কিছু অনুভব করার জন্য ভালবাসা হচ্ছে শক্তিশালী অনুভূতি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৮ অক্টোবর, শুক্রবার: কিছু অনুভব করার জন্য ভালবাসা হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী অনুভূতি। এটা সর্বাধিক আলোড়নপূর্ণ এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে- ভালবাসা বা সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আনার জন্য কোন উৎসব বা দিনক্ষণ দরকার পড়ে না।1
সাহিত্যের ক্লাসে এক শিক্ষক একবার এই প্রশ্ন রেখেছিলেন, ‘ভালবাসা কি?’। কারও কাছে কোন উত্তর ছিল না। তখন শিক্ষক নিজেই বললেন, ‘ভালবাসা আসলে দুর্বোধ্য কিছু, তাই নয় কি?’
হ্যা, এটা খুবই দুর্বোধ্য কিন্তু এটা যখন অনুভব করা হয় তখন খুব জোরালোভাবে অনুভব হয় এবং তা খুবই বাস্তব। ভালবাসা কখনও কখনও ব্যাথার কারণ হতে পারে যা কোন কোন সময় সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়। এটাই সম্ভবত একমাত্র অনুভূতি যা আমাদের কাঁদতে বাধ্য করে। সেটা হোক কোন ব্যার্থতার জন্য বা কাউকে হারানোর কারণে, আমরা অবশ্যই কাঁদি ভালবাসার জন্য। তৃতীয় গ্রেড পাওয়া একজন শিক্ষার্থী যখন ভাল মার্ক না উঠাতে পারার জন্য কান্নাকাটি করে তখন সে কাঁদে কারণ সে তার পরিবারকে ভালবাসে এবং তার প্রতি বাকিদের রাখা প্রত্যাশা পূরণ না করতে পারার জন্য কাঁদে।
আমরা জানি ভালবাসা মূলত একই রকম হয় তা সে পিতা-মাতা, অভিভাবক, ভাই-বোন, সন্তান বা অত্যন্ত প্রিয় কেউ যার জন্যই হোক না কেন। যাইহোক, আমাদের আজকের মাথাব্যাথা টা হচ্ছে সেটা যাকে আমরা রোম্যান্টিক সম্পর্কও বলে থাকি এবং তাদের মধ্যে যাদের আবার আমরা প্রেমিক-প্রেমিকা বলে থাকি।
সাহিত্য এবং শিল্পের অন্যতম প্রধান বিষয়বস্তু যে এই ভালবাসা, তা আর বলে দিতে হয় না। আমাদের সাহিত্যের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, ব্যাথা, দুঃখ আর হৃদয়নিংড়ানো নিয়ে আমরা শাশ্বত কিছু বানী পেয়েছি যা ভালবাসা মাঝে মাঝেই তৈরি করেছে।
ভালবাসা প্রতিদানহীন হোক কিংবা সম্পর্কের চড়াই-উতরাইয়ে ভরা হোক, সমস্যা আসতে পারে কোন পারিবারিক মতভেদ থেকে কিংবা ভালবাসার মানুষ দুইজনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে। তখন আমরা সহ্য করা বা মানিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কিইবা করতে পারি?
এমন কী কোন কিছু আছে যা দিয়ে আমরা সম্পর্কের বা বিবাহের এই টানাপোড়েন থেকে নিজেদের বাচাতে পারি? ভালবাসা আমাদেরকে যে গভীর অর্থ বা পরিপূর্ণতা দিয়ে থাকে তা আমরা কিভাবে বজায় রাখতে পারি? আসুন এই বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান করা যাক।
মনোভাব-উদারতা এবং অনুগ্রহ
ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি’র গবেষক জন গটম্যানের দ্বারা পরিচালিত সদ্য একটি গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে যে, দীর্ঘমেয়াদি একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষ দরকারি হচ্ছে উদারতা এবং অনুগ্রহ। আমরা এটাও বলতে পারি যে, এই দুই নমুনাই হচ্ছে একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং স্থায়ী সম্পর্কের কেন্দ্রস্থল। এটা এমন না যে আপনাকে প্রতিনিয়তই এই ধরণের উদারতা বা মহানুভবতা দেখাতে হবে বরং প্রতিদিনের আলাপে এই দুই বিশেষ গুণাবলি’র সমন্বয় করার সংগ্রাম করে যান।
বিশ্বাস
আমরা এমন এক সময় পার করছি যখন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে বিশ্বাসের অভাব। ধর্মীয় বিশ্বাসের পতন আজ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। সেইসাথে, আধুনিকত্ত্ব মানুষের সম্পর্কের সাথে বিশ্বাসহীনতাকে সঙ্গী করে নিয়ে এসেছে।
আমরা অত্যাধিক পরিমাণে বৈবাহিক এবং পারিবারিক বন্ধনের ভাঙ্গন লক্ষ্য করে যাচ্ছি। কিন্তু এই বিশৃঙ্খলা ও সন্দেহের সময়ে, আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন আজ বিশ্বাসের দৃঢ়তার। এটা শুধু আমাদের নিজের এবং অপরের উপর বিশ্বাস যা আমাদের সম্পর্ককে এই আবেগপূর্ণ হাঙ্গামার ভিতরেও হাল ধরতে সহায়তা করে এবং জীবনকে সামনের দিকে নিয়ে যায়।
ধৈর্য এবং সহনশীলতা
কিন্তু এটাও সত্য যে এমন কোন সম্পর্ক নাই যেখানে মতবিরোধ বা তিক্ত তর্কাতর্কি ঘটে না। ঝামেলার সময় আসবেই স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু সূত্রটা হচ্ছে আপনাকে শান্ত থাকতে হবে এবং এই বিশৃঙ্খলের মুহূর্তগুলো পার করার জন্য শান্ত থাকতে হবে। হ্যা, আপনাকে ঐ মুহূর্তটাতে ব্যাথা সইতেই হবে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আপনারই মনে হবে কত তুচ্ছ বিষয় নিয়েই না আপনি ঝগড়া করছিলেন।
প্রত্যেকটা সফল সম্পর্কই কঠোর পরিশ্রমের ফসল। সবসময় আপনার সঙ্গীর সেই বিষয়গুলো মনে রাখবেন যা থেকে আপনি তাকে প্রথমবারই ভালবেসে ফেলেছিলেন। ঐ মুহূর্তগুলো ক্ষণস্থায়ী কিন্তু ঐ মুহূর্তগুলো পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারে কিন্তু আপনার ভালবাসার সেই মানুষটিই, তাই নয় কি?
স্বাধীনতা এবং বোঝাপড়া
বিশেষ করে আমাদের এই যুগে, যখন নারী-পুরুষের সমানাধিকারের কথায় জোরেশোরে শোনা যায়, তখন ভালবাসার মানুষদের একে অন্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা এবং জীবনে চলার স্টাইলটাকে বুঝতে পারাই হচ্ছে প্রধান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু স্বাধীনতাকে স্বীকার করার পূর্বে প্রথমেই আপনাকে একে অপরের চিন্তা-ভাবনা, ধারণা এবং জীবনে পছন্দের বিষয়গুলোকে সবার আগে বুঝে নিতে হবে। কিন্তু যখনই দেখবেন, মতবিরোধ আসতে যাচ্ছে তখন এক কাপ চা বা কফি নিয়ে বসে পড়ুন সামনাসামনি এবং আপনার প্রিয় মানুষটির জায়গায় নিজেকে কল্পনা করে নিন। দেখবেন সব রাগ সমস্যা আস্তে ধীরে পানি হয়ে যাচ্ছে।
নিঃশর্ত ভালবাসা
ভালবাসা স্বাভাবিকভাবেই ঈর্ষা এবং অনিশ্চয়তার একটা ব্যাপার। এটাই মূলত ভালবাসা বাঁচাতে প্রধান সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাড়ায়। নেতিবাচক অনুভূতি থেকে বের হয়ে আসা এই সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে ভালবাসাকে পার্থিব বা জাগতিক সব সীমার ঊর্ধ্বে থেকে সেই অবস্থানে পৌঁছুতে হয়। ভালবাসার ঐ অবস্থানে, আপনি নিষ্পাপ ভাবে ভালবাসতে পারবেন কোনরকম বাধ্যবাধকতা ছাড়াই। তখন থাকবে না কোন ঈর্ষা থাকবে না কোন অনিশ্চয়তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*