কাল আজহারের রায়

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মামলার রায় দেওয়া হবে কাল মঙ্গলবার ।  সোমবার রায়ের এ দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করবেন। বিচারক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। গত ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় রায় ঘোষণা অপেক্ষমান রাখেন ট্রাইব্যুনাল-১। উভয়পক্ষ চান ন্যায়বিচার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন প্রসিকিউশন। আসামিপক্ষ এই মামলা ভুল প্রমাণ করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানাচ্ছি। অন্যদিকে এটিএম আজহারুল ইসলামের আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদার দাবি করেন, প্রসিকিউশন মামলা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। আসামি তাই সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পাবেন। মামলার ধারাবাহিক কার্যক্রম গত ২৭ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ কার্যদিবসে আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আজহারের আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদার ও শিশির মোহাম্মদ মুনির। অন্যদিকে গত ১৮ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ও বৃহস্পতিবার ৭ কার্যদিবসে আজহারের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও তাপস কান্তি বল। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে গত ৬ জুলাই পর্যন্ত আজহারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা এম ইদ্রিস আলীসহ রাষ্ট্রপক্ষের ১৯ জন সাক্ষী। 1123তাদের মধ্যে সপ্তম সাক্ষী আমিনুল ইসলামকে বৈরি ঘোষণা করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ। বাকি ১৭ সাক্ষীর মধ্যে ঘটনার ১৪ সাক্ষী হলেন ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্য দেওয়া একজন ভিকটিম, মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তফা, শহীদপুত্র মোখলেসার রহমান সরকার ওরফে মোখলেস আলী, মো. মেছের উদ্দিন, আব্দুর রহমান, মকবুল হোসেন, মো. মুজিবর রহমান মাস্টার, শোভা কর, রতন চন্দ্র দাস, সাখাওয়াত হোসেন রাঙ্গা, রফিকুল হাসান নান্নু, রথিশ চন্দ্র ভৌমিক, এওয়াইএম মোয়াজ্জেম আলী এবং তপন কুমার অধিকারী। আর জব্দ তালিকার তিন সাক্ষী হলেন তদন্তকারী কর্মকর্তার সহকারী ও ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জুনিয়র সদস্য সজল মাহমুদ, আকরাম হোসেন এবং বাংলা একাডেমির গ্রন্থাগারিক এজাব উদ্দিন মিয়া। অন্যদিকে গত ৩ ও ৪ আগস্ট আজহারের পক্ষে একমাত্র সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আনোয়ারুল হক। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আজহারের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম। এর আগে ১২ নভেম্বর এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, নির্যাতন, আটক, অপহরণ, গুরুতর জখম ও অগ্নিসংযোগের ৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটিতেও অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুর অঞ্চলে ১২২৫ ব্যক্তিকে গণহত্যা, ৪ জনকে হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক ও ১৩ জনকে নির্যাতন এবং শত শত বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে জামায়াত নেতা এটিএম আজহার জড়িত ছিলেন বলে এসব অভিযোগে বলা হয়। গত বছরের ২৯ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম। অন্যদিকে ২৪ সেপ্টেম্বর ও ১০ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের বিপক্ষে শুনানি করেন আজহারের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মুনির ও ইমরান এ সিদ্দিকী। ২৫ জুলাই এটিএম আজহারুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১৮ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি দাখিল করেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর নুরজাহান বেগম মুক্তা। ৪টি ভলিউমে ৩শ’ পৃষ্ঠায় দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে আজহারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ৯ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা এস এম ইদ্রিস আলী ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু করে গত বছরের ৪ জুলাই পর্যন্ত মোট ১ বছর ৩ মাস ১১ দিনে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। মানবতাবিরোধী ৯ ধরনের অপরাধে তদন্ত চূড়ান্ত করে ৯ জুলাই প্রসিকিউশনের কাছে তদন্ত রিপোর্টটি দাখিল করেন তদন্ত সংস্থা। এর ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন। তদন্তের উদ্দেশ্যে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি আজহারকে সেফহোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত সংস্থার জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তা সানাউল হকসহ অন্যান্য তদন্ত কর্মকর্তারা। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদেশে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট আজহারের ঢাকার মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় এটিএম আজহারুল ইসলামকে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: