কেএসআরএমের সহায়তায় সিসি ক্যামেরার আওতায় বাগমনিরাম ওয়ার্ড

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৭ মার্চ ২০১৯ ইংরেজী, রবিবার: অপরাধ কমাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বাগমনিরাম ওয়ার্ডকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্পগ্রুপ কেএসআরএমের সহায়তায় ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্পটে এসব সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এতে অপরাধপ্রবণ ওই ওয়ার্ডে অপরাধের মাত্রা যেমন কমবে তেমনি বসবাসকারীদের নিরাপত্তা জোরদার হবে। এমনটি মনে করছেন পুশিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওয়ার্ডটির অনেক এলাকা অপরাধ প্রবণ হিসেবে পরিচিত। এসব এলাকার অপরাধী শনাক্তে বসানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। চারটি থানা এলাকার আওতায় থাকা ওয়ার্ডটিতে রয়েছে জেলা শিল্পকলা একাডেমী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, চারুকলা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। পুরো ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থানেগুলোতে ৬৪টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ওসি মো. মহসিন। এরইমধ্যে ৩২টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব সিসি ক্যামেরা স্থাপনে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা করছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্প গ্রুপ কেএসআরএম।
কেএসআরএম লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) শাহরিয়ার জাহান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে যে কোনো সামাজিক কর্মকা- এবং অপরাধ দমনের জন্য প্রশাসনের পাশে থাকার চেষ্টা করি। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা বাগমনিরাম ওয়ার্ডকে সিসি ক্যামেরায় আওতায় নিয়ে এসেছি। কেএসআরএম ভালো কাজে সহায়তার জন্য সবসময় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পাশে থাকবে। প্রয়োজনে চট্টগ্রাম নগরীর অপরাধপ্রবণ এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনে পুলিশকে সহযোগিতা করবে কেএসআরএম।’
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, বাগমনিরাম ওয়ার্ডটি কোতোয়ালী, চকবাজার, পাঁচলাইশ ও খুলশি থানার আওতায় পড়েছে। শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়কে প্রতিদিনই ছিনতাইসহ কোনো না কোনো অপরাধ কর্মকা- সংগঠিত হচ্ছে। আরও কিছু এলাকায় ঘটছে একই ধরণের অপরাধ। পুলিশকে এসব অপরাধী শনাক্তে বেগ পেতে হচ্ছে। গত বছর বাগমনিরাম ওয়ার্ডের ব্যাটারি গলি এলাকায় দিনে দুপুরে পিতার সামনে অনিক নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনার পর পুলিশ এলাকাটিকে অপরাধ প্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করে। কিন্তু নানা কারণ ও সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছিল না। তখন সহায়তার হাত বাড়ায় দেশে শীর্ষ স্থানীয় ইস্পাত নির্মাণকারী শিল্পগ্রুপ কেএসআরএম। গুরুত্বপূর্ণ ৬৪টি স্পট নির্ধারণ করে এসব স্পটে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেয় কেএসআরএম। কেএসআরএমের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে জনহিতকর ও প্রশংসার দাবিদার।
২০১৪ সালে নগরীতে সিসি ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ নেয় সিএমপি। তবে এখনো পর্যন্ত পুরো নগরীকে সিসি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। সিএমপি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নগরীর ৩০টি স্থানে ১১৩টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। কেএসআরএমের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পুরো বাগমনিরাম ওয়ার্ডকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। ওয়ার্ড জুড়ে উন্নতমানের ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ৬৪টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করছে কেএসআরএম।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসিন বলেন, সিসি ক্যামেরা বর্তমানে অনেকটা পুলিশ পেট্রোলিং (টহল) এর মত কাজ করে। সিসি ক্যামেরা রয়েছে এমন এলাকা অপরাধীরা কোনো অপরাধ করতে সাহস করে না। বাগমনিরাম ওয়ার্ডের কোতোয়ালী অংশে ইতিমধ্যে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে। সিসি ক্যামেরা লাগানোর ফলে পুলিশের অপরাধীদের আওতায় আনতে ও অপরাধী শনাক্তে সুবিধা হবে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বাগমনিরাম ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন বলেন, এসব সিসি ক্যামেরা স্থাপনে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা করছে শিল্প গ্রুপ কেএসআরএম। পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। এতে পুলিশকে অপরাধী শনাক্তে বেগ পেতে হবে না। বাগমনিরাম ওয়ার্ডে নগরীর কোতোয়ালী, চকবাজার, পাঁচলাইশ ও খুলশী- এই চারটি থানার অংশ আছে। প্রথম পর্যায়ে কোতোয়ালী থানার অংশে সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। মারামারি, ছিনতাইসহ যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা- প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সিসি ক্যামেরাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: