ক্রেডিট কার্ডে ব্যাংকগুলো ইচ্ছেমতো সুদ নিয়ে আসছে!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ এপ্রিল ২০১৯ ইংরেজী, মঙ্গলবার: অধিকাংশ ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের সুদহার কমেছে। বর্তমানে কার্ডের মাধ্যমে নেয়া ঋণের সুদহার ৯ থেকে ২৭ শতাংশের ভেতরে আছে। গত এক বছর আগেও এই প্লাস্টিক কার্ডের সুদহার সীমাবদ্ধ ছিল ১৫ থেকে ৩৮ শতাংশের মধ্যে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্রেডিট কার্ডে ব্যাংকগুলো ইচ্ছেমতো সুদ নিয়ে আসছে। বেশিরভাগ ব্যাংক অন্য ঋণের তুলনায় ক্রেডিট কার্ডে দ্বিগুণের বেশি সুদ নিচ্ছে এমনি অভিযোগ করে আসছে গ্রাহরা। এ কারণে ২০১৭ সালে একটি নীতিমালা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু তাতেও সুফল মেলেনি। অবশেষে ব্যাংকগুলো তাদের ক্রেডিট কার্ডের সুদহার উল্লেখযোগ্যগহারে কমিয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো ব্যাংকে অন্যান্য ভোক্তা ঋণের সর্বোচ্চ যে সুদ হার রয়েছে, তার চেয়ে ক্রেডিট কার্ডে ৫ শতাংশের বেশি নিতে পারবে না। অর্থাৎ- গাড়ি, ফ্লাট, টিভি-ফ্রিজ কেনা, বিয়ে বা যেকোনো ব্যক্তিগত ঋণে যদি কোনো ব্যাংকের সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ সুদ নির্ধারিত থাকে, ওই ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ সুদ নিতে পারবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক বছরের ব্যবধানে সরকারি বেসরকারিসহ সব ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের সুদহার কমে এসেছে। যেমন সোনালী ও জনতা ব্যাংকে এক বছর আগে ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সুদহার ছিল ১৪ ও ২৪ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক দুটিতে এই সুদহার ৯ শতাংশ। আবার বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের সুদহার ছিল যথাক্রমে ২০, ২৪, ২৫ ও ২৭ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে একই ঋণের সুদহার ১৭.৫, ১১.৫, ১২ ও ২০.৫ শতাংশ। তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন ক্রেডিট কার্ডের ব্যাবহারকারীর সংখ্যা আট লক্ষাধিক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্রণী, বেসিক, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট, আল-আরাফাহ ইসলামী, বাংলাদেশ কমার্স, ডাচ্-বাংলা, যমুনা, প্রাইম, সোশ্যাল ইসলামী, সাউথ ইস্ট, ইউনিয়ন ও উত্তরা ব্যাংকের বর্তমান সুদহার ৯ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ২০ শতাংশের উপরে। এনসিসি ও ট্রাস্ট ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডে সুদ নিচ্ছে সাড়ে ৯ শতাংশ।
এছাড়া, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ১১ শতাংশ, এবি ব্যাংক সাড়ে ১৭ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়া ১২ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংক সাড়ে ১২ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংক ২৭ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংক ১০ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংক ১৬ শতাংশ, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ১৪ শতাংশ, মিডল্যান্ড ব্যাংক ১৩ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক সাড়ে ১০ শতাংশ, মেঘনা ব্যাংক ২৫ শতাংশ, মধুমতি ব্যাংক সাড়ে ১২ শতাংশ, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক সাড়ে ২৬ শতাংশ, এনআরবি ব্যাংক ১২ শতাংশ, এনআরবি কমার্শিয়াল ও ওয়ান ব্যাংক ২৪ শতাংশ, পদ্মা ব্যাংক ১৪ শতাংশ, পূবালী ব্যাংক ১৭ শতাংশ, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক ১২ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ১১ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ২৫ শতাংশ, দি সিটি ব্যাংক সাড়ে ২০ শতাংশ, ইউসিবি সাড়ে ১১ শতাংশ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অফ সিলন ১৫ শতাংশ, এইএসবিসি ব্যাংক ১৬ শতাংশ, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া সাড়ে ১৬ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক সাড়ে ১২ শতাংশ এবং উরি ব্যাংক সাড়ে ১০ শতাংশ সুদ নিচ্ছে।
জানা গেছে, অনেকের মধ্যে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে একধরনের ভীতি কাজ করে। তারা ভাবে, এটা শেষে ব্যয়ের ফাঁদই হয়ে দাঁড়ায় কি না। কিন্তু সময়মত ধার পরিশোধ করলে এখানে ভয়ের কোনো কারণে নেই। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলেই যত ঝামেলা।
ঈদ, পয়লা বৈশাখ ও পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটায় ছাড় দিয়ে থাকে ব্যাংকগুলো। গ্রাহকদের উৎসবের আনন্দ বাড়াতে নতুন মাত্রা যোগ করে এধরনের বিশেষ ছাড়। যেমন সম্প্রতি পয়লা বৈশাখেও ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিল পরিশোধ এবং অনলাইন শপিংয়ে কেনাকাটার ওপর ১০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় বা ক্যাশব্যাক অফার দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

Leave a Reply

%d bloggers like this: