কে হাসবে শেষ হাসি?

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৯ মে: কে হাসবে শেষ হাসি? কার হাতে উঠবে শিরোপা? ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে সামনে রেখে এগুলোই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের বড় জিজ্ঞাসা। তবে এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে ম্যাচ পর্যন্ত প্রতীক্ষা করতেই হবে। বিরাটIPL কোহলির নেতৃত্বে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং ডেভিড ওয়ার্নারের নেতৃত্বে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মধ্যকার এ ম্যাচটিকে ঘিরে আরও যে কত প্রশ্ন জমা হয়েছে, তা কে জানে!
রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে এ দু’দল। এ ম্যাচে যে দলই জিতবে তারাই হবে এ টুর্নামেন্টের নতুন চ্যাম্পিয়ন।
এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি নিয়ে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশেও সমান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট লিগে বাংলাদেশিদের এবার মূল আকর্ষণের কারণ হচ্ছে মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে খেলছেন। আর তার দলটি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
এ ছাড়াও বাংলাদেশের আরেক তারকা বিশ্বখ্যাত অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও বেশ কয়েক মৌসুম ধরেই আইপিএলে অংশ নিচ্ছেন। তবে এবার তার দল কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজের হায়দ্রাবাদের কাছে হেরে এলিমিনেটর পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। আর টুর্নামেন্টে সাকিবের পারফরম্যান্সও খুব একটা সন্তোষজনক ছিল না। দেশে ফিরে নিজেই তা জানিয়েছেন।
এদিকে আইপিএলে প্রথমবারের মতো খেলতে এসেই বাজিমাত করেছেন মুস্তাফিজ। নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মুগ্ধ করেছেন সবাইকে। সাবেক থেকে শুরু করে বর্তমান সকল ক্রিকেটারই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সকলেই একবাক্যে মেনে নিচ্ছেন মুস্তাফিজই সেরা। এ বিষয়ে মতানৈক্য নেই বললেই চলে।
তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটিতে মুস্তাফিজ মাঠে নামতে পারবে কি না-এটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। ইনজুরির কারণে শুক্রবার (২৭ মে) কোয়ালিফায়ার দ্বিতীয় ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে মাঠে নামানো হয়নি তাকে। ওই ম্যাচের আগে অনুশীলনের সময় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন মুস্তাফিজ। তবে ম্যাচটি ৪ উইকেটে জিতে তার দল হায়দ্রাবাদ ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে মুস্তাফিজ থাকছেন কিনা তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। যদিও অধিনায়ক ওয়ার্নার বলেছেন, ‘ফিজ ফাইনালে থাকছেন।’ কিন্তু মুস্তাফিজের ফাইনালে খেলা নিয়ে এরপর থেকে আর কেউই মুখ খুলছেন না। মনে হচ্ছে মুস্তাফিজ ইস্যুতে মুখে কুলুপ এঁটেছেন সবাই। প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার জন্যই এমনটি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ম্যাচ শুরুর আগেই জানা যাবে সত্যিই ক্রিকেটের এ নতুন সেনসেশন মাঠে নামছে কি না।
ফাইনালে হায়দ্রাবাদের প্রতিপক্ষ বেঙ্গালুরু রয়েছে দুরন্ত ফর্মে। দলে রয়েছে বিশ্বের সেরা তিন ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি, ক্রিস গেইল ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। তাদের দাপটে প্রতিপক্ষের বোলাদের নাজেহাল হতে হয়। এদের মধ্যে একজন যদি দাঁড়িয়ে যায় তাহলে প্রতিপক্ষের জন্য সেটাই হয় বিপদের কারণ। আর তিনজনই যদি সমানতালে জ্বলে উঠে, তাহলে? শিরোপা নিয়ে প্রতিপক্ষের স্বপ্ন ফিকে হওয়াটাই স্বাভাবিক।
তাইতো এমন ম্যাচে মুস্তাফিজের মতো কৃপণ বোলারের প্রয়োজন কতটা তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীও। তিনি বলেছেন, ‘ফাইনালে যে কেউ জিততে পারে। বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং লাইন আপ ভয়ঙ্কর। আমি মনে করি ফাইনালে মুস্তাফিজকে দরকার। কেননা সেই তার দলের বোলিংয়ের মূল অস্ত্র।’
মুস্তাফিজ এ টুর্নামেন্টে ১৫ ম্যাচে নিয়েছেন ১৬টি উইকেট। তিনি গড়ে রান দিয়েছেন ২৪। যার ইকোনমি রেট ৬.৭৩। বিশেষ করে পেসারদের জন্য এমন ইকোনমি রেট সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় তিনি ৭ নম্বরে অবস্থান করলেও ইকোনমি রেটের ক্ষেত্রে সবার থেকে এগিয়ে রয়েছেন।
বিশেষ করে টি২০ ক্রিকেটের স্লগ ওভারে ‘ফিজ’ দারুণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে এ সময়ে অন্য বোলাররা চার-ছক্কার মার খাচ্ছেন সেখানে মুস্তাফিজ অসাধারণ করছেন। অর্জন করেছেন সবচেয়ে কৃপণ বোলারের তকমা।
মুস্তাফিজের সতীর্থরাও মনে করেন তাকে ছাড়া খেলতে নামা আসলেই কঠিন। উইকেট না পেলেও প্রতিপক্ষের রান আটকাতে পারঙ্গম তিনি।
তবে টানা ম্যাচ খেলে এবং বাড়ি থেকে এত দীর্ঘসময় দূরে থাকার ফলে তার মধ্যে ক্লান্তি ও ‘হোমসিকনেস’ দেখা দিয়েছে। যার ফলে সম্প্রতি তাকে অনেকটা নিষ্প্রভ মনে হচ্ছে। যদিও তিনি নিজের দায়িত্ব বেশ ভালোভাবেই পালন করে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*