কাশ্মির ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করার ঘোষণা পাকিস্তানের

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৭ আগস্ট ২০১৯ ইংরেজী, বুধবার: অধিকৃত কাশ্মির ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেছেন, জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ সকল আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি নিয়ে লড়াই করবে পাকিস্তান। খবর বিবিসি ওয়ার্ল্ডের। ইমরান বলেন, ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তিনি আশঙ্কা করছেন ভারত এরপর কাশ্মিরে জাতিগন নিধন চালাতে পারে।


সোমবার ভারতীয় পার্লামেন্টে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকেই উপত্যকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সর্বত্র সেনারা টহল দিচ্ছে। শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। উপত্যকা জুড়ে চলছে কারফিউ। শ্রীনগরে কারফিউ ভঙ্গ করে বিক্ষোভ করতে গিয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে একজন নিহত ও ছয় জন আহত হয়েছে বুধবার।
ইমরান খান জানিয়েছেন, তিনি কাশ্মির ইস্যুটি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তুলে ধরবেন। তিনি বলেন, ভারতীয় সরকারের বেআইনি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাথে আলোচনা করবে পাকিস্তান।
মঙ্গলবার পার্লামেন্টে এক বক্তৃতায় ইমরান খান বলেন, জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে বিষয়টি জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে তোলা হবে। আমরা প্রতিটি আন্তর্জাতিক ফোরামে রাষ্ট্র প্রধানদের সাথে কাশ্মির নিয়ে কথা বলবো। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরবো কাশ্মির বিষয়ে। এবং বিশ্বকে জানাবো সেখানে কী চলছে।
ইমরান খান জানান, কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারত সরকার সেখানকার জনসংখ্যার চিত্র পাল্টে দিতে চেষ্টা করবে। কাশ্মিরের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট চিত্র পাল্টে দেয়া হতে পারে। ইমরান বলেন, আমার ভয় হচ্ছে- ভারত কাশ্মিরে জাতিগত নিধন কার্যক্রম চালাতে পারে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘তারা স্থানীয় নাগকিরদের সরিয়ে সেখানে অন্যদের বসতি স্থাপন করে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ করে তুলতে পারে। যাতে স্থানীয় দাসে পরিণত করে রাখা যায়।
ভারত সরকারের এই বিতর্কীত সিদ্ধান্তের পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন কাশ্মিরে এখন অন্য ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে বসতি স্থাপন করা হবে। উল্লেখ, এতদিন কাশ্মিরে গিয়ে ভারতের অন্য কোন রাজ্যের মানুষরা সম্পত্তি কিনতে পারতো না।
এর আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান বলেছেন, তার সৈন্যরা কাশ্মিরীদের সংগ্রামে তাদের পাশেই থাকবে। আরেক পরাশক্তি চীনও কাশ্মির ইস্যুতে ভাতের পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*