কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর করার সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসিরkamaruzzaman রায় কার্যকর করার সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন আপিল বিভাগ খারিজ করে দেওয়ার পর; এখন শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ আছে কামারুজ্জামানের। কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সাজাপ্রাপ্ত কামারুজ্জামানের রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে কারাবিধি প্রযোজ্য হবে না। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুসরণ করা হবে। ওই আইন অনুসারে রায়ের অনুলিপি হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গে তা কামারুজ্জামানকে পড়ে শোনানো হয়েছে। এরপর তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না। তবে প্রাণ ভিক্ষার আবেদনের বিষয়ে ভেবে দেখতে সময় চেয়েছেন কামারুজ্জামান। তিনি যদি প্রাণভিক্ষার জন্য আবেদন করতে চান, তবে সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির রায় কার্যকর করা যাবে না। আর তিনি যদি প্রাণভিক্ষা চাইতে রাজি না হন, তাহলে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে ফাঁসির আদেশ আসবে কারাগারে। আর কারাগারে ওই আদেশ আসার দুই ঘণ্টার মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করার প্রস্তুতি রয়েছে কারা কর্তৃপক্ষের। জানতে চাইলে জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক ফরমান আলী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আদেশ পাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি সূত্র জানায়, কামারুজ্জামান কারাগারে আট সেল নামে পরিচিত কনডেম সেলের একটি কক্ষে একাই থাকেন। এই সেলের আশপাশে আরও সাতটি সেল রয়েছে। সেলের ভেতরে তিনি তৃতীয় শ্রেণির কারাবন্দীর সুবিধা পেয়ে থাকেন। সাধারণ বন্দীরা যে ধরনের খাবার পান, তিনিও সেই খাবার পাচ্ছেন। এর আগে তিনি বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত বন্দী ছিলেন। কিন্তু আদালতের আদেশে তা বাতিল হয়ে যায়। সেলের ভেতরে কামারুজ্জামান দিনরাত তসবি জপেন বলে জানা গেছে। ওই সূত্রটি জানায়, ফাঁসির রায় বহাল রেখে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের খবরটি তিনি প্রথম পরিবারের লোকদের মুখ থেকে জানতে পারেন। এর আগ পর্যন্ত তিনি এ খবর জানতেন না। খবর শোনার পর তিনি কিছুক্ষণ চুপচাপ ছিলেন। এরপর সবাইকে দোয়া করতে বলেন। রাতের বেলা তিনি নামাজ পড়ে স্বাভাবিকভাবেই খাবার খেয়েছেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির মঞ্চটি কনডেম সেলের উল্টো দিকে দেয়ালঘেরা স্থানে। বাইরে থেকে সেখানে কোনো কিছু দেখা যায় না। ফাঁসির মঞ্চের দেয়ালের উল্টো দিকে বিদেশি বন্দীদের সেল রয়েছে। নিয়ম অনুসারে ফাঁসির রায় কার্যকর করার সময় কারা প্রশাসনের মহাপরিদর্শক, কারা তত্ত্বাবধায়ক, জেলার, ঢাকা জেলা প্রশাসক বা তাঁর প্রতিনিধি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বা তাঁর প্রতিনিধি, পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার এবং ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন উপস্থিত থাকবেন। ফাঁসি কার্যকর করার পর মৃতদেহটি ২০ মিনিট ঝুলিয়ে রাখা হয়। এদিকে, রায় কার্যকর করার জন্য গত সোমবার থেকে ফাঁসির মঞ্চ পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কারা প্রশাসন ইতিমধ্যে এক দফা মহড়াও দিয়েছে। সোমবার দুটি বালুর বস্তা দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে, ৮২ কেজি ওজনের ব্যক্তিকে ঝোলানো সম্ভব কি না। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মোট ১৬টি ফাঁসির রশি আছে, এর একটি নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। যে ছয়জন জল্লাদ এখন কারাগারে আছেন, তাঁদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তাঁদের যেকোনো তিনজনকে নেওয়া হবে। তবে ফাঁসি কার্যকরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে জল্লাদদের এসব তথ্য জানানো হয়ে থাকে। সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

%d bloggers like this: