‘কিডনি রোগ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩১ জানুয়ারী, ২০১৭, মঙ্গলবার: ‘নীরব ঘাতক’ খ্যাত কিডনি রোগ মহামারী আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। বলেছেন, কিডনি রোগ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে; এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।
সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় চিকিৎসকেরা এসব কথা বলেন। শহীদ মিল্টন হলে ‘৫০০ তম সফল কিডনি প্রতিস্থাপন’ উপলক্ষে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
চিকিৎসকেরা বলেন, বাংলাদেশে প্রয়োজনের তুলনায় কিডনি সংকট রয়েছে। এ কারণে মৃত ব্যক্তির কিডনি সংগ্রহ করতে হবে। তারা বলেন, পারিবারিক কিডনি দাতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং দাতার পরবর্তী শারীরিক জটিলতার কারণে দ্রুত কমে যাচ্ছে এর সংখ্যা। আক্রান্ত রোগীর শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য মৃত ব্যক্তির কিডনি সংগ্রহ করার ওপর জোর দিতে হবে।
চিকিৎসকরা বলেন, কিডনি দাতার সংখ্যা বাড়াতে হলে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এর জন্য গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া কিডনি দাতার সংখ্যা বাড়াতে আইনের সংশোধনের পাশাপাশি ‘ডোনার পোল’ এ পারিবারিক সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তারা।
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত এক প্রবন্ধে জানা যায়, বাংলাদেশে ক্রনিক কিডনি রোগের প্রকোপ বাড়ছে। শতকরা প্রায় ১৭ ভাগ লোক এই রোগে ভুগছে। এরমধ্যে প্রতিবছর ৩৫ হাজার রোগীর কিডনি স্থায়ীভাবে অকার্যকর হয়। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, সংক্রমণ ও অন্যান্য কারণে মানুষ ক্রনিক কিডনি রোগে ভুগছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে কিডনি প্রতিস্থাপনের সফলতার হার প্রথম পাঁচ বছর শতকরা ৮২ ভাগ যা উন্নত বিশ্বে শতকরা ৮৬ ভাগ। ক্রনিক কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এখন থেকেই উদ্যোগ না নিলে কিডনি রোগ মহামারী আকার ধারণ করতে পারে।
বিএসএমএমইউ উপাচার্য ডা. কামরুল ইসলাম খান বলেন, মৃত ব্যক্তির দেহ থেকে কিডনি সংগ্রহ করা গেলে আক্রান্ত ব্যক্তির কিডনির প্রতিস্থাপন বাড়ানো যেতে পারে। এরজন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন।
এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শহীদুল্লাহ শিকদার, প্রফেসর গোলাম কিবরিয়া, প্রফেসর এস কে খান, প্রফেসর এম এ ওয়াহাব, প্রফেসর শহীদুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*