়ছে। কারণ এখন ১০ লাখ টাকাও ঋণ দিতে পারছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়া ব্যাংকঋণ বেড়ে যাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করতে ব্যাংকগুলো আগ্রহী, সে রকম চাহিদা নেই। ফলে ব্যাংক কম ঝুঁকিতে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করতে পারে। এটা একদিক থেকে ভালো। কারণ ব্যাংক যাকে অর্থায়ন করে না, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান তাকে অর্থায়ন করে। এতে দেশের উন্নয়ন হবে বলে জানান বিআইডিএসের সাবেক এ মহাপরিচালক।

Leave a Reply

%d bloggers like this: