ক্ষতির মুখে কক্সবাজার ও বাঁশখালীর লবণচাষীরা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১ মার্চ ২০১৯ ইংরেজী, শুক্রবার: ক্ষতির মুখে পড়েছেন কক্সবাজার ও বাঁশখালীর লবণচাষীরা। মাঠপর্যায়ে লবণের দাম কমে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। ফলে সংসার চালানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ৫০ হাজার লবণচাষী। তাদের অভিযোগ কিছু অসাধু কারখানা মালিক সিন্ডিকেট করে লবণের দাম কমিয়ে রেখেছে। আছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ আমদানির অভিযোগও।
দেশের প্রাকৃতিক উৎস থেকে লবণ উৎপাদনের অন্যতম স্থান কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী। কক্সবাজারের ৭টি উপজেলা ও বাঁশখালী উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার একর জায়গায় প্রতিবছর উৎপাদন করা হয় কয়েক লাখ মেট্রিকটন লবন। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবারহ করা হয় দেশের অন্যান্য স্থানে। অন্য ফসল না হওয়ায় বছরের পর বছর লবণ উৎপাদন করে সংসার চালাচ্ছেন প্রায় ৫৫ হাজার শ্রমিক। তবে বর্তমানে ভালো নেই তারা।
স্থানীয় এক লবণচাষী জানালেন, এখানে ধানের চাষ হয় না। আলু বা অন্যান্য ফসলও এখানে উৎপাদন করা যায় না। আরেক কৃষক বললেন, আমরা এখন সংসার চালাতে পারছি না, না খেয়ে জীবন যাপন করছি। অপর চাষী জানালেন, লবণের দাম কমে যাওয়ার পর থেকে আমরা খুব কষ্টে পড়ে গেছি।
বর্তমানে প্রতিমন লবণ বিক্রি হচ্ছে দেড়শ টাকায়, যা আগে ছিলো ৫শ টাকা। এমন দুরাবস্থার জন্য মিল মালিকদের দায়ী করে আন্দোলনে নেমেছেন ভুক্তভোগীরা। এক আন্দোলনকারী জানালেন, মালিক সিন্ডিকেট অবৈধভাবে মাল মজুত রাখে আর বাহির থেকে লবণ আমদানি করে আর বলে, উৎপাদন কম হয়েছে। আরেক আন্দোলনকারী বললেন, লবণ প্রতি মণ দেড়শ টাকা হওয়াতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছে। আরেক আন্দোলনকারী লবণ আমদানি বন্ধ করে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য দিয়ে চাষীদেরকে বাঁচানোর আহ্বান জানান।
লবণ আমদানিকে ভালো চোখে দেখছে না লবণ শিল্প উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক দিদার আহমেদ চৌধুরী বলেন, অনেকে লবণ আমদানি করেছে, যেখানে কেমিক্যালের উপাদান মিশ্রিত হওয়ার সম্ভাব প্রচুর। তিনি বলেন, বাইরের লবণ অপ্রয়োজনীয়ভাবে যেনো না ঢুকে এবং কৃষক যেনো বাঁচে। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে প্রতি কেজি লবণের দাম ৪ থেকে ৫ টাকা। প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে যা সাধারণ ভোক্তাকে কিনতে হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: