কৃতদাস হয়ে ইরাকের আটকে আছে ১৮০ বাংলাদেশি

image_109077_0ঢাকা: কৃতদাস হয়ে ইরাকের আটকে আছে ১৮০ বাংলাদেশি, এমনটাই জানিয়েছে আটকেপড়া পরিবারের সদস্যরা। তারা জানায়, কাতারে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেয় ক্যারিয়ার ওভারসিস কনসালট্যান্ট লি. (আর.এল নং-৪০৩) নামক একটি রিক্রুটিং এজেন্সি। দালালদের মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সিটি জনপ্রতি ২-৫ লাখ বা তারও বেশি টাকা নিয়ে চলতি বছরের মে মাসে কোম্পানিটি প্রতারণার মাধ্যমে তাদেরকে কাতারে না পাঠিয়ে ইরাকে পাঠায়।

ইরাকে তাদেরকে পাঠানোর পর ক্যারিয়ার ওভারসীসের লোকজন তাদের কাছ থেকে পাসপোর্টসহ সব কাগজপত্র এবং মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নিয়ে যায়। তারপর থেকেই তারা সেখানে আটকে আছে। কাগজপত্র না থাকায় তার প্রকাশ্যে বের হতে পারছে না। ইরাকের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশি এই ১৮০ জন কৃতদাস হয়ে আটকে রয়েছে। তারা সেখানে তিন বেলা খেতেও পারছে না বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

তাদের উদ্ধারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোর, শিশুক, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ-বামাসপ।

এ বিষয়ে রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ বলেন, ইরাকে শ্রম পাচারের শিকার ১৮০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চলতি বছরের ৯ জুলাই ইরাকস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ই-মেইলের মাধ্যমে এবং ক্যারিয়ার ওভারসীজ কনসালট্যান্ট লি.-এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর বদরুল আমিনকে মোবাইলে অনুরোধ করা হয়। বিষয়টি সংশ্লষ্টি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী,
সচিব, এডিশনাল ডিআইজি (অর্গানাইজ ক্রাইম), সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ এবং বিএমইটির ডিজি মহোদয়কে ইমেইলের মাধ্যমে অবহিত করা হয়।

বিনয় কৃষ্ণ আরো বলেন, “রাইটস যশোর লিখিতভাবে জানানোর পর ইরাকের রাষ্ট্রদূত ওই বন্দীশিবিরে গিয়ে আটক ১৮০ জন বাংলাদেশিদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছেন। দেশের প্রচলিত আইনের অপব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন মামলা করলে এই আইন অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সির কোনো শাস্তি হবে না। ক্ষতিগ্রস্তরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাবেন না ও তোমরা মইরা যাবা। তোমাদের ছেলে-মেয়ে মইরা যাবে কিন্তু বাংলাদেশের আইনে কোনোদিন রায়ই হবে না।” রাষ্ট্রদূতের কথোপকথনের অডিও আমাদের কাছে রয়েছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ-বামাসপ এর সভাপতি এএইচএম নোমান বলেন, রাষ্ট্রদূতের এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বহীনতার পরিচয়। তাই যত দ্রুত সম্ভব তাকে প্রত্যাহর করা হোক। পাশাপাশি ক্যারিয়ার ওভারসীসের লাইসেন্স বাতিল করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণসহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নোমান সরকারের কাছে দাবি জানান।

শিসউকের প্রোগ্রাম অফিসার আবদুর রকিব বলেন, এটি মানব পাচারের শামিল। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনেক সদস্যরা মামলা করেছেন। কিন্তু তারা এখনো সুফল পাচ্ছে না। জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যক্রম বন্ধসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: